বলিউড নাকি এখন উগ্র পৌরুষ প্রদর্শনের দিকেই ঝুঁকছে। এমনই অভিযোগ তারকা পরিচালক-প্রযোজক কর্ণ জোহরের। তাঁর মতে, হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতে ‘হাইপার-মাসকুলিন’ গল্প বলার প্রবণতা বেড়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি মন্তব্য করেন, মূলধারার হিন্দি সিনেমা ক্রমশ পুরুষতান্ত্রিকতার উদ্যাপনের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাঁর মতে, এর ফলে গল্প বলার সূক্ষ্মতা এবং বৈচিত্র্য অনেক সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছরে সিনেমায় উগ্র পৌরুষের প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে একাধিক ছবির বিরুদ্ধে। রণবীর কপূরের ‘অ্যানিম্যাল’, শাহিদ কপূরের ‘কবীর সিংহ’ বা মুক্তির অপেক্ষায় থাকা দক্ষিণের ‘টক্সিক’— সমালোচনা হয়েছে একাধিক ছবি নিয়ে। এই প্রসঙ্গে কর্ণের বক্তব্য, এখন বড়পর্দায় যে যে ছবি মুক্তি পায়, তার বেশিরভাগই পুরুষকেন্দ্রিক, হিংস্র। যদিও এ ক্ষেত্রে ওটিটি এখনও বৈচিত্র্যে ভরা, মত তাঁর। তিনি বলেন, “যদি একটা নির্দিষ্ট ঘরানার ছবি ভাল ব্যবসা করে, তা হলে একই ধরনের আরও ১০টা ছবি তৈরি হয়। ফলে প্রায় খানদশেক এমন ছবি দেখতে পাবেন, যেখানে বিনা কারণে ধীর গতিতে নায়ক এগিয়ে আসছেন, এবং হয়তো কোনও নির্দিষ্ট গন্তব্যও নেই তাঁর। কিন্তু তবুও ও ভাবেই ওই দৃশ্যটা তৈরি হয়েছে। লম্বা দাড়ি থাকবে সকলের। প্রত্যেকে ধূমপান করবে। বলা হয়, মহিলারা নাকি ওটাই দেখতে পছন্দ করেন। অন্তত, তেমনটাই পুরুষেরা মনে করেন।”
আরও পড়ুন:
বছরকয়েক আগে মুক্তি পায় ‘রকী অউর রানী কী প্রেম কহানী’ ছবিটি। পরিচালনা করেছিলেন কর্ণ। তিনি সাক্ষাৎকারে এ-ও জানান, ছবিতে চিরাচরিত স্বভাবের পুরুষ চরিত্র না দেখানোর কারণে প্রবল কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন তিনি। ছবির একটি দৃশ্যে রণবীর সিংহ ও টোটা রায়চৌধুরীর কত্থক নৃত্য প্রদর্শন করতে দেখা যায়। সেই দৃশ্যের উল্লেখ করে কর্ণ বলেন, “মূলধারার দর্শকের একটা বড় অংশ আমাকে প্রশ্ন করেছিল, ‘পুরুষকে এ ভাবে কী করে দেখাতে পারলেন আপনি?’ যদি একটা নির্দিষ্ট ধরনের দর্শকের কথা মাথায় রেখে আমার বিশ্বাস থেকে আমাকে সরে আসতে হয়, তা হলে আমি কেন বসে আছি? আমার ছবি আজীবন নারীবাদী গল্পই বলবে।”
কাজের ক্ষেত্রে কর্ণ আপাতত ব্যস্ত ‘চাঁদ মেরা দিল’ ছবির প্রযোজনা নিয়ে। ২২ মে মুক্তি পাবে অনন্যা পাণ্ডে ও লক্ষ্য অভিনীত এই ছবি।