বিয়ে সেরেছেন মোনালিসা ভোঁসলে ওরফে ‘কুম্ভমেলা গার্ল’। বুধবার তিরুঅনন্তপুরমে পুলিশি পাহারায় বিয়ে হল তাঁর। ছ’মাস আগে সমাজমাধ্যমে আলাপ হওয়া ফরমান খানকে জীবনসঙ্গী বানালেন মোনালিসা। ভিন্ধর্মের যুবককে পছন্দ করায় বাড়ির বাধার মুখে পড়েন বলে দাবি মোনালিসার। শেষমেশ পুলিশের দ্বারস্থ হন। এর পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় বিয়ে হল। কিন্তু, মোনালিসার এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ তাঁর প্রথম ছবির পরিচালক সনোজ মিশ্র।
আরও পড়ুন:
২০২৫ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভ মেলায় মোনালিসা ভাইরাল হয়েছিলেন তাঁর চোখের সৌন্দর্যের জন্য। খুড়তুতো বোনেদের সঙ্গে মেলায় ঘুরে ঘুরে মালা বিক্রি করছিলেন তিনি। তার পরে সমাজমাধ্যম প্রভাবীদের নজরে পড়েন। তার পর থেকেই তিনি ভাইরাল হন। সেই সময় মোনালিসাকে কুম্ভমেলা থেকে খুঁজে বার করেন সনোজ। তাঁকে রুপোলি পর্দার নায়িকা বানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁকে নিয়ে তৈরি করেন ‘দ্য ডায়রি অফ মণিপুর’। তাঁকে একাধিক সংস্থার প্রচারমুখ করে তোলেন। এমনকি মোনালিসাকে নাকি নিজের বাড়িতে রেখে পড়াশোনাও শুরু করান তিনি। কিন্তু, মোনালিসা যে হঠাৎ বিয়ে করে নেবেন, সেটা নাকি তিনি ভাবতে পারেননি। সনোজের দাবি, মোনালিসার কারণে তিনি অবসাদে ভুগছেন। তাঁর অভিযোগ, মোনালিসাকে নাকি ওই যুবক টাকার লোভে বিয়ে করেছেন।
সনোজের কথায়, ‘‘ওর গঙ্গার মতো বিশুদ্ধতা এবং প্রকৃতির মতো সৌন্দর্য আমার ভাল লেগেছিল। আজ মোনালিসা যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কোনও বিদ্রোহ নয়, আসলে এটা ‘লভ জিহাদ’। এর শিকার হল ও।’’ মাঝে একটা সময় ধর্ষণের অভিযোগে জেল খাটেন সনোজ। সেই প্রসঙ্গ টেনে পরিচালক বলেন, ‘‘মোনালিসা যেখানে বিয়ে করেছে, তারাই ষড়যন্ত্র করে ধর্ষণের অভিযোগ আনে আমার বিরুদ্ধে। যদি তদন্ত হয়, তা হলে এর নেপথ্যে তাদের নামই পাওয়া যাবে যারা আমাকে জেলে পাঠিয়েছিল।’’
সনোজ আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘‘মোনালিসাকে গঙ্গার সন্তান মনে করে নিজের পুরো জীবন উৎসর্গ করেছি, ১০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সিনেমা শেষ করেছি, তার সব খরচ বহন করেছি, তার জন্য জেলে পর্যন্ত গিয়েছি। এক ভিন্ধর্মের ছেলেকে বিয়ে করে সব নষ্ট করে দিল ও। যার জন্য এত কিছু করলাম, সে আজ আমাকে এমন অবস্থায় রেখে গিয়েছে যে, কাউকে মুখ দেখাতে পারছি না। ওর বাবা থানার সামনে একা বসে কাঁদছেন। আমি নিজেও বুঝতে পারছি না, কী করব!’’ নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করছেন সনোজ, তা হলে মোনালিসাকে খ্যাতির আলোয় আনাই কি ভুল হল তাঁর?