গত বার প্রয়াগের মহাকুম্ভে চমকে দিয়েছিলেন মমতা কুলকার্নি। ৯০-এর দশকের অভিনেত্রী হঠাৎই এই মহাকুম্ভে গিয়ে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, কিন্নর আখড়া থেকে পেয়েছিলেন মহামণ্ডলেশ্বর পদ। তার পরেই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক হয় বিস্তর। অপরাধজগতের সঙ্গে একসময় যোগাযোগে অভিযুক্ত মমতা আদৌ এই পদ পাওয়ার যোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তার জেরে গত বছর জানুয়ারিতেই পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। সেই পদত্যাগ এ বছর ২৭ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হল। কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, জানালেন মমতা।
আচার্য মহামণ্ডলেশ্বর লক্ষ্মীনারায়ণ ত্রিপাঠী ও কিন্নর আখড়ার প্রতিষ্ঠাতা ঋষি অজয় দাসের মধ্যে কলহের কারণেই নাকি মমতাকে সরে আসতে হয়েছিল ওই পদ থেকে। এই লক্ষ্মীনারায়ণের উপস্থিতিতেই নাকি গত বছর মমতাকে ওই পদ দেওয়া হয়েছিল। সেই পদ মমতার পাওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ঘটনা হল, মমতার সঙ্গে লক্ষ্মীনারায়ণকেও ওই পদ থেকে সরতে হয়েছে।
শোনা যায়, লক্ষ্মীনারায়ণের সঙ্গেও নাকি মমতার বিবাদ বাধে। যদিও নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরে মমতা স্পষ্ট করে দেন, তাঁর সঙ্গে লক্ষ্মীনারায়ণের কোনও বিবাদ নেই। দু’জনের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কই রয়েছে। আসলে তিনি নিজের আধ্যাত্মিক যাত্রায় অন্য কিছু চাইছেন। মমতা বলেন, ‘‘আমি ঈশ্বরকে কোনও আকারের মধ্যে বেঁধে রাখতে চাইছি না। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।’’
যদিও গত বছর মহামণ্ডলেশ্বরের পদ পাওয়ার পর অভিনেত্রী সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “সব কিছুই ঈশ্বরের হাতে। তাঁর কৃপাতেই আমি কুম্ভের মতো পবিত্র সমাগমে গিয়ে মহামণ্ডলেশ্বর হয়ে উঠতে পেরেছিলাম।” ২৫ বছর ধরে তপস্যা করার জন্যই এমন ফল পেয়েছেন বলে দাবি মমতা কুলকার্নির। তপস্যার ফলস্বরূপই মহামণ্ডলেশ্বর হতে পেরেছিলেন তিনি, দাবি অভিনেত্রীর।