অরিজিৎ সিংহের সঙ্গে সলমন খানের বচসা সকলেরই জানা। নিজের ছবিতে অরিজিতের গান রাখবেন না, জানিয়েছিলেন সলমন। ‘বজরঙ্গী ভাইজান’ ছবিতে প্রীতমের সুরে একটি গান গাওয়ার কথা ছিল অরিজিতের। যা হয়নি। শেষপর্যন্ত প্রকাশ্যে ক্ষমা চান অরিজিৎ। সম্পর্ক স্বাভাবিক হয় তাঁদের। এ বার গায়কের প্লেব্যাক থেকে অবসর ঘোষণার আগে মুক্তি পাওয়া শেষ গানের সঙ্গে নাম জুড়ল সলমনের।
মঙ্গলবার রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে অরিজিৎ জানান, সিনেমার গানে ইতি টানছেন অরিজিৎ। আর ছবিতে গাইবেন না তিনি। অন্য ধারার গানে নিজেকে ডুবিয়ে দিতে চান। শুনতে চান নতুন গায়ক-গায়িকাদের কণ্ঠ। তাঁদের দ্বারাই অনুপ্রাণিত হতে চান। সেই কারণেই সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। বাংলা ছবিতে গাওয়া তাঁর শেষ গান ছিল সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবির ‘ক্ষণে গোরাচাঁদ ক্ষণে কালা’ গানটি। তবে শীঘ্রই বড়পর্দায় তাঁর আরও একটি গান মুক্তি পাবে। ১৭ এপ্রিল সলমন খান অভিনীত ছবি ‘ব্যাটল অফ গলওয়ান’ মুক্তি পাচ্ছে। গত ২৬ জানুয়ারি সেই ছবির ‘মাতৃভূমি’ গানের ঝলক মুক্তি পেয়েছে, যাতে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ। অর্থাৎ কণ্ঠশিল্পী হিসাবে অবসর ঘোষণার আগে তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত গান এটিই। অরিজিতের এই সিদ্ধান্তে তাই জুড়ল সলমনের নাম। তবে এর পরেও অরিজিতের আরও কিছু গান মুক্তি পেতে পারে বলে নিজেই জানিয়েছেন গায়ক।
২০১৪ সালে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অরিজিৎ এবং সলমনের দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গায়ক হলেও অত্যন্ত সাধারণ মানের জীবনযাপনেই অভ্যস্ত অরিজিৎ। ওই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও সাদামাঠা পোশাকেই গিয়েছিলেন অরিজিৎ। মঞ্চে পুরস্কার নিতেও উঠেছিলেন সেই পোশাকেই। সেখানেই ঘটে ‘অঘটন’। সলমন অরিজিৎকে প্রশ্ন করেন তিনি দর্শকাসনে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কি না। আচমকা এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে অরিজিৎ উত্তর দেন, ‘‘আপনারাই তো ঘুম পাড়িয়ে দিলেন।’’ মঞ্চ থেকে নেমে দর্শকাসনে না বসে সোজা হাঁটা লাগিয়েছিলেন অরিজিৎ। তাতে আরও চটে গিয়েছিলেন সলমন। ভাইজানের মনে হয়েছিল, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে অপমান করছেন অরিজিৎ। তবে তেমন কোনও উদ্দেশ্য ছিল না অরিজিতের। সলমনকে পরে তা বুঝিয়ে বলার চেষ্টাও করেন তিনি। যদিও তাতে বরফ গলেনি। যদিও সে সব এখন অতীত। গত কয়েক বছরে অরিজিৎকে নিজের বন্ধুর আখ্যা দিয়েছেন সলমন।