Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

মেঘসেলফি বর্ষাপোস্ট

মেঘদূতের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ না কী যেন! কিন্তু বৃষ্টি পড়লে প্রেমের কাছে ছুটে যাওয়ার যে আকুতি, সেটা তো চিরন্তন! লিখছেন শ্রীজাতমেঘের মুশকিল হল এই

০৬ জুলাই ২০১৬ ০০:০০
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

মেঘের মুশকিল হল এই, তাকে কিছুতেই রিটুইট করা যায় না। জানলায় বসে একতরফা সমর্থন জানানো যায় ঠিকই, কিন্তু একটা ক্লিকে ছড়িয়ে দেওয়া যায় না দেওয়ালময়। সে এখনও সেই কালিদাসের আমলের মতোই এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভেসে ভেসে ঘুরে বেড়ায়, যেখানে যখন বর্ষার ফোরকাস্ট, সে টাইম টেবিল মিলিয়ে ঠিক হাজির হয়ে যায়। ছাদের কিনারে দাঁড়িয়ে তাকে জড়ো হতে দেখলে স্ক্রিনজোড়া ছবি তুলে শেয়ার করে দিই ঝটপট, তারপর যখন বৃষ্টি নামে ঝমঝম, তখন ফোঁটার বদলে লাইক গুনেই কেটে যায় আষাঢ়ের বেলা। কমেন্টের খোপে টাটকা কবিতার বান ডাকে, আমরা মেঘকে চলে যেতে দিই ছাদ ছাড়িয়ে। হাত থেকে ফোন ছাড়ি না। পেগ যেভাবে ধরে রাখা যায়, মেঘ তো তেমনভাবে যায় না।

এই রকম এক বাদলা দিনে সুনীল বেরোলেন রাস্তায়। আপাতত সুনীলের সিগারেট শেষ। তিরিশের সুনীল, রাগী যুবক সুনীল, মাথায় লেখা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো সুনীল। আজ থেকে ৫৫ বছর আগের এক ভবঘুরে, যিনি মিথ হবেন ভবিষ্যতে। আপাতত কেবল সুনীল গাঙ্গুলি, তেজী যুবক, লিখছেন টিখছেন, তেমন ছাপছে না এখনও কেউ। টিউশন পড়াতে যাবেন সেই দক্ষিণে, গড়িয়াহাটের কাছে। তারপর কাগজের আপিসে কপি লেখা মাঝরাত অব্দি। দুপুর থেকেই টিপটিপ চলছে, এখন যেন আরেকটু বাড়ল। ছাতাটাতা নেওয়া কোনও কালেই অভ্যেস ছিল না, আজও নেই। টিউশন পড়াতে যাবেন শেষমেশ? নাকি খালাসিটোলার দিকেই... কমলবাবু নির্ঘাত এতক্ষণে এসে গিয়েছেন! দোটানায় পড়লেন সুনীল। পকেটে একটা আধুলি। টস হয়ে যাক। হেড হলে টিউশন, টেল হলে... টেলই হল, তবে কিনা কয়েনটা গিয়ে পড়ল এক কমবয়সিনীর হাতের পাতায়।

মেয়েটি রাস্তা পেরোচ্ছিল একটু আগেই। কত হবে, বড়জোর বছর তেইশ? গা থেকে কলেজের গন্ধ যায়নি, জিনস থেকে অভিমান। পকেট থেকে একটা চৌকোমতো যন্ত্র উঁকি মারছে, তাতে সময় লেখা ৫টা ১৭। কারেক্ট টাইম। ভাগ্যিস সুনীল ঠিক তার নীচে ছোট অক্ষরে লেখা সালটা দেখতে পাননি।

Advertisement

‘এখানে দাঁড়িয়ে একা টস করছেন যে? একটু হলে চাপা পড়তেন, জানেন?’ কয়েন ফেরত দিয়ে রেগেমেগে বলল মেয়েটি। দিব্যি দেখতে, চোখে চশমা, হাতে ছাতা। বৃষ্টিটা তোড়ে নামল এইবার। সেন্ট্রাল এভিনিউ-এ বৃষ্টি দেখতে কার না ভাল লাগে, বিশেষত সে যদি বেকার যুবক হয়। দুজনে মিলে রাস্তার একধারে সরে এলেন, মেয়েটি তার ছাতায় আড়াল করল সুনীলের উস্কোখুস্কো মাথা। ‘আপনি বুঝি এদিকেই কোথাও...’ ভদ্রতার খাতিরে কথা বাড়ালেন সুনীল। ‘প্রেসিডেন্সি, সেকেন্ড ইয়ার। তাড়াতাড়ি ছুটি হয়ে গেল আজ। এরকম একটা দিন, ভাবলাম একটু হ্যাং আউট করি’। মাথার ওপর দিয়ে একটা ইয়া বড় মেঘ ভেসে গেল, সহস্র বছর পুরনো।

সুনীল বেখেয়ালে আউড়ে উঠলেন, ‘আমাকে টান মারে রাত্রিজাগা নদী, আমাকে টানে গূঢ় অন্ধকার...’ মেয়েটির কানে গেল। ‘যা বলেছেন, বড্ড অন্ধকার এই জায়গাটা। আপনি কোন দিকে যাবেন? একসঙ্গে একটা ক্যাব নেওয়া যায়?’ মেয়েটিকে না বলার আগেই সে একটি গনগনে হলুদ যান ধরে বসল, এবং হাত টেনে সুনীলকেও তুলে নিল। বেশ অন্য রকম বলতে হবে! এমন তো মেয়েরা এ দেশে করে না সচরাচর। সুনীল অবশ্য বিদেশের কথা জানেন না, কলকাতার বাইরে তাঁর কোনও দেশ নেই। আর ফুটপাত বদল করতে গিয়ে যে সময়ের পাল্লা টেনে সরিয়ে ফেলেছেন, সে কথা তো তখনও বোঝেননি তিনি।

‘এ রকম ফতুয়া কোত্থেকে পেলেন বলুন তো? আমার দাদু পরতেন। হাউ ট্রেন্ডি, না?’ ট্যাক্সির জানলায় ঝামরে পড়ছে বৃষ্টির জল, বাইরের কলকাতা জলছবি। সুনীলের পকেটে মেরে কেটে টাকা চারেক আছে, তিনি আর বৃষ্টির দিকে তাকাচ্ছেন না।

‘আমি দিচ্ছি বস’ বলে মেয়েটি তার পার্স থেকে একশো টাকার একটা নোট বার করে ড্রাইভারকে দিল, তারপর সুনীল যেখানে নামলেন, সেটা অন্য কলকাতা। ৫৫ বছর পরের প্রিয় শহর। পার্ক স্ট্রিট এক হপ্তায় এত পাল্টে গেল? এখানে কোনও দিন মদ খাননি সুনীল, এসব তাঁর স্বপ্নের বাইরে, কিন্তু এসেছেন কয়েকবার। এ কী আশ্চর্য গতিময় জেল্লা পেয়েছে এলাকাটা! মোটে সাত দিনে। ভাবা যায়?

তখনও স্বাতীর সঙ্গে দেখা হয়নি সুনীলের, দেখা হয়নি মার্গারিটের সঙ্গেও। প্রেমে র সঙ্গে মোলাকাত হয়ে যায়নি প্রকাশ্যে। কেবল কবিতায় তাড়া করেছেন তাকে, খুঁজে বেড়িয়েছেন। পাননি। ট্যাক্সি থেকে নেমে আবছা ভেজা পার্ক স্ট্রিটের চার মাথার মোড়ে দাঁড়িয়ে সুনীল ভাবছেন কীভাবে মেয়েটিকে বলা যায় যে তাঁর তাড়া আছে, এমন সময়ে মেয়েটি তাঁর হাত মুঠো করে, ‘চলো, আমার বন্ধুদের সঙ্গে তোমার আলাপ করিয়ে দিই’ বলে একটা পাব-এর দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ল। বাইরে প্লাস্টিক চাপা দেওয়া ম্যাগাজিন, সুনীল তাই সালটা পড়তে পারলেন না।

‘এ হল রোহিত, এ মোহিনী, এ আসমা আর ও হচ্ছে কামাল। এই দ্যাখো, আমার নামটাই বলা হয়নি। হাই, আমি শিঞ্জিনী’। আধভেজা নরম হাতটা হাতে নিয়ে করমর্দন সেরে সুনীল নিজের পরিচয় দিলেন। ‘আজ আমাদের মনসুন সেলিব্রেশন, কামাল ভাল জব অফার পেয়েছে, ও খাওয়াবে। তুমিও ইনভাইটেড’। বলল শিঞ্জিনী। সুনীল এক রকম বাধ্য হয়ে বসতে বসতে ভাবলেন, ছেলেমেয়েগুলো কেমন যেন খোলা জানলার মতো, বিছানা ভিজছে দেখেও যে পাল্লা বন্ধ করে না। নইলে একজন অচেনা মানুষকে এভাবে কেউ আপ্যায়ন করে?

পাব-এর জানলার বাইরে সন্ধে ছ’টার রং-ঝলমলে পার্ক স্ট্রিট গলে যাচ্ছে আষাঢ়ের বৃষ্টি লেগে। সুনীল একটা অন্য সময়ে এসে পড়েছেন, রুমালের হাতসাফাইয়ে তাঁর তারিখ বদল হয়ে গিয়েছে সেই কখন। মেঘেরা এসব ম্যাজিক জানে। ২০১৬-র এই বৃষ্টিবিকেল তাঁর হাতঘড়িতে কোনও ছায়া ফেলছে না।

যে যার মতো পানীয় অর্ডার করে শুরু হল তুমুল আড্ডা। সুনীল কিছুক্ষণ চুপ থেকে খেয়াল করলেন, এদের ভাব, ভঙ্গি, ভাষা, সবই কেমন যেন আলাদা। সব চাইতে আলাদা, ভাবনা। এরা কেউ একবারও বাইরে নেমে ভেজার কথা বলল না। সন্দীপন বা শরৎ হলে এতক্ষণে বাইরের রাস্তায় একটা কাণ্ড বেধে যেত। কাণ্ড একটা সুনীলের মনেই বাঁধল, যখন শিঞ্জিনী তার জিনসের পকেট থেকে চৌকোমতো জিনিসটা বার করে সামনে রাখল।

‘কী এটা’? সুনীল প্রশ্ন করতেই সবাই মুখ চাওয়াচাওয়ি। ‘মানে? তুমি মোবাইল ফোন দ্যাখোনি?’ সুনীল গ্রাম থেকে আসা ছেলে, কিন্তু শহুরেপনায় কম যান না। ততক্ষণে তারিখটা তাঁর চোখে পড়েছে। ভবিষ্যৎ। ৫৫ বছর পরের ভবিষ্যৎ। ছেলেমেয়েগুলো পাল্টে গিয়েছে, পার্ক স্ট্রিট পাল্টে গিয়েছে। বর্ষাকাল কেবল তার বৃষ্টি নিয়ে একই রকম রয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামলে নিয়ে পাল্টা প্রশ্নে মাতলেন সুনীল। ‘বৃষ্টি পড়লেই তোমরা এরকম আড্ডা দাও? ‘পাগল নাকি’ উত্তর দিল আসমা ‘সামনে অনেক ঝ্যাম আছে কাকা, অত আড্ডা দিলে চাপ আছে’।



প্রায় সমবয়সি একটি মেয়ে তাঁকে অবলীলায় ‘কাকা’ বলে ডেকে দিল। একটু খারাপই লাগল সুনীলের। তবে এদের প্রকাশভঙ্গি বেশ ইন্টারেস্টিং। উৎপলকে এনে শোনাতে পারলে সে বেশ একখানা কবিতায় লাগিয়ে দিত এসব। ‘তা আড্ডা না দিতে পারলে কী করো? খারাপ লাগে না?’ ‘ডেফিনিটলি লাগে’ এবার মুখ খুলল রোহিত, ‘কী করব তখন, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে আমাদের একটা, সেখানে আড্ডা মারি, আর কী’। ‘আর থেকে থেকে বৃষ্টির ছবি পোস্ট করি’ বলে উঠল কামাল।

সুনীল বোঝার চেষ্টা করে চলেছেন ব্যাপারগুলো, কিন্তু কমলকুমারের গদ্যের চেয়ে কম কঠিন কিছু নয়। এর মধ্যে পেগ শোভা পাচ্ছে টেবিলে, মেঘ আকাশে। ‘বাকি সময়টা?’ সুনীলের মুখ থেকে প্রশ্নটা এমনিই বেরিয়ে এল। ‘ফেসবুক আছে কী করতে? ভাগ্যিস মার্ক জুকেরবার্গ ছিল, বল? তোমার অ্যাকাউন্ট নেই?’ সুনীল ওদের বুঝতে দিলেন না যে প্রশ্নটা উনি বুঝতেই পারেননি। একটা বড় চুমুক লাগাচ্ছেন, এমন সময় কামাল বলল, ‘ওদের ভাট বকায় কান দিও না গুরু, সব ছুপা কেস। হেব্বি পড়াশুনো করে, বাইরে বলে না’। ‘তাই?’ সুনীল নিজের বোঝার আওতায় একটা কিছু পেলেন। ‘তা কী পড়? নভেল?’ সকলেই হাত তুলল, নভেল তারা পড়ে। ‘তাহলে কার পছন্দের নভেল কী, শুনি একটু?’ পরপর পাঁচটা নাম এল। ‘সান অব ইক্ষাকু’, ‘পার্থিব’, ‘ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ার্স অফ সলিটিউড’, ‘ফাইভ পয়েন্ট সামওয়ান’, আর ‘সেই সময়’। একটার নামও সুনীল শোনেননি। কেউ জিগ্যেস করার আগেই ‘ডন কিহোতে’ বলে আরেক পেগ অর্ডার দিলেন তিনি।

‘আর বাংলা কবিতা?’ তিন পেগের পর ভয়ে ভয়ে প্রশ্নটা করলেন সুনীল। দুটো নাম তিনি চিনতে পারলেন, এবং খুশি হলেন। শঙ্খ ঘোষ আর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বাহ! লোকে তাহলে অত দিন পরেও পড়বে। বাকি তিনটে নাম অচেনা, ভাস্কর চক্রবর্তী, জয় গোস্বামী, জয়দেব বসু। এঁরা নিশ্চয়ই ভবিষ্যতের কবি, ঠিক দেখা হয়ে যাবে কোথাও। ভাবলেন সুনীল। এরই মধ্যে শিঞ্জিনী বলল, ‘আমার কিন্তু শ্রীজাত’র একটা কবিতা খুব ভাল্লাগে, ওই যে রে, বল না!’ বলে কামালের দিকে তাকাতেই সে ফোন খুলে ‘ডিপ্রেশন’ বলে একটা কবিতার চার লাইন পড়ে শুনিয়ে দিল। ‘ইয়েস!’ চেঁচিয়ে উঠল শিঞ্জিনী। সুনীল ভাবলেন, শক্তি এখানে থাকলে কী খেপেই না যেত! এটা কবিতা হয়েছে? কে জানে বাবা, এই কবির সঙ্গেও হয়তো আলাপ হবে বুড়ো বয়েসে গিয়ে। বাইরে বৃষ্টিটা হয়েই চলেছে। কমবয়সি একটা সময়ের সঙ্গে পানশালায় বসে আছেন বিস্মিত সুনীল। সময় কি এতটাই অন্য রকম হয়ে যাবে তাহলে? মানুষ হাতের ফোন থেকে পাশের মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেবে? মন থেকেও দেবে নিশ্চয়ই! হঠাৎ ঈষৎ টিপসি শিঞ্জিনী সুনীলের বেখাপ্পা চুল আরও ঘেঁটে দিয়ে বলল, ‘আমার বন্ধু হবে?’ শিঞ্জিনীর চোখে যেন ওয়াই-এর মেঘ অন্য শ্রাবণ সাজাচ্ছে তখন... সুনীল তারই মধ্যে কালিদাসকে হেঁটে যেতে দেখলেন একবার, দূর থেকে।

রাত যখন রেলিং থেকে শুকোচ্ছে পার্ক স্ট্রিটের মোড়ে, পাঁচটা ঝলমলে ছেলেমেয়ের সঙ্গে রাস্তায় নেমে এলেন সুনীল। আজ তাঁর অন্য রকম নেশা হয়েছে। ছেলেমেয়েগুলো বড্ড আলাদা, কিন্তু ভাল। কেউ যদি ভাবে, কেবল কথা বলার ধরন আর অন্য রকম লাইফস্টাইল দিয়ে সহজেই তাদের মেপে নেবে, তাহলে তার চাইতে বোকা আর কেউ হবে না। সুনীল আর যাই হোন, বোকা নন। তিনি মানুষ চেনেন, এদেরও চিনতে পারলেন দিব্যি। বৃষ্টিতে প্রত্যেকের মুখ স্পষ্ট। তাঁরই তো প্রবাহ, তাঁরই তো শহর। শুধু সময়টা আলাদা। মেঘদূতের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ না কী যেন। কিন্তু বৃষ্টি পড়লে প্রেমের কাছে ছুটে যাওয়ার যে আকুতি, সেটা তো চিরন্তন! তার বাইরে এরাও নয়। এদের জীবন, যা বুঝলেন সুনীল, তাঁদের থেকেও অনেক জটিল, অনেক প্রতিযোগিতাময়। কিন্তু এরাও মাঝরাতের বৃষ্টি কাঁধে নিয়ে নদীর ধারে দাঁড়িয়ে ভালবাসার শপথ নিতে পারে, যদি সুযোগ পায়।

সেই ট্যাক্সিটাই উল্টোদিকে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ছদ্মবেশী টাইম মেশিন। ওটা ছাড়া নিজের সময়ে ফেরার উপায় নেই সুনীলের। তিনি রাস্তা পেরোতে যাবেন, হঠাৎ শিঞ্জিনী হাত ধরে আটকাল। ‘কী যে করো না! সেলফি তোলা হয়নি তো!’ সক্কলে মিলে মুখ বাড়িয়ে ফোনের দিকে তাকিয়ে নিজেদেরই একটা ছবি তুলে রাখল। হাসলেন সুনীল। এমন হবে নাকি, তাঁদের বয়সকালে? কে জানে...

তাড়াতাড়ি ট্যাক্সিতে উঠে পড়লেন সুনীল। পার্ক স্ট্রিট ছেড়ে যাচ্ছেন তিনি, শিঞ্জিনীদের ছেড়ে যাচ্ছেন, ২০১৬ ছেড়ে চলেছেন ১৯৫৬-র দমদম পাড়ায়, যেখানে বৃষ্টির জল জমে গিয়েছে এতক্ষণে। ছেলেমেয়েগুলো যেন একদিন ঠিক ভেজে... মনে মনে চাইলেন তিনি। জানলেন না, তাঁর সঙ্গে তোলা সেলফিখানা যেখানে স্টোর করে রাখল শিঞ্জিনী, তারও নাম ক্লাউড। তবে কিনা, তাতে বৃষ্টি নামানো যায় না...

মডেল: অরুণিমা ঘোষ, লোকেশন সৌজন্য: ওয়েট ও ওয়াইল্ড, নিক্কোস নিউ ওয়াটার পার্ক। ছবি: কৌশিক সরকার।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement