প্রয়াত প্রশান্ত তামাং। ২০২৪ সালে ‘পাতাললোক ২’ ওয়েব সিরিজ়ে খলচরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলেছিলেন। পাশাপাশি, ‘ইন্ডিয়ান আইডল ৩’-এর বিজেতা বলেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নেপালি গায়ক তথা অভিনেতার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ বিনোদনজগৎ।
প্রশান্তের বয়স হয়েছিল ৪৩। রবিবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ দিল্লির দ্বারকা এলাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। অরুণাচল প্রদেশে একটি গানের অনুষ্ঠান শেষ করে তিনি দিল্লিতে এসেছিলেন। তাঁর কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল না বলেই জানা গিয়েছে। তাই প্রশান্তের মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত তাঁর পরিবার ও অনুরাগীরা। কী ভাবে মৃত্যু হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
১৯৮৩ সালের ৪ জানুয়ারি দার্জিলিঙে জন্ম প্রশান্তের। দার্জিলিঙেই থাকতেন তিনি। কলকাতা পুলিশে একসময় কাজও করতেন। তার পরে ‘ইন্ডিয়ান আইডল ৩’-এ সুযোগ পান ও জয়ী হন। ‘পাতাললোক ২’-এর খাতিরে ফের মানুষের মন জয় করেছিলেন। তবে পাকাপাকি ভাবে মুম্বইয়ে থাকেননি কখনওই। দার্জিলিঙে স্ত্রী ও কন্যার সঙ্গে থাকতেন।
প্রশান্তের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত ও জাতীয়স্তরে পরিচিত শিল্পীর আকস্মিক ও অকালমৃত্যুতে গভীর ভাবে শোকাহত। উনি দার্জিলিঙের ভূমিপুত্র এবং একসময়ে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি বাংলার মানুষের কাছে বিশেষ ভাবে প্রিয় ছিলেন। ওঁর পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও অনুরাগীদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।”
সাক্ষাৎকারে একসময়ে বলেছিলেন, “কলকাতা পুলিশে এক সহকর্মী ছিলেন। ওঁর কাছেই বাংলা শিখতাম। আর আমি ওঁকে নেপালি ভাষা শেখাতাম। পুলিশের চাকরি করার সময়েই আমার সহকর্মীরা গানে উৎসাহ দিতেন। তার পর এক দিন গিয়ে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর অডিশন দিই।” নেপালে নিয়মিত ছবিতে অভিনয় করতেন এবং দেশবিদেশে গানের অনুষ্ঠান করতেন।