মন্ত্রিসভায় নেই কোনও তারকার নাম!
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার পূর্ণ তালিকা সোমবার প্রকাশ পেতেই দেখা গেল, কোনও ফিল্ম-তারকার নাম নেই তাতে। মন্ত্রী, স্বাধীন প্রতিমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে তালিকায় রয়েছে ৪১ জনের নাম। তার মধ্যে এক জনও টলিপাড়ার প্রতিনিধি নন। তা দেখেই উঠতে শুরু করেছে প্রশ্ন। এমনটাই কি চেয়েছিল টলিউড?
গত ৪ মে রাজ্য রাজনীতিতে পালাবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হতেই রব উঠেছিল, ‘রাজনীতিমুক্ত টলিউড চাই’। চার জন টলি-তারকা এ বারের বিধায়ক। কিন্তু দেখা গেল, তাঁদের কারও নামই নেই মন্ত্রিসভায়। ঠিক এমনটাই কি দেখতে চেয়েছিলেন টালিগঞ্জের তারকারা, এখন সে প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে নানা মহলে।
উত্তর জানতে আনন্দবাজার ডট কম যোগাযোগ করেছিল অভিনেত্রী-প্রযোজক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরী, প্রিয়া সিনেমাহলের মালিক অরিজিৎ দত্ত, বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষের সঙ্গে। কী বলছেন তাঁরা?
ঋতুপর্ণা এই মুহূর্তে দেশের বাইরে। তিনি আনন্দবাজার ডট কম-এর থেকে মন্ত্রিসভার তালিকা জেনে নেন। কথার শুরুতেই আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। অভিনেত্রী জানান, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সাধারণত ব্যক্তিগত মতপ্রকাশ করেন না। কারণ, যাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, তাঁরা তাঁর থেকে এ বিষয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তবে টলিউডের প্রতিনিধিত্ব করা প্রসঙ্গে তাঁর মত, মন্ত্রী না হলেও, টলিউডের কিছু প্রতিনিধি বিধায়ক হয়েছেন। তাঁরা নিশ্চয়ই ইতিবাচক কাজকর্মই করবেন।
তবে নতুন গঠিত মন্ত্রিসভার কাছে ঋতুপর্ণা কিছু আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, “যিনিই মন্ত্রী হোন না কেন, তিনি যেন ইতিবাচক হন। নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ হন। বিপদে তাঁকে যেন পাওয়া যায়। তখন যেন তাঁরা অধরা না হয়ে যান।” একই সঙ্গে তাঁর চাওয়া, প্রত্যেক সাধারণ মানুষের চাহিদা যেন পূর্ণ হয়। প্রাথমিক মৌলিক চাহিদাগুলি আর যেন অপ্রাপ্তির তালিকায় নাম না লেখায়। একই সঙ্গে সুস্থ-নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের কথা মনে করাতে ভোলেননি অভিনেত্রী-প্রযোজক।
ঋতুপর্ণার কথার ঠিক উল্টো সুর প্রিয়া সিনেমাহলের মালিক অরিজিতের কথায়। তিনি পাল্টা জানতে চেয়েছেন, “বলিউড, টলিউডের অনেক তারকা রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় বা সংসদভবনে তাঁরা সিনেমাদুনিয়ার কথা কতটা বলেছেন?” অরিজিৎ সুনীল দত্ত, বৈজয়ন্তী মালা, জয়া বচ্চন, হেমা মালিনী হয়ে বিধায়ক দেব, সায়নী ঘোষ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এ প্রসঙ্গে তুলেছেন। একই সঙ্গে তিনি উচ্চারণ করেছেন তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় তলপতির নাম। জানিয়েছেন, ব্যতিক্রম তিনি। যিনি প্রথম থেকে রাজ্যের বিনোদনদুনিয়ার সমর্থনে ইতিবাচক পদক্ষেপ করছেন। এই জায়গা থেকেই তিনি কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখবেন বলে আশাও করেননি। তাই অরিজিতের মতে, যিনি যে দায়িত্ব পাচ্ছেন, সেই দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করলেই রাজ্য এবং ইন্ডাস্ট্রির মঙ্গল।
একই সুর বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীলের কণ্ঠে। উদাহরণ হিসাবে তিনি সদ্যপ্রয়াত পরিচালক অনীক দত্তের কথা তুলে ধরেছেন। রুদ্রনীল বলেছেন, “আগের সরকার তাঁকে ব্রাত্য করেছিল নন্দনে। সেই জন্যই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সকলের আগে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। এবং নন্দনে তাঁকে যাতে শেষশ্রদ্ধা জানানো হয়, তার আয়োজন করেছিলেন। এর থেকেই প্রমাণিত, টলিউডের প্রতিনিধি না হলেও বিনোদনদুনিয়ার প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নতুন সরকার।” তাই টলিউডের কোনও প্রতিনিধি মন্ত্রী না হলেও চিন্তার কারণ নেই। তাঁর আশ্বাস, “এখনও পর্যন্ত তথ্য-সংস্কৃতি দফতর মুখ্যমন্ত্রী নিজের দায়িত্বেই রেখেছেন। ফলে, আগামী দিনে টলিউডের যা হবে, ভাল কিছুই হবে।”
রুদ্রনীল কি শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? অভিনেতা-বিধায়কের সাফ জবাব, “যিনি যে পদের যোগ্য, তাঁকে সেই পদই দেওয়া হবে। এই বিশ্বাস আমার আছে। আমিও এত বড় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত, এটা ভেবেই সন্তুষ্ট।”
প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরী। দেবের সঙ্গে জুটি বেঁধে একের পর এক হিট ছবি প্রযোজনা করেছেন। পাশাপাশি, তিনি হাই কোর্টের দুঁদে আইনজীবী। মন্ত্রিসভার টলিউডের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতেই অতনুর সজাগ উত্তর, “আমার রাজ্য সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রয়েছে। জানি, যা সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা আগামী দিনে সকলের পক্ষে মঙ্গলজনক হবে।”