Advertisement
E-Paper

শুটিং না করেই লক্ষাধিক টাকা দাবি, ফের কাঠগড়ায় জীতু! অভিনেতা পাল্টা দ্বারস্থ ফেডারেশনের?

এর আগেও ‘এরাও মানুষ’ ছবির প্রযোজক সাঁইপ্রকাশ লাহিড়ি আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, জীতু সময় দিচ্ছেন না। তিনি ছবি শেষ করতে পারছেন না।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৬
জীতু কমল কি আবার সমস্যায় জড়ালেন?

জীতু কমল কি আবার সমস্যায় জড়ালেন? ছবি: ফেসবুক।

ফের জীতু কমলকে কাঠগড়ায় তুললেন ‘এরাও মানুষ’ ছবির প্রযোজক-পরিচালক সাঁইপ্রকাশ লাহিড়ি। মঙ্গলবার সকালে তিনি আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে অভিযোগ জানান, “ছবি শেষ করার জন্য জীতুকে আরও দু’দিন প্রয়োজন ছিল আমাদের। তার জন্য বার বার আমরা ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি। ১৫ এবং ১৬ মার্চ শুটিংয়ের জন্য তারিখ দেন জীতু।” কিন্তু অভিনেতা কথা রাখেননি। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুটিংও করেননি। উল্টে লক্ষাধিক টাকা দাবি করেছেন!

এর পরেই প্রযোজক বাধ্য হয়ে ছবি থেকে জীতু কমলকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ‘বডি ডাবল’ ব্যবহার করে বাকি শুটিং শেষ করেন। জীতুকে দিয়ে ডাবিং করাবেন না, এমনও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সেই অনুযায়ী, প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে জীতুকে তাঁর সমস্ত পারিশ্রমিক মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

খবরটি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই বিস্ফোরক জীতু। শুটিংস্থলের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এনে তিনি পাল্টা দাবি করেছেন, তাঁকে টেকনিশিয়ানদের সামনে অযথা অপমান করেছেন প্রযোজক। কটু কথা বলেছেন! যার জেরে শুটিং না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জীতুর ভাগ করে নেওয়া ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “প্রকাশবাবুকে আমার কাছে এমনিতেই ক্ষমা চাইতে হত। আর এই অপমানের জন্য তাঁকে টেকনিশিয়ানদের সামনে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ, তিনি সবার সামনে অপমান করেছেন।” ওই ভিডিয়োয় তাঁকে আরও বলতে শোনা গিয়েছে, “আমাদের কি ফোরাম, গিল্ড নেই! আমরা কি নালিশ করতে পারি না?”

সবিস্তার জানতে আনন্দবাজার ডট কম ফোন এবং হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা মারফত যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল জীতুর সঙ্গে। অভিনেতা সব মাধ্যমেই অধরা। বদলে সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য ভাগ করে নিয়েছেন। প্রযোজককে উদ্দেশ করে বার্তায় লিখেছেন, “আপনি ফ্লোরে ভাল কাজ করেছেন প্রকাশবাবু। আপনি ভবিষ্যতেও খুব ভাল কাজ করবেন। কিন্তু আপনার টাকার অহঙ্কার আপনার একটা ত্রুটি। টাকা দিচ্ছেন বলে মানুষকে কুকুর-বিড়াল ভাবা, এটা একটু বন্ধ করতে হবে।” অভিনেতার মতে, প্রথম সারির এমন অনেক প্রযোজক টলিউডে কাজ করেন, যাঁরা সাঁইপ্রকাশ লাহিড়ির মতো চার-পাঁচ জনকে কিনে নিতে পারেন। তাঁরা কিন্তু প্রত্যেকে অত্যন্ত বিনয়ী। অভিনেতাদের যথাযথ সম্মান দেন। কারণ তাঁরা জানেন, টাকা আজ আছে, কাল থাকবে না।

দুই পক্ষের বিবাদ চরমে এর পরেই। ক্ষুব্ধ প্রযোজকের নতুন অভিযোগ, শুটিংস্থলের ওই বচসা গোপনে ক্যামেরাবন্দি করেছেন জীতু! সেখানে জীতু এবং আরও একজনের কণ্ঠস্বর শোনা গিয়েছে। তিনি ছবির সহ-পরিচালক অমিত তালুকদার। সাঁইপ্রকাশের কথায়, “কারও অনুমতি না নিয়ে জীতু গোপনে ওই ভিডিয়োটি করেছেন। এবং আমাদের অনুমতি ছাড়াই সেটি সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন! আমাদের একবার জানানোর প্রয়োজনও মনে করলেন না।” সহ-পরিচালকও বিষয়টি নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানিয়েছেন। অমিত বলেছেন, “আমি সেই সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। প্রকাশবাবুর সঙ্গে কী নিয়ে বচসা, তা-ও জানি না। উনি শুটিংয়ে আসছেন না দেখে আমি ওঁর কাছে যাই। ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমা চেয়ে যদি ওঁকে কাজে ফেরানো যায়, সেই কারণে। পরে শুনি, প্রকাশবাবু কোনও কটু কথা জীতুকে বলেননি।” তাঁর আরও বক্তব্য, তিনি প্রযোজনা সংস্থার হয়ে নয়, ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষমা চেয়েছিলেন অভিনেতাকে শান্ত করতে। এতে যদি সুষ্ঠু ভাবে শুটিং শেষ হয়। এখন তিনি জীতুর ভাগ করে নেওয়া সে দিনের পোস্ট দেখে বিস্মিত! অমিত ভাবতে পারেননি, জীতু বা তাঁর তরফের কেউ এ ভাবে গোপনে বচসার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করছেন।

‘এরাও মানুষ’ ছবির শুরু থেকেই জীতু কমলের সঙ্গে সমস্যা প্রযোজক-পরিচালকের। সে কথা এর আগে একাধিক বার সাক্ষাৎকারে আনন্দবাজার ডট কম-কে জানিয়েছেন তিনি। সাঁইপ্রকাশ এ দিন আরও বলেন, “শুটিং করতে করতে মাঝে জীতু অসুস্থ হয়ে পড়েন। সুস্থ হয়ে উনি অন্য সব কাজ করেছেন। কেবল আমাদের ছবির শুটিং ছাড়া!” তাঁর আরও দাবি, অভিনেতার জন্য দিনের পর দিন বাড়তি পয়সা গুনে ধান্যকুড়িয়ায় সেট আটকে রাখতে হয়েছে তাঁদের। শেষে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের সহায়তায় ফের কয়েক দিনের শুটিং করেন জীতু। শেষে গান-সহ মাত্র দু’দিনের শুটিংয়ের তারিখ নাকি আর কিছুতেই দিচ্ছিলেন না অভিনেতা।

অনেক অনুরোধ-উপরোধের পর ১৫ এবং ১৬ মার্চ শুটিংয়ের জন্য প্রযোজক সাঁইপ্রকাশকে সময় দেন জীতু। প্রযোজকের অভিযোগ, অভিনেতা ১৫ মার্চ সকালে শুটিং করলেও বিকেলে কাজ করেননি। অথচ সে দিন বিকেলে একটি গানের দৃশ্যের শুট হওয়ার কথা। তার জন্য একটি লঞ্চকে সকাল থেকে সাজিয়েগুছিয়ে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ১৬ মার্চ প্রযোজকের সঙ্গে বচসা বাধে অভিনেতার। সেই অজুহাতে তিনি গোটা দিন শুটিং করেননি। অথচ, ডাবিং ছাড়া বাকি পারিশ্রমিক নিয়েছেন। এর পরেই ছবি থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রযোজক সাঁইপ্রকাশ।

বিষয়টির নিষ্পত্তি চেয়ে প্রযোজক সাঁইপ্রকাশ কি আর্টিস্ট ফোরাম বা ফেডারেশনকে কিছু জানিয়েছেন?

জবাবে প্রযোজক বলেছেন, “আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাদের লিখিত অভিযোগ মেল করতে বলেছেন। আমরা সেটা করেছি।” এই বিষয়ে শান্তিলালবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। ওঁরা লিখিত অভিযোগ পাঠিয়ে থাকলে আমরা উভয়পক্ষকেই বৈঠকে ডাকব। তার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” একটি ছবিকে ঘিরে প্রযোজক-অভিনেতার বার বার বিবাদে জড়িয়ে পড়া কতটা কাম্য? এই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটা কাম্য নয়, সে কথা মেনে নিয়েছেন আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদকও। তাঁর কথায়, “মিলেমিশে কাজ না হলে কোনও কাজ সুষ্ঠু ভাবে হয় না। কাজের স্বার্থেও আমাদের সহাবস্থানের প্রয়োজন।”

খবর, চুপ করে বসে নেই জীতুও। তিনি ইতিমধ্যেই ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপকে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন। সে কথা জানতে চাইতেই স্বরূপবাবু বলেন, “হ্যাঁ, জীতু আমায় মৌখিক ভাবে ঘটনাটি জানিয়েছেন। ওঁকে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলেছি। জীতু এখনও সেই লিখিত অভিযোগ পাঠাননি। পাঠালে সংগঠন দুই পক্ষকে নিয়ে অবশ্যই আলোচনায় বসবে।”

Erao Manush Jeetu Kamal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy