• মৌসুমী বিলকিস
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ের লড়াই নিয়ে আজ থেকে নতুন ধারাবাহিক ‘কোড়াপাখি’

inside
ঋষি কৌশিক এবং পার্নো মিত্র।

Advertisement

‘কোড়াপাখি’। আমন নামের আদিবাসী এক মেয়ের ইচ্ছাপূরণের গল্প। তার ইচ্ছে সাংবাদিক হওয়ার।কিন্তু সাংবাদিকতার কোন গল্প বলবে ধারাবাহিকটি?

ধারাবাহিকের অন্যতম প্রযোজক, পরিচালক এবং গল্পকার-চিত্রনাট্যকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় গল্পের আভাস দিলেন, “বড় কথা হচ্ছে একজন সৎ সাংবাদিক। এটা তো খানিকটা ইউটোপিয়া এখন। নিশ্চয়ই অনেক সৎ সাংবাদিক আছেন। কিন্তু পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে অনেককিছু করা যায় না। সাংবাদিকদের কী ভূমিকা, একজন সাংবাদিককে কী কী করতে হতে পারে জীবনে— সেইগুলো আমার বলার ইচ্ছে আছে এই গল্পের মধ্য দিয়ে।”

দু’বছর চলেছিল ‘কুসুমদোলা’। ঋষিকে সেই সিরিয়ালে শেষ দেখা গিয়েছিল। প্রায় এক বছর বাদে তিনি ‘কোড়াপাখি’তে। পুরুলিয়ায় ঘুরতে গিয়ে আমনকে(পার্নো মিত্র) দেখতে পায় অঙ্কুর (ঋষিকৌশিক)। প্রথম দেখাতেই আমনকে অন্যরকম লাগে অঙ্কুরের। সে জানতে পারে,আমন সাংবাদিক হতে চায়। কী ভাবে আমন কলকাতায় আসবে, কী ভাবে তার স্বপ্নের পথে এগোবে, কী ভাবে অঙ্কুর তাকে সাহায্য করবে... এসব নিয়েই গল্প এগোবে।

আরও পড়ুন-রক্ষী না নিয়েই বাবার সিনেমা দেখতে গেলেন সারা, তার পর...

ঋষি বললেন, “অঙ্কুর বোহেমিয়ান। ঘুরে বেড়াতে ভালবাসে, ছবি তুলতে ভালবাসে। চাকরি না করে একটা ট্রাভেল এজেন্সি খুলেছে। সে ট্রাভেল গাইড।নিজের প্যাশন থেকেই লোককে ঘুরতে নিয়ে যায়। সব সময় নিজের লাভ লোকসান দেখে না।”

আমনপ্রসঙ্গে পার্নো মিত্র বললেন, “আমন পুরোপুরি গ্রামে বেড়ে ওঠা এক মেয়ে। পড়াশোনা করেছে। সে সমাজের পিছিয়ে পড়া বিষয় নিয়ে লড়াই করে, যেমন চাইল্ড ম্যারেজের কুফল সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা, পড়াশোনা শেখাতে এনকারেজ করা, মানুষকে হেল্প করা— এসব করে। শি ইজ ভেরি সিম্পল ভিলেজ গার্ল, ভেরি ডেডিকেটেড এবং ভীষণ অ্যাম্বিশাস।”

দশ বছর আগে পার্নোকে শেষ দেখা গিয়েছিল ‘সময়’ ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে

‘ইষ্টিকুটুম’-এর বাহা চরিত্রটি ছিল তাঁরই সৃষ্টি। ‘কোড়া পাখি’র আমনের মধ্যেতার ছায়া খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। লীনা বললেন, “একটা প্রোমো দেখে এই দুই ধারাবাহিকের সাদৃশ্য ধরে নেওয়া যায় না। দুটো ভিন্ন গল্প। কোনও আদিবাসী ব্যাক ড্রপের গল্পকেই যদি ‘ইষ্টিকুটুম’ মনে করা হয় তাহলে আলাদা কথা। কিন্তু আদিবাসীদের সমস্যা তো একটা নয়। একটা গল্পে সব সমস্যা শেষ করা যাবে না। যেমন, আমরা যারা আদিবাসী নই তাদের নিয়ে বার বার গল্প বলা হয়। তাহলে কি এইযে গল্পগুলো সব বলা হয়ে গিয়েছে? তা তো নয়।”

পরস্পরের সঙ্গে কাজ করে কেমন লাগছে তাঁদের? ঋষি জানালেন,“পার্নোর সঙ্গে এর আগে কাজ করিনি। এটাই প্রথম।ভালই লাগছে।”

ঋষির সম্পর্কে পার্নোর মন্তব্য:“গ্রেট কোঅ্যাক্টর। হি ইজ ফান।”

দশ বছর আগে পার্নোকে শেষ দেখা গিয়েছিল ‘সময়’ ধারাবাহিকে রুক্মিণী চরিত্রে। এছাড়া ‘খেলা’, ‘মোহনা’, ‘বউ কথা কও’ ধারাবাহিকেও তাঁকে দেখেছেন দর্শক। এতদিন পর টেলিভিশনে ফিরে কেমন লাগছে?

পার্নো জানালেন তাঁর অনুভূতি,“আই অ্যাম অ্যান অ্যাক্টর, আই লাইক টু পারফর্ম।এক্সাইটিং লাগছে যে আবার এই মিডিয়ামে কাজ করছি। দর্শকের অনেক কাছে চলে যাওয়ার সুযোগ এটা। ফিল্ম সব সময় দর্শক হলে এসে দেখে না। বাট টেলিভিশন হ্যাজ আ বিগার রিচ। দ্যাট ইজ নাইস।”

আরও যোগ করলেন, “টেলিভিশন মেয়েদের মিডিয়াম। অনেক এমপাওয়ারিং গল্প বলা হয় এখানে। অনেক এমপাওয়ারড চরিত্র থাকে, সেগুলোকে এক্সপ্লোর করা হয়। যে সব মেসেজ সাধারণ ভাবে দেওয়া যায় না সেগুলো এই মিডিয়ামে দেওয়া যায়। সো, দ্যাট ইজ ইন্টারেস্টিং।”

প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে যারা কিছু করতে চায়, কিছু হতে চায়, তাদের কোনও বার্তা দেবেন? পার্নো বললেন, “আমি মেয়েদের বলতে চাই যে প্লিজ আশা হারাবেন না।”

আরও পড়ুন-‘উনি আমায় টপ খুলে ফেলতে বলেছিলেন’, প্রৌঢ় প্রযোজকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিনেত্রী

ঋষি এবং পার্নোকে কেন বাছলেন? লীনা বললেন, “ঋষি ফ্রি ছিল, তাই ওকে চুজ করা হয়েছে এবং এই চরিত্র অনুযায়ী ঋষিকে মানাতো। ঘটনাচক্রে ছেলেমেয়ে সারা বছরই খুঁজতে থাকি। এর মধ্যে দেখা হয় যে কারা ফ্রি আছে। এমন নয় যে এই চরিত্রটা পার্নোকে ভেবে লেখা। এমন নয় যে পার্নো ছাড়া অন্য কেউ হলে হত না। উভয়ের ক্ষেত্রেই এটা সত্যি। এই দুটো ব্যাটে-বলে মিলেছে, তাই ওদের নেওয়া হয়েছে।”

এক একটা চরিত্রের নিজস্ব কিছু ফিচার থাকে। এক্ষেত্রে?প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দিলেন লীনা, “এসব ভেবে টেলিভিশন করা যায় না। আমি সিনেমায় এসব ভাবতে পারি। এমন কিছু ভাবলাম যে পেলাম না সেরকম চরিত্র, তাহলে তো হবেই না গল্পটা। ঋষি, পার্নো দু’জনেই ভাল অভিনেতা।”

আরও পড়ুন-#মিটু: অরিন্দম শীলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রূপাঞ্জনা

দর্শকের কাছে কী চাইবেন? লীনার কথায়:“দর্শকদের বলবো যে ধারাবাহিকটি দেখুন। এর থেকে বড় চাওয়া আর কিছু নেই। তাঁরা দেখলেই আমাদের শো করাটা সার্থক হয়। তাঁরা বরাবরই আমাদের শো দেখেছেন, প্রশ্রয় দিয়েছেন, আশীর্বাদ করেছেন। আশা করি ভবিষ্যতেও তা করবেন।”

সোমবার, ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ধারাবাহিকটি। দেখা যাবে সোম থেকে শুক্রবার, রাত ৯টায়, স্টার জলসায়।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন