পাকা আমের বোঁটা বা বৃন্তের অংশটি কেটে জলে ভিজিয়ে রাখেন অনেকেই। বহু বাড়িতই এই নিয়ম মানা হয়। কেউ বলবেন, এমনটাই দেখে এসেছেন ছোট থেকে। কিছু প্রথা তো দেখেই শেখা হয়।
কিন্তু পাকা আম খাওয়ার আগে জলে ভিজিয়ে রাখার পদ্ধতিটি কেন চালু হয়েছিল? তা কি এমনি আমের গায়ে লেগে থাকা ধুলো-ময়লা পরিষ্কারের জন্যই? আম ভিজিয়ে রাখার নেপথ্যে কিছু বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যাও রয়েছে। আমে থাকে ভিটামিন সি, কে, ই এবং বি।
ফাইটিক অ্যাসিড: পাশাপাশি, আমে রয়েছে ফাইটিক অ্যাসিড। একে অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বলা হয়। ফাইটিক অ্যাসিডের কিছু স্বাস্থ্যোপযোগী দিক থাকলেও, এটি বেশ কিছু ভিটামিন এবং খনিজ যেমন জ়িঙ্ক, আয়রন, ক্যালশিয়াম শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবে বেশ কিছু ক্ষণ আম জলে ভেজানো থাকলে ফাইটিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে। ভিটামিন এবং খনিজ শরীর শোষণ করতে পারে সহজে।
আরও পড়ুন:
কীটনাশক: গাছের ফলন বৃদ্ধিতে এবং পোকামাকড় তাড়াতে রাসায়িক সার এবং কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়।আমের খোসায় থেকে যায় সেই সব। আম ভিজিয়ে রাখলে খোসায় থাকা কীটনাশক, রাসায়নিক ধুয়ে যায়। সেগুলি পেটে গেলে আমাশয়, পেটের সমস্যা হতে পারে। এমনকি বিষাক্ত রাসায়নিক শরীরে গেলে শ্বাসকষ্ট-সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওজন কমানো: আমে রয়েছে কিছু ফাইটো কেমিক্যাল। ফাইটো কেমিক্যাল এক প্রকার রাসায়নিক যৌগ, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আম ভিজিয়ে রাখলে ফাইটো কেমিক্যালের ঘনত্ব কমে। এটি মেদ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানোর ক্ষেত্রে এর ভূমিকা রয়েছে।