প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনে বড় অঙ্কের গুনাগার দিয়েছেন অ্যাম্বার হার্ড। আদালতের রায় ছিল জনি ডেপের পক্ষেই। তবু জনসাধারণ কোথাও যেন নিশ্চিত হতে পারছিলেন না। জনির কি একটুও দোষ নেই? সব দোষ অ্যাম্বারের? বিশদ জানতে ২ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি টাকা খরচ করে জনি ডেপের মামলার নথিপত্র পুনরায় খুলে দেখার আবেদন জানিয়েছিলেন অনুরাগীরা। তাতে অনুমতিও মেলে। গত এক সপ্তাহ ধরে ৬০০০ পাতার আদালত-নথি ঘেঁটে দেখার পর এমন কিছু কথা প্রকাশ্যে আসে, যা সম্পূর্ণ বিষয়টিকেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলে।
দেখা যায়, বেআইনি ভাবে প্রাক্তন স্ত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিলেন জনি। আদালতে জমা করেছিলেন অপ্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ। যেমন, অ্যাম্বার হার্ডের নিরাবরণ ছবি, তাঁর বোন হুইটনির রিয়্যালিটি শোয়ের ভিডিয়ো। 'উত্তেজক' নাচে রত অ্যাম্বারের ছবি, যা কার্যত তাঁর যৌনকর্মী হিসাবে এক সময়ে জীবনধারণের প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল লোগান নামের এক বন্ধুকে খুনের অভিযোগ। যে বন্ধুর মৃত্যু অ্যাম্বারের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। যদিও পুলিশ সূত্রে খবর, কৈশোরেই লোগান মারা গিয়েছিলেন পথ দুর্ঘটনায়।
এক কথায়, প্রাক্তন স্ত্রীকে খলনায়িকা প্রমাণ করতে কসুর করেননি 'পাইরেটস অফ দ্যা ক্যারিবিয়ান'-খ্যাত অভিনেতা।অবশ্য অ্যাম্বারের পক্ষের আইনজীবীরা আগেই অনেকটা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই তরফের কথা ধোপে টেকেনি। জনসাধারণের উদ্যোগে বিশদ ভাবে নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গেল, অ্যাম্বার হয়তো সত্যি কথাই বলছিলেন।২০১৪ সালে ডেপের প্রাক্তন সহকারী স্টিফেন ডিউটাসের পাঠানো কিছু বার্তা এই দফায় উঠে এল। সেখানে স্পষ্ট, প্রাইভেট জেট বিমানে অবস্থান কালে অ্যাম্বারকে লাথি মেরেছিলেন জনি। তার পরই শিহরিত স্টিফেন মেসেজ করেছিলেন অ্যাম্বারকে। সেখানে লেখা, "যদি তুমি সত্যি কথা বলো, জনির আসল রূপ ফাঁস হয়ে যাবে। আমি অনুতপ্ত। কিন্তু ওকে বলতে গেলে আরও রেগে যাবে। তোমার সঙ্গে যা কিছু হচ্ছে এবং হয়েছে, সব আমার মনে থাকবে।"
এর পর অ্যাম্বারের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন জনিও। যদিও সেই সব মেসেজ ডেটাবেস থেকে মুছে ফেলা হয়। থেকে যায় কেবল অ্যাম্বারের মেসেজগুলিই। কিন্তু সত্যি যে চাপা থাকে না, সেই বিশ্বাস ছিল অনুরাগীদেরও। আপাতত জয় হলেও প্রিয় অভিনেতার স্বরূপ জানতে চেয়েছিলেন তাঁরা। আর জানলেনও।২০১৮ সালে অভিনেত্রী অ্যাম্বার হার্ড জনির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ আনেন। এর পরেই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন জনি। পাল্টা মামলা করেন অ্যাম্বারও। অবশেষে চলতি বছর জুন মাসে হার্ডের বিরুদ্ধে করা মানহানির মামলায় জয়ী হন জনি।
More context on the texts about in which Johnny talks about burning and raping Amber’s dead corpse. pic.twitter.com/kfEYE3osGJ
— kamilla (@k4mil1aa) July 30, 2022
আদালতের জুরি সদস্যরা জানান, অ্যাম্বার গার্হস্থ্য হিংসার যে অভিযোগ জনির বিরুদ্ধে এনেছিলেন তা মিথ্যা এবং অবমাননাকর। অ্যাম্বারকে প্রায় ১১৭ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও নির্দেশ দেয় আদালত। পাশাপাশি জনির বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ আনার পিছনে অ্যাম্বারের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেও জানিয়েছিল আদালত।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি আবার অন্য দিকে মোড় নিল। অ্যাম্বার কি আবার কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবেন জনির বিরুদ্ধে, প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে অনুরাগীদের মধ্যে।