পদ্মশ্রী পাচ্ছেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। প্রসেনজিৎ ছাড়াও বাংলা থেকে চলতি বছরে এই সম্মান পাচ্ছেন আরও ১০ জন।
সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবস। প্রথামতো তার আগের দিন, রবিবার ঘোষণা করা হল ২০২৬ সালের পদ্মসম্মানের তালিকা। সাহিত্য, শিল্প, খেলা, চিকিৎসা, কৃষিকাজ— নানা পেশার মানুষকেই পদ্মসম্মান দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশ থেকে মোট ১৩১ জনের নাম রয়েছে তালিকায়।
গত বছর এই সম্মান পেয়েছেন অরিজিৎ সিংহ, মমতাশঙ্কররা। যদিও পদ্ম বিভূষণ ও পদ্মভূষণের তালিকায় এ বার বাংলা থেকে কারও নাম নেই।
২০২৬ সালে শিল্পকলায় বিশেষ অবদানের জন্য পদ্মশ্রী পাচ্ছেন নাট্যব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়, তাঁতশিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ, তবলাবাদক কুমার বসু, কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়, সন্তুর বাদক তরুণ ভট্টাচার্য। শিক্ষা ও সাহিত্য থেকে পেয়েছেন শ্রী অশোক কুমার হালদার, এছাড়াও গম্ভীর সিংহ ইয়নজন, মহেন্দ্রনাথ রায় ও রবিলাল টুডু। চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য পাচ্ছেন হৃদ্রোগের চিকিৎসক সরোজ মণ্ডল।
তখন তাঁর বয়স মাত্র ছয়, প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। ষাটের দশকে হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’-তে শিশু শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। তার পর আশির দশক থেকে সিনেমায় কাজ শুরু। ১৯৮৭ সালে ‘অমর সঙ্গী’ ছবির মাধ্যমে সেই অর্থে নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু। দীর্ঘ ছয় দশক ধরে তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন। যদিও কেরিয়ারের শুরু সময় থেকে বলিউডে প্রস্তাব পেয়েছিলেন।অভিনেতার দাবি, তিনি বাংলা ছেড়ে যেতে চাননি। ২০১২ সালে ‘সাংহাই’ ছবির মাধ্যমে শুরু হয় তাঁর বলিউড সফর। এই মুহূর্তে বলিউড টলিউড দুই ইন্ডাস্ট্রিতেই সমান তালে কাজ করছেন।
মরণোত্তর পদ্মসম্মানে ভূষিত হলেন প্রখ্যাত নাট্য ব্যক্তিত্ব হরিমাধব মুখোপাধ্যায়। দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটনিবাসী হরিমাধব ১৯৬৯ সালে তৈরি করেন ত্রিতীর্থ নাট্যদল। সেখানেই তাঁর নির্দেশনায় ‘দেবাংশী’, ‘গ্যালিলিও’, ‘রক্তকরবী’-সহ বহু নামী নাটক রসিক মহলে সাড়া ফেলে দেয় একসময়। তাঁকে বালুরঘাটের নাট্য আন্দোলনের দিশারী বলা হয়ে থাকে। গত বছর তাঁর মৃত্যু হয়।
৭২ বছর বয়সি তবলা শিল্পী কুমার বসু আন্তর্জাতিক সঙ্গীত ক্ষেত্রে উজ্জ্বল একটি নাম। বাবা বিশ্বনাথ বসুর কাছেই তবলায় প্রাথমিক পাঠ। গানের উত্তরাধিকার পেয়েছেন সেতারশিল্পী মা ভারতী বসুর থেকেও। বেনারস ঘরানার এই শিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্কর-সহ বহু শিল্পীর সঙ্গে দেশবিদেশে তবলায় সঙ্গত করেছেন।
প্রবীণ সন্তুরশিল্পী তরুণ ভট্টাচার্য স্নাতক শেষ করে পণ্ডিত রবিশঙ্করের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। পদ্মশ্রী সম্মান পাওয়ার আগে ২০১৮ সালে সঙ্গীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার পয়েছেন তিনি।
বীরভূমনিবাসী কাঁথাশিল্পী তৃপ্তি মুখোপাধ্যায়। শিল্পকলা বিভাগে এই সম্মাননা পেলেন তিনি। এর আগে বঙ্গশ্রী পুরস্কার, জাতীয় পুরস্কার এবং কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রকের তরফে ‘শিল্পগুরু’ পুরস্কারেও ভূষিত হয়েছেন তিনি।
জ্যোতিষ দেবনাথ পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার নামী তাঁতশিল্পী। বাংলার বিলুপ্তপ্রায় মসলিন ও জামদানি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজের জন্য এর আগে একাধিক সরকারি স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। তাঁর কাজ সূক্ষ্ম কারুকার্য ও ঐতিহ্যবাহী নকশার জন্য পরিচিত।
সাহিত্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অশোককুমার হালদার এই সম্মাননা পাচ্ছেন। সাঁওতালি সাহিত্য ও শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকার জন্য এই সম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে মালদহনিবাসী এই সাহিত্যিককে।
রসায়নের অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ রায়ের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে মৌলিক গবেষণায়। শিক্ষাক্ষেত্রে এই সম্মাননা পাচ্ছেন তিনি।
সাঁওতালি সাহিত্যে অবদানের জন্য এই সম্মাননা পাচ্ছেন রবিলাল টুডু। এর আগে বিরসা মুন্ডার জীবনী নিয়ে লেখা বই ‘বীর বিরসা’ তাঁকে প্রচারের আলোয় আসেন। ২০১৫ সালে তিনি সাহিত্য অকাডেমি পুরস্কার পান।
সরোজ মণ্ডল কলকাতার পরিচিত এবং অভিজ্ঞ এক হৃদ্রোগ চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি কলকাতার একটি হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান।