Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১০ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

বাস্তুর পাঁচমাথা মোড়

পরমব্রত। আবীর। রাইমা। কৌশিক। চূর্ণী। উত্তর-পূর্ব-পশ্চিম... বাস্তু-র নানান কোণ এক করে ইন্টারভিউ করলেন ইন্দ্রনীল রায়।পরমব্রত। আবীর। রাইমা। কৌশ

২৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০০:০৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
ছবি: কৌশিক সরকার।

ছবি: কৌশিক সরকার।

Popup Close

ভর দুপুরবেলা হোটেলের ছাদে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে যে দিকে দেখছেন আপনারা, সেটা কি বাস্তু মতে ঠিক?

কৌশিক: (হাসি) একদম ঠিক। দেখছেন না নর্থ-ইস্ট কর্নারে দেখছি। ঈশান কোণ। পারফেক্ট সেটা।

ওটা যদি ঈশান কোণ হয়, এই আড্ডাটা তা হলে কী? ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের ফ্যাব ফাইভের ইন্টারভিউ?

Advertisement

কৌশিক: হা হা হা হা... একদম।

চূর্ণী: (হাসি) অবশ্যই।

পরমব্রত: এটা হল যিশু, ঋত্বিক, আবীর, শাশ্বতদা ও আমার সেই কভারস্টোরি ‘ফ্যাব ফাইভ’‌য়ের সিক্যুয়েল।

তা হলে এই ফ্যাব ফাইভে রাইমা কে?

রাইমা: আমি হলাম, এই সিক্যুয়েলে পরমের বউ।

পরমব্রত: মানে?

কৌশিক: না, না, রাইমা একটু এগিয়ে গিয়েছে বোধ হয়। ও ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের সিক্যুয়েল ভেবে ফেলেছে। আরে, ‘ফ্যাব ফাইভ’ ছিল আনন্দplus-এর কভার স্টোরি।

পরমব্রত: রাইমা তো কোনও কাগজই পড়ে না। তাই আগের ফ্যাব ফাইভ-টা জানে না। রাইমার এই অজ্ঞতার কথাটা প্লিজ আপনাদের বিভাগীয় সম্পাদককে বলবেন। তবে ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের সিক্যুয়েল হলে মন্দ হয় না কিন্তু।

সিক্যুয়েল হচ্ছে নাকি?

কৌশিক: সবে তো এটা শেষ হল।

চূর্ণী: হলে কিন্তু মোটেও মন্দ হয় না।

পরমব্রত: আমি কিন্তু অনেকবার ভেবেছি এটা নিয়ে। দেখুন, ফেলুদা আর ব্যোমকেশ এই দু’টো ফ্র্যাঞ্চাইজি তো আবীরের রয়েছে। আমার আর কৌশিকদার, মানে ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের কুশল আর তিমিরের কোনও সিক্যুয়েল নেই। তা হলে শার্লক আর ওয়াটসনের মতো দু’টো চরিত্র তো হতেই পারি আমরা। এখানে আমরা বাস্তুশাস্ত্র দিয়ে প্রবলেম সল্ভ করলাম। পরেরটায় অন্য কিছু সল্ভ করব।

কৌশিক: হ্যাঁ, ছবির শেষে রাইমা তো শ্যামবাজারে তার শ্বশুরবাড়িতে ক্রিস্টাল বল পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেছে। সেই থেকেই শুরু হতে পারে ব্যাপারটা।

আবীর কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজি শুনেই মিটিমিটি হাসছেন...

আবীর: দেখুন ভাই, এই ছবিতে শুধু ক্রিস্টাল বল দিয়ে কেস সল্ভ করেনি পরম। সেটা ছাড়াও অনেক কিছু পদ্ধতি ইউজ করেছে (হাসি)।

কৌশিক: হ্যাঁ, তা তো বটেই। ফেংশুই, বাস্তুশাস্ত্র-টা করলাম আমি। কিন্তু বাড়ির ভিতর আসল বাস্তুটা চেঞ্জ করল রাইমা আর পরম...

হলে গিয়ে ছবিটা প্রচুর মানুষ দেখছেন। মানুষের এত ভাল লাগবে বুঝতে পেরেছিলেন?

পরমব্রত: এটা রাইমাকে দিয়ে শুরু করুন।

রাইমা: হোয়াই?

আবীর: যাতে আমরা কী বলে দিচ্ছি সেটার কপি না করে, তুই একটা অরিজিনাল উত্তর দিস।

রাইমা: আমি জানতাম ‘বাস্তু-শাপ’ ভাল চলবে। আমি আপনাদের আগের ইন্টারভিউতে বলেছিলাম, টলি ক্লাব, স্যাটারডে ক্লাবে লোকে আমাকে ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের কথা বলছে। এমনকী এই দু’টো ক্লাবের স্টাফেরাও বলেছে তারা দেখবে ছবিটা। তা ছাড়া আমার বন্ধুরা কোনও ছবি দেখতে চায় না কিন্তু এটা দেখতে চাইছে।

পরমব্রত: রাইমা যেটা বলল, সেটা কিন্তু ইন্টারেস্টিং। টলি ক্লাব কী স্যাটারডে ক্লাবের যে মেম্বাররা ছবি দেখতে চাইছে তারা একটা শ্রেণি। সেই ক্লাবের স্টাফেরা অন্য একটা শ্রেণির। এই যে দু’টো শ্রেণি ছবি দেখতে চাইছে, এটাই ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের সাকসেস।

এতে কি তা হলে কিছু ব্যাপার ভুল প্রমাণ হল?

কৌশিক: কী রকম?

প্রমাণ হল ‘বেলাশেষে’র পর ছুটি-পুজো ছাড়াও ছবি চলে। আর বেশি প্রোমোশন না করে ঠিকঠাক প্রোমোশনে কাজ দেয়।

কৌশিক: হ্যাঁ, হতে পারে। আমি প্রথম থেকেই ভেবেছিলাম, শুধু একটাই পোস্টার হবে। সেখানে বেশি মারপ্যাঁচ থাকবে না। পিছন থেকে কোশ্চেন মার্ক, ওখান থেকে একটা মুখ — এ সব দেখলে মানুষ কনফিউজড হয়ে যায়। আর বেশি প্রোমোশন হলে কী মর্মান্তিক পরিণতি হতে পারে, সেটাও আমরা দেখেছি।

পরমব্রত: হ্যাঁ, তা তো বটেই। আমার ‘লড়াই’‌য়ের মতো প্রোমোশন খুব কম ছবির হয়েছিল। পরিণতি সবাই জানে। এ বারেও তো আমরা কোনও টেলিভিশন শোয়ে যাইনি। যাওয়ার কথা ছিল ‘মীরাক্কেল’ এবং ‘আব্বুলিশ’‌য়ে। কিন্তু ওখানে গিয়ে কথা বললে, দর্শক হয়তো ভাবত, তা হলে কি ‘বাস্তু-শাপ’ কমেডি? এগুলো দেখলে মানুষ বিভ্রান্ত হয়।

কৌশিক: আমি আসলে প্রচার নিয়ে কোনও রকম বাড়াবাড়ির পক্ষপাতী নই। আমার কাছে ছবি নিজের গুণে আওয়াজ তৈরি করে নেবে। তার আগে শুধু লোককে জানাতে হবে ছবিটা আসছে।

চূর্ণীদি, আপনি তো শুনেছি খুব একটা প্রচারের ধার ধারেন না। আপনার কেমন লাগছে?

চূর্ণী: আমি তো আমার, কী অন্য কোনও ছবির ‘বাজ’ কেমন, কোনও দিন সেটা মাপতে যাইনি। কিন্তু এ ক’দিনে ‘বাস্তু-শাপ’ নিয়ে যা দেখছি, তাতে আমি ওভারহোয়েলম্ড। লোকেরা এই দু’সপ্তাহের মধ্যেই তিনবার দেখে ফেলেছে ছবিটা।

পরমব্রত: আমি নিজে এতটা এক্সপেক্ট করিনি কিন্তু। আমি জানতাম কৌশিকদার ছবি, আমরা সবাই আছি — একটা দর্শক আসবেই। কিন্তু এত দর্শক আসবে বুঝিনি।

রাইমা: আমি ভেবেছিলাম ‘নিশ’ দর্শক দেখবে। কিন্তু এখন দেখছি, সবাই দেখতে যাচ্ছে ‘বাস্তু-শাপ’।

আবীর-পরমকে প্রশ্ন করতে চাই।

আবীর: মানে, দুষ্টুমি স্টার্ট হবে, বুঝলি?

পরমব্রত: বুঝেছি।



অনেকের কাছে এই ছবিতে পরমব্রত হলেন রাহুল দ্রাবিড়, যিনি ধরে খেলেছেন। আর আবীর ক্রমাগত স্টেপ আউট করে গেছেন বিরাট কোহলির মতো। এই অ্যানালজিটা মানেন আপনারা?

পরমব্রত: হান্ড্রেড পারসেন্ট মানি। আবীর এই ছবির বিরাট, আর আমি দ্রাবিড়।

আবীর: আমাকে স্টেপ আউট করতেই হত। আস্কিং রেটটাই এমন ছিল।

পরমব্রত: হ্যাঁ, মানে কৌশিকদা আমাদের দু’জনকেই কাজটা কী হবে বলে দিয়েছিল। তাই আমাদের কাজটা করতে অসুবিধা হয়নি।

আবীর: এবং আমি আর পরম কিন্তু দু’জনেই দু’জনকে সেই জায়গা দিয়েছি।

কৌশিক: এখানে আমি বলি। আমরা হয়তো প্রচারের জন্য ‘চট্টোপাধ্যায় ভার্সেস চট্টোপাধ্যায়’ বলেছিলাম। কিন্তু সেই ভার্সেসের ‘ভি’টা পরম লিখেছিল। ‘এস’টা আবীর।

পরমব্রত: আর একটা জিনিস। অনেক সময় আমি দেখেছি পুরুষ অভিনেতাদের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যায়। আমরা খুব সহজে আমাদের সহ-অভিনেতার পিচে ঢুকে যাই। সেই অভিনেতার সুরে সুর লাগাই। এটা করলেই দু’জনেই আউট অব...

চূর্ণী: ক্যারেকটার…

পরমব্রত: ইয়েস, দু’জনেই আউট অব ক্যারেকটার চলে যেতে পারে।

শ্যুটিংয়ের আগে তো কৌশিকের ইউনিট ছিল পরমের ঘরের মাঠ। আবীরের কাছে যেটা অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি ট্র্যাক। অ্যাওয়ে ম্যাচ। সেটা বদলালো, আবীর?

আবীর: সে তো শ্যুটিংয়ের আগে ম্যাচ ছিল। এখন এটাও হোম হয়ে গিয়েছে। এখন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে লক্ষ্মণের মতো রেকর্ড করতে পারি কি না, সেটাই ভাবছি।

অনেকে তো রাইমার পারফরম্যান্স দেখে বলছে, হার বেস্ট টিল ডেট।

রাইমা: ইয়া...

পরমব্রত: ‘ইয়া’ মানে? তুই কি শিওর না শকড?

রাইমা: আমি শিওর, পরম।

রাইমা, এটা কি আপনার বেস্ট পারফরম্যান্স? ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিকে মাথায় রেখে অনেস্টলি বলুন...

রাইমা: দেখুন, ডিপেন্ড করছে ঋতুদার কোন ছবির কথা বলছেন। ‘চোখের বালি’ যখন করেছিলাম, সেটা ছিল দশ বছর আগে...

পরম: (গলা টিপে, আবীরের হাঁটুতে হাত রেখে) হ্যাঁ, তখন তো মানে তুই কিছুই...

রাইমা: পরম স্টপ।

আচ্ছা রাইমা, লাস্ট পাঁচ বছরে এটা কি আপনার বেস্ট পারফরম্যান্স?

রাইমা: ইয়েস, মোস্ট ডেফিনিটলি। আর আমার অভিনয় সবচেয়ে ভাল বলছে আমার মা-বাবা। আমি খুব ভয়ে ভয়ে ছিলাম।

সেটা কি চুমু নিয়ে?

রাইমা: হ্যাঁ, ‘মির্চ’ ছবিতে চুমু খাওয়ার পর মা আর বাবা স্ক্যান্ডেলাইজড হয়ে গিয়েছিলেন। এটাতে দে ওয়্যার ওকে।

পরম: কিন্তু এর আগে ‘২২শে শ্রাবণ’‌য়েও তো চুমু ছিল আমার আর তোর।

রাইমা: হ্যাঁ, কিন্তু দে হ্যাড আ প্রবলেম। এটা দেখে ওরা বলল, ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের এই চুমুটা গল্পের জন্য দরকারি ছিল। ওটা নিয়ে ওদের আপত্তি কারণ, ওটা গানে ছিল।

পরমব্রত: আমার তো মনে হয়েছিল, ওই চুমুটাও ইম্পর্ট্যান্ট ছিল।

পরমব্রত, আগের জানুয়ারিতে ‘লড়াই’ ফ্লপ হল। এই জানুয়ারিতে ‘বাস্তু-শাপ’ হিট। এক বছরে বাস্তুশাস্ত্র তা হলে অনেকটাই বদলে দিল বলুন আপনার জীবন?

পরম: ওহ, ইয়েস। বছরটা ভাল শুরু হল আমার। টাচ উড।

এ বার একটু চূর্ণীদিকে জিজ্ঞেস করি, ছবিতে তো সবাই আপনাকে ‘হেডমিস্ট্রেস’ বলল। সেটেও কি তাই ছিলেন?

চূর্ণী: (হাসি) একদম নয়। কোনও হেডমিস্ট্রেসগিরি আমি করিনি।

রাইমা: তা করোনি। কিন্তু সবাই তোমাকে কী ভয় পেত! স্পেশালি মেকআপের ছেলে-মেয়েগুলো। ওদের কথাই ছিল, ‘‘এই ঠিক কর জায়গাটা। চূর্ণীদি আসবে এখনই।’’ আমি আর চূর্ণীদি পাশাপাশি ঘরে থাকতাম হোটেলে। সবাইকে ইন্সট্রাকশন দেওয়া ছিল, চূর্ণীদির ঘরের আশেপাশে আওয়াজ না করতে।

চূর্ণী: (হাসি) বোঝো। হেডমিস্ট্রেসরা তো জানে না, তাদের স্টুডেন্টরা কত ভয় পায়। তাই আমার পক্ষেও জানা সম্ভব নয়।

বুঝলাম। কিন্তু সিনেমাতে আপনার কৌশিকদাকে রেড মিট খেতে বারণ করার সিনটায় কিন্তু প্রচুর হাততালি পড়েছে।

চূর্ণী: সেটা কিন্তু বানানো নয়। প্রথম ড্রাফ্ট থেকেই ছিল স্ক্রিপ্টে।

পরম: ওটা কী হয়েছে বলুন তো। ওটা হয়েছে, গৃহিণী চূর্ণী গাঙ্গুলি স্বামী কৌশিক গাঙ্গুলিকে বলছেন।

কৌশিক: একদম তাই। ওখানে হঠাৎ সিনেমার বাইরের একটা দৃশ্য হয়ে যায় সিনটা। তবে এই ফিল্মটার পর প্রচুর প্রচুর মেসেজ আসছে আমার আর চূর্ণীর কাছে।

কেমন?

চূর্ণী: এই যেমন, আমাদের অ্যানিভার্সারিতে মেসেজ পেলাম, ‘হ্যাপি অ্যানিভার্সারি টু তিমির অ্যান্ড অন্তরা’।

আবীর: এখানে আমি একটা কথা বলি, এই যে সিক্যুয়েলটার কথা হচ্ছিল আগে, সেটাতে কিন্তু অন্তরা আর তিমির-এরও একটা অ্যাঙ্গল হতে পারে কিন্তু।

কৌশিক: (খুব হাসি) মানে, আমাকে মেন্টাল অ্যাসাইলাম যেতে হবে? সেখানেই প্রেমে পড়ব তো অন্তরার...

চূর্ণী: (হাসি)

এই প্রশ্নটা কৌশিকদার জন্য। আনন্দplus-এ যখন প্রথম ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের স্টোরিটা বেরোয়, সেটায় ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের প্রোডিউসর শ্যামসুন্দর বলেছিলেন, তিনি চান একটা হিট ছবি যা অনেক টাকার ব্যবসা করবে। তা শুনে আপনি একটু অবাক হয়েই বলেছিলেন, আমার ছবি তো সাধারণত বেশি প্রাইজ পায়, টাকাটা কি ভুল বলল শ্যামসুন্দর?

কৌশিক: দেখুন, কোনও অমায়িকতাকেই ইগনোরেন্স হিসেবে ধরবেন না। তবে এটা ঠিক, ‘বাস্তু-শাপ’ করার আগে আমার উপর প্রচুর প্রেশার ছিল। তার আগে আমি ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের সঙ্গে বেশ কিছু ছবি করেছিলাম। ওদের ছেড়ে যখন শ্যামসুন্দরের সঙ্গে ছবি করব ডিসাইড করলাম, তখন অনেক আড্ডাতেই এই নিয়ে কথা হত যে, আমার সঙ্গে কি ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কোনও ঝামেলা হল? আমি এটুকুই বলব, আমার কারও সঙ্গেই কোনও দিনই ঝামেলা হয়নি। আজকে ভেঙ্কটেশ ফিল্মসের কর্ণধাররাও এই সাফল্যে যথেষ্ট খুশি সেটা আমি জানি। আর শ্যামসুন্দর আমাকে অনেক স্পেস দিয়েছিল। না গল্প শুনেছিল, না স্ক্রিপ্ট — আমাকে ফ্রি হ্যান্ড দিয়ে শুধু বলেছিল, ‘‘আপনি যা ইচ্ছে বানান।’’ এটা হিউজ প্রেশার।

চূর্ণী: আমার কিন্তু ভয় হয়েছিল!

কেন?

চূর্ণী: ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের স্ক্রিপ্টটা কেজি (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়) লিখেছিল ঠিক চারদিনে। আমার তো নিজের স্ক্রিপ্ট লিখতে মাসের পর মাস লাগে। সেখানে আমার খালি মনে হচ্ছিল, এত তাড়াতাড়ি স্ক্রিপ্ট লিখতে গিয়ে কোনও লজিকাল স্টেপ মিস করল না তো কেজি।

চূর্ণীদি, আপনি তো কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের অনেক স্ক্রিপ্টেরই ফাইনাল ড্রাফ্টটা দেখে দেন। এটা দেননি?

চূর্ণী: না, কেজি আমাকে সেই টাইমটা দেয়নি। ইনফ্যাক্ট, আমাকে যখন রোল অফার করেছে, আমি তখনও বুঝিনি আমার রোলটা নিয়ে এত হইচই হবে।

কৌশিক: তোমার রোলটা যে ভাল হবে আমাকে প্রথম বলেছিল পরম।

পরমব্রত: হ্যাঁ, আমি যদি মেয়ে হতাম, প্রথমেই পিপি-র রোল মানে চূর্ণীদির রোলটা করতে চাইতাম। ওই রোলটার এক্সসেনট্রিসিটি, পাগলামিটাই ভীষণ অ্যাপিলিং।

চূর্ণী: আমি বুঝিনি কিন্তু।

আচ্ছা, এই প্রশ্নটা শুধু আবীর আর পরমব্রতর। এই ছবিতে আপনারা একে অপরকে দশে কত নম্বর দেবেন?

পরমব্রত: আমি আবীরের এই পারফর্ম্যান্সের জন্য ৭.৫ থেকে ৮ দেব।

আর আবীর? আপনি কত দেবেন?

আবীর: আমি পরমকে ৮.৫ দেব। কারণ আমার মনে হয়েছে পরমের পারফর্ম্যান্সটা ভীষণ ভীষণ শক্ত ছিল।

পরমব্রত: তবে শ্যুটিংয়ের মাঝে আমি কিন্তু কৌশিকদাকে বলেছিলাম যে আবীর দারুণ কাজ করছে।

চূর্ণী: একদমই তাই। আবীর নিজেকে সম্পূর্ণ ভেঙেছে এই ছবিটায়। এ রকম আবীরকে তো আমরা কেউই আগে দেখিনি। আর আমি শ্যুটিংয়েও দেখেছি, ঠিক শটের আগে আবীর টুকটুক করে বেরিয়ে গিয়ে নিজের জোনে ঢুকে যাচ্ছে।

কৌশিক: আবীরের কী একটা হত কিন্তু শটের আগে।

পরমব্রত: আর রাইমা থাকলে কী হয় জানেন? সবসময়ই এনার্জি লেভেলটা একটা পার্টি জোনে থাকে। সেখানে এই ছবিতে আমার আর আবীরের কাজটা আলাদা আলাদা ছিল। আমাকে এনার্জিটা কমাতে হচ্ছিল, আবীরকে বাড়াতে হচ্ছিল। রাইমা থাকলে সেই কাজটা কতটা শক্ত সেটা আপনারা কল্পনাও করতে পারছেন না।

চূর্ণী: আহা, ওকে ও রকম বলিস না।

রাইমা: পরম ইজ লাইক দ্যাট।

পরমব্রত: আরে রাইমা, তুই আমাকে এত কথা বলিস, তোর কত পারফর্ম্যান্সে আমি কত হেল্প করেছি বল তো?

রাইমা: হেল্প করেছিস কারণ তাতে তোর পারফর্ম্যান্স, তোর ফিল্মের পারফর্ম্যান্সে হেল্প হয়েছে।

(রাইমার কথা শুনে চার দিকে স্টানড্ সায়লেন্স)

পরম, এটা কিন্তু স্ল্যাপ?

পরম: স্ল্যাপ মানে? এটা আমাকে ঠাটিয়ে চড় মারল রাইমা।

আচ্ছা রাইমা, পরম যে ভাবে আপনাকে হেল্প করেন, আবীর কোনও ছবিতে হেল্প করেন না?

রাইমা: করে । বাট আবীর ইজ জেন্টল।

পরম কি রাফ?

রাইমা: ইয়েস, পরম খুব রাফ। বেশি ইরিটেটেডও হয়ে যায়।

কৌশিক: আমি বলছি কী হয়। কোনও সিন হয়তো রাইমাকে বোঝাচ্ছে পরম। সেখানে রাইমা একটা প্রশ্ন করল, ‘‘এটা কেন হচ্ছে?’’ তাতে হয়তো পরম রেগে বলল, ‘‘চুপ কর তো। তোকে ওটা নিয়ে ভাবতে হবে না।’’ সেখানে আবীর ধৈর্য ধরে বোঝাবে।

অনেকে বলছে, ‘বাস্তু-শাপ’‌য়ের সাফল্যের পিছনে আরও একজন রয়েছেন। তিনি সঙ্গীত পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। কৌশিকদাকে প্রশ্ন করতে চাই, এখন মনে হচ্ছে না ইস্ রূপঙ্করের ‘আমার তো গল্প বলা কাজ’ গানটা যদি আর একটু ভাল করে পিকচারাইজ করা যেত কী ভালই না হত?

কৌশিক: হ্যাঁ, হচ্ছে তো। আফসোস হচ্ছে। (পরমের দিকে তাকিয়ে) কেউ যদি একটা মিউজিক ভিডিয়ো করে দিত গানটার!

পরমব্রত: আমাকে বললেই আমি অসম্ভব খুশি হয়ে বানিয়ে দিতাম।

কৌশিক: আমি শুধু দর্শককে অনুরোধ করব, এন্ড ক্রেডিটের সঙ্গে প্লিজ যদি আপনারা গানটা শোনেন তা হলে আমাদের সব্বার খুব ভাল লাগবে। এটা আমার অনুরোধ। আর এই ছবিতে ইন্দ্রদীপ সত্যিই বড় ভাল সুর দিয়েছে। কিছু মানুষ থাকে যারা একটু ভালবাসলে আর একটু ভাল কথা বললে, ম্যাজিক তৈরি করতে পারে। আইডি সে রকম একজন মানুষ। আজকে আমি বলছি, গতবছর গরমকালে ও সাঙ্ঘাতিক ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিল। ক্লসট্রোফোবিক লাগত ওর। খালি মনে হত, আকাশটা ঢালাই করা কংক্রিট। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ওর প্রথম সুর ‘তোমাকে ছুঁয়ে দিলাম’।

আচ্ছা, সিনেমাতে একটা ডায়ালগ আছে যার মানে দাঁড়ায় না আবীর, না পরম, ক্ষীর খেয়ে গেল রাইমা? আপনারা মানেন?

পরমব্রত: না, মানি না।

আবীর: একেবারেই মানি না।

কৌশিক: ক্ষীর খেলে এই পাঁচটা চরিত্রই খেয়েছে।

পরমব্রত: সবচেয়ে বেশি খেয়েছে কারা জানেন? এটা নিয়ে আবীর আর আমার কথা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্রেডিট পাচ্ছে কৌশিকদা আর চূর্ণীদি।

আবীর: আরে ভাই প্রিয়া-তে চূর্ণীদির উদ্দেশ্যে স্লোগান শুনলাম, ‘‘অন্তরাকে ভুলছি না ভুলব না।’’

চূর্ণী: কী যে বলিস না তোরা!

কৌশিক: আসলে চরিত্রগুলো পুরো সাদা বা পুরো কালো নয় বলেই বোধ হয় মানুষের এত ভাল লেগেছে।

আচ্ছা, এই ফিল্মের সেটে কৌশিকদা ছাড়াও দু’জন ডিরেক্টর ছিলেন। পরমব্রত আর চূর্ণী। তাঁরা আপনাকে ইনপুটস দিয়ে জ্বালাত না কৌশিকদা?

কৌশিক: না। ইনফ্যাক্ট আমিই ওদেরকে জিজ্ঞেস করতাম। দু’জন দু’রকমের ডিরেক্টর। চূর্ণী হয়তো বলল, ‘‘আর একটা শট নিয়ে নাও।’’ অন্যদিকে পরম বলল, ‘‘আর লাগবে না। যা আছে ঠিক আছে।’’ সেটে দু’জন আরও ডিরেক্টর রাখার সুবিধা তো আছেই। ‘খাদ’‌য়ে যেমন আমি কমলেশ্বরকে জিজ্ঞেস করতাম। কিন্তু আমি ঠিক জানি, কাকে কী জিজ্ঞেস করতে হবে না। তাই কোনও দিন রাইমাকে কিছু জিজ্ঞেস করিনি।

(সবার একসঙ্গে হাসি)

রাইমা: কেজি শুধু আমাকে বলত, ‘আর ইউ হ্যাপি?’ ব্যস, এতটুকুই।

চূর্ণী: এখানে রাইমার একটা কথা বলতে পারি আমি?

সিওর…

চূর্ণী: রাইমা কিন্তু কোনওদিন পুরো স্ক্রিপ্ট পড়ে না। তো একদিন কী হয়েছে, আমরা শ্যুটিং করছি, প্রেস এসে প্রশ্ন করছে আপনাদের রোল-টা যদি একটু বলেন। আমি দেখি রাইমা সেই জার্নালিস্টকে অম্লানবদনে বলছে, ‘‘এই ছবিতে চূর্ণীদি হল পিপি, মানে ছবিতে চূর্ণীদি আমার পিসি।’’ আমি প্রায় আঁতকে উঠেছি। রাইমা শুধু পড়েছে পিপি বলে একজন আছে।

রাইমা: (হাসতে হাসতে) আমি তো আমার পিসিকে পিপি বলি। তাই বলে ফেলেছি।

পরমব্রত: রাইমার এই পুরো স্ক্রিপ্ট না পড়ার অনেক গল্প আছে কিন্তু।

কৌশিক: আমি কিছুটা জানি, আজ বলেই দিচ্ছি। রাইমা নিজের সিন ছাড়া পুরো স্ক্রিপ্টে কিছু পড়ে না। আগে নিজের সিনগুলো ছাড়া স্ক্রিপ্টের সব পাতা ছিঁড়ে ফেলে দিত। এতে একজন ডিরেক্টর ওর ওপর রেগে গিয়ে স্ক্রিপ্টটা পুড়িয়ে দিয়েছিল। রাইমা, আমি কি নামটা বলতে পারি?

রাইমা: (হাসি)

কোন ডিরেক্টর?

আবীর: সৃজিত মুখোপাধ্যায়। রাইমা ‘২২শে শ্রাবণ’-এর স্ক্রিপ্টে বাকিটা ফেলে দিয়েছে নিজের পোর্শনটা রেখে। তা দেখে সৃজিত রাইমার স্ক্রিপ্টটা পুড়িয়ে দিয়েছিল।

কৌশিক: কারেক্ট। তো তার পর থেকে রাইমা বুঝেছে পাতা ছেঁড়াটা ঠিক নয়। তার ওপর যেটা ও শুরু করল, নিজের সিন ছাড়া বাকি সিনগুলোর পাতাগুলো মুড়িয়ে মুড়িয়ে রাখত। তাতে ওর স্ক্রিপ্টটা উটপাখির মতো ফুলেফেঁপে উঠত। এখন কী করে সেটা পরম আর আবীর বলবে আপনাদের?

কী করে?

আবীর: এখন ও নিজের সিনগুলো পড়ে। তার পর অন্যদের সিন হলেই বলে (রাইমা-কে ভেঙিয়ে) ‘বাই’।

পরমব্রত: কিছু পড়ে না। জাস্ট (ভেঙিয়ে) ‘বাই’ বলে পাতা উল্টে চলে যায়। ভাবতে পারেন?

ইন্টারভিউ শেষের মুখে।

পরমব্রত: আচ্ছা, আমি একটা আমাদের পাঁচ জনকে নিয়ে টিম ইন্ডিয়ার প্লেয়ার ধরে র‌্যাঙ্কিং করতে পারি?

শিওর...

পরমব্রত: তা হলে প্রথমেই বলি কৌশিকদা আর চূর্ণীদি হল রবীন্দ্র জাডেজা আর সুরেশ রায়না। রাইমা হল রবিচন্দ্রন অশ্বিন। কখন কী করবে ঠিক নেই। আর আবীর সব অর্থে বিরাট কোহলি।

আর আপনি? অজিঙ্কে রাহানে?

পরমব্রত: রাহানে হতে পারি, কিন্তু আমার মনে হয় আমি রোহিত শর্মা।

কৌশিক: পরম, প্লিজ একটা জিনিস বলে দে?

পরমব্রত: কী?

কৌশিক: বল, এটা অস্ট্রেলিয়াতে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টিম ইন্ডিয়া। ওয়ান ডে সিরিজের টিম নয় কিন্তু...

(সবার একসঙ্গে হাসি)

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement