Advertisement
E-Paper

পুরী থেকে ফেরার পথে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত, প্রয়াত ‘সাধক বামাখ্যাপা’র চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল

গবেষক এবং কাহিনি-চিত্রনাট্যকার শিবাশিস মুখোপাধ্যায় জানান, বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ ঋতমের মরদেহ আনা হবে টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১২:১৪
প্রয়াত চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল।

প্রয়াত চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল। ছবি: ফেসবুক।

জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সাধক বামাখ্যাপা’র চিত্রনাট্যকার ঋতম ঘোষাল প্রয়াত। বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। কিছু দিন আগেই মারা গেলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা তমাল রায়চৌধুরী। তার দিনকয়েকের মধ্যে ফের শোকের ছায়া টলিউডে। পুরী থেকে ফেরার পথে রাস্তাতেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি। কলকাতায় পৌঁছে তাঁকে তড়িঘড়ি ভর্তি করানো হয় প্রথম সারির বেসরকারি একটি হাসপাতালে। পরে স্থানান্তরিত করা হয় অন্য একটি হাসপাতালে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আনন্দবাজার ডট কম-কে এ খবর জানিয়েছেন গবেষক এবং কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার শিবাশিস মুখোপাধ্যায়।

বহু বছরের অভিন্নহৃদয় বন্ধু শিবাশিস এবং ঋতম। বন্ধুর মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ শিবাশিস। কথা বলতে গিয়ে কান্নায় বুজে এসেছে তাঁর কণ্ঠস্বর। শিবাশিস আরও জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে ১২টায় টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় ঋতমের মরদেহ আনা হবে। অভিনেতা এবং টেকনিশিয়ানরা সেখানেই শ্রদ্ধা জানাবেন তাঁকে। সদ্যপ্রয়াত কাহিনি ও চিত্রনাট্যকারের ঝুলিতে রয়েছে ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’, ‘কিরণমালা’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘কৃষ্ণ’, ‘সাধক রামপ্রসাদ’ -এর মতো হিট পৌরাণিক এবং ঐতিহাসিক ধারাবাহিক। ঋতমের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকার্ত অভিনেতা চৈতি ঘোষাল, রূপাঞ্জনা মিত্র, সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ মুখোপাধ্যায়, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়, সোনালী চৌধুরী, অনিন্দিতা রায়চৌধুরী-সহ টেলিপাড়া।

শিবাশিস আরও জানান, শীঘ্রই তাঁর আর ঋতমের নতুন একটি কাজ শুরু করার কথা চলছিল। ব্যস্ততা বাড়ার আগে তাই মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে পুরী বেড়াতে গিয়েছিলেন ঋতম।

আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা-পরিচালক অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “ঋতমের লেখনীর জোরে ‘সাধক বামাখ্যাপা’ ১০ বছর চলেছিল। রোজ ঋতম আমার জন্য সিন লিখে পাঠাত। আর আমি অভিনয় করতাম। ভক্তিমূলক, পৌরাণিক বা ঐতিহাসিক ধারাবাহিক লেখায় ওর মুনশিয়ানা ছিল।” মাঝে স্পন্ডিলাইটিস এবং আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগেছেন ঋতম। মঙ্গলবার রাতেই সদ্যপ্রয়াতের স্ত্রী ফোনে পুরো ঘটনা জানান অরিন্দমকে। বুধবার সকালে সব শেষ! অরিন্দমের কথায়, “বরাবর ঈশ্বরভক্ত ছিল ঋতম। ওঁর স্ত্রী কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, সেই জন্যই বোধহয় জগন্নাথদেব দর্শনের পর প্রয়াণ ঘটল ঋতমের।”

শোকপ্রকাশ করেছেন ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ এবং ‘সাধক বামাখ্যাপা’-এর নায়ক সব্যসাচী চৌধুরীও। দুটো ধারাবাহিক মিলিয়ে অনেক দিন ধরে খুব কাছে থেকে দেখেছেন সদ্যপ্রয়াত কাহিনি ও চিত্রনাট্যকারকে। অভিনেতার কথায়, “ঋতমদার গাড়ির শখ ছিল। আমার সঙ্গে ওঁর আড্ডা মানেই গাড়ি নিয়ে কথা। আমি বাইক চালাতে ভালবাসি। দাদা আফসোস করতেন, ওঁর হাতে, কাঁধে এত ব্যথা যে চাইলেও বাইক চালাতে পারেন না তিনি।” এ ছাড়া, পুরনো দিনের ধারাবাহিক তৈরির গল্পও করতেন তাঁরা। সব্যসাচীও জানান, স্পন্ডিলাইটিস এবং আর্থ্রাইটিসে খুব ভুগেছেন ঋতম। সুস্থ থাকতে দামি ইনজেকশন ব্যবহার করতে হত তাঁকে। কারণ, ইনজেকশন না নিলে তিনি হাত তুলতে বা নাড়াতে পারতেন না। এত সমস্যার মধ্যেও সদা হাস্যমুখ ছিলেন ঋতম। সবাইকে নিয়ে আনন্দ করে কাজ করতেন, জানিয়েছেন ছোটপর্দার এই প্রজন্মের ‘বামা’।

Shibasis Bandyopadhyay
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy