সোমবার দিনভর চাপানউতর। মঙ্গলবার মিমি চক্রবর্তী বিস্ফোরক। আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে দাবি, আয়োজকের বাড়িতে বসেননি বলেই তিনি হেনস্থার শিকার! পাল্টা দাবি আয়োজকদেরও। তাঁরা জানিয়েছেন, অভিনেত্রী দেরিতে এসেছিলেন। তাঁদেরও প্রশাসনের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ে অনুষ্ঠান শেষ করতে হত। সেটাই করেছেন তাঁরা।
রবিবারের সন্ধ্যায় বনগাঁর গোপালগঞ্জ যুবক সংঘ ক্লাবের আয়োজনে জলসা বসেছিল। এসেছিলেন বাংলা বিনোদনদুনিয়ার তিন অভিনেতা— মিমি চক্রবর্তী, সম্রাট মুখোপাধ্যায় ও ঋত্বিকা সেন। কী ঘটেছিল সে দিনের জলসায়? বিষয়টি সবিস্তার জানিয়েছেন সম্রাট। তাঁর কথায়, “মিমির আগে আমার অনুষ্ঠান ছিল। ওঁর ঢুকতে দেরি হচ্ছিল। তাই আয়োজক তনয় শাস্ত্রী আমাকে একটি বেশি গান গাওয়ার অনুরোধ জানান।” সম্রাট সেই অনুরোধ রেখে মঞ্চ থেকে নামেন রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ। মঞ্চ থেকে গাড়িতে করে কিছুটা এগিয়ে দূর থেকে দেখতে পান, মিমি গাড়ি নিয়ে ঢুকছে। তখনও মঞ্চ থেকে অভিনেত্রীর গাড়ি বেশ কিছুটা দূরে। অভিনেতা এ-ও জানান, রাত বাড়তে থাকায় তিনি মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়ার পরে দর্শকের ভিড়ও হালকা হতে থাকে।
মিমির পরে বিষয়টি নিয়ে আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে মুখ খুলেছেন অন্যতম আয়োজক তনয়ও। তিনি এই ঘটনায় সরাসরি দায়ী করেছেন অভিনেত্রীকে। সাফ বলেছেন, “অনুষ্ঠানের টুকরো ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। ঝলকে কোথাও কি দেখা গিয়েছে, আমি মিমি চক্রবর্তীর সঙ্গে কোনও খারাপ ব্যবহার করেছি?” তাঁর দাবি, মিমির আসার কথা ছিল রাত সাড়ে ১০টায়। তিনি এসে পৌঁছোন রাত পৌনে ১২টায়। ফলে, মিনিট ১৫ পরে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে অনুষ্ঠান শেষ করতে বাধ্য হন তিনি।
মিমির বিরুদ্ধে তনয়ের আরও অভিযোগ, “আমরা ওঁকে সংবর্ধনা জানাতে চেয়েছিলাম। তিনি সেটাও নেননি! বদলে ঔদ্ধত্য দেখিয়েছেন। এখন পাল্টা দোষারোপ করছেন। থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নানা জায়গা থেকে মিমির কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে আমাকে।” আয়োজকের পাল্টা প্রশ্ন, “আমি তো কিছুই করিনি। তা হলে ক্ষমা চাইব কেন?” তিনি বলেছেন, “আমার উপরে যে ভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তাতে আমার বা আমার পরিবারের সঙ্গে যদি কিছু হয়, তার সম্পূর্ণ দায় মিমি চক্রবর্তীর।” এ-ও বার্তা দেন, প্রয়োজনে তিনিও অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করবেন।
পুরো ঘটনার জন্য অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক দায়ী করছেন অভিনেত্রী মিমিকে। সেই কথা কি তাঁর কানে গিয়েছে? জবাবে মিমি বলেছেন, “হ্যাঁ, কিছু জায়গায় শুনছি। কিছু সংবাদমাধ্যমেও দেখানো হয়েছে।” তিনিও তাঁর বক্তব্য জানিয়েছেন। মিমি দেখেছেন, এ রকম অবাঞ্ছিত কিছু ঘটলে তার দায় অভিনেতাদের ঘাড়ে এসেই পড়ে। তাই অনুষ্ঠান করতে আসা অভিনেতারা ভয়ে চট করে মুখ খোলেন না। মিমির কথায়, “প্রচুর মঞ্চানুষ্ঠান করেছি। এখনও করি। নিয়মিত অভিনয়ও করি। কোথাও দেরিতে যাই না। তা হলে এই অনুষ্ঠানেই বা দেরিতে যাব কেন?” তাঁর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, আয়োজক সব ভিডিয়ো ছাড়েননি। তিনি মঞ্চে ওঠার আগে এক জন শিল্পী গাইছিলেন। তিনি গাড়িতে বসে তাই অপেক্ষা করছিলেন। আয়োজক কিন্তু সেই ভিডিয়ো ছাড়েননি!
আরও পড়ুন:
এর পরেই মিমির বিস্ফোরক দাবি, “ওঁর বাড়িতে বসা হয়নি বলেই অত রাগ!” মিমির এই কথাপ্রসঙ্গে সম্রাট বলেন, “অনেক জায়গায় উদ্যোক্তারা শিল্পীদের নিজের বাড়িতে বা ক্লাবে বসান। অতিথি আপ্যায়ন করেন। তার পর মঞ্চে নিয়ে যান। রবিবার তনয়ও আমাদের এ ভাবেই আপ্যায়িত করেছিলেন। আমি, ঋত্বিকা ওঁর বাড়িতে বসেছিলাম। তার পর মঞ্চে যাই।” মিমি সম্ভবত সেই আপ্যায়ন অগ্রাহ্য করেছিলেন। তনয় তাই সোমবার সংবাদমাধ্যমে জানান, মিমিকে তাঁরা বাকি শিল্পীদের মতো সংবর্ধনা জানাতে পারেননি। যদিও অভিনেত্রীর দাবি, মঞ্চে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়েছিল। তিনি সেই সম্মান গ্রহণও করেছিলেন। উদ্যোক্তাদের এক জন সেই ছবি পরে সমাজমাধ্যমে তাঁকে ট্যাগ করে ভাগ করে নেন।
অভিনেত্রী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে কী ভাবে আইনি পদক্ষেপ করা যায়, খতিয়ে দেখছেন তাঁর আইনজীবীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ইমেল মারফত অভিনেত্রী প্রাথমিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেই অনুযায়ী প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ দায়েরের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিনেত্রী সই করলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।