Advertisement
E-Paper

খেলার আগে চোখ পরীক্ষা করা নিয়ম, বাবা রাজি হননি! জানতেন, তা হলে খেলতে পারবেন না: সইফ

"বাবা নিজেকে কোনও দিন অসহায় ভাবেননি। কেউ তাঁকে 'প্রতিবন্ধী' বললে আপত্তি জানাতেন।"

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ২১:২৪
বিড়লা সভাঘরে সইফ আলি খান এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইয়ান বথাম।

বিড়লা সভাঘরে সইফ আলি খান এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার ইয়ান বথাম। নিজস্ব চিত্র।

বাড়িতে ক্রিকেটীয় আবহ। সারা ক্ষণ খেলা নিয়ে কথা। বাড়ির মালিক থেকে বাড়ির মালি-- সবার মুখে! সেই বাড়ির ছেলে অভিনেতা সইফ আলি খান। বাবা মানসুর আলি খান পটোদী। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক। বাবার কথা বলতে গিয়ে আবেগে ভাসলেন সইফ। বললেন, ভারতের তিনিই সম্ভবত একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি খেলতে গিয়ে চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। কিন্তু খেলা ছাড়েননি।

গাঢ় নীল ব্লেজ়ার। ঘিয়েরঙা ট্রাউজ়ার। সইফ আলি খান কলকাতায়। সেই শহরে, যে শহর তাঁর মা-বাবার গোপন প্রেমের সাক্ষী! এ দিন তাঁর দায়িত্ব, ‘কৃতী বাবা’ টাইগার পটোদীর স্মৃতিচারণ। তিনি যখন বিড়লা সভাঘরে পা রেখেছেন, মঞ্চে তখন বক্তা প্রাক্তন ক্রিকেট খেলোয়াড় ইয়ান বথাম। কখনও রসিকতা, কখনও কড়া সত্য তাঁর 'টাইগার পটৌদী' স্মৃতি বক্তৃতার বিষয়। সইফ আসতেই নড়াচড়া পড়ল বিড়লা সভাঘরে উপস্থিত আমন্ত্রিতদের মধ্যে। প্রথম সারিতে বসে টাইগারপুত্র তখন মনোযোগী শ্রোতা। বথামের রসিকতার জবাবে তাঁর ঠোঁটেও চিলতে হাসি।

সইফের পালা আসতেই সিঁড়ি টপকে মাইক্রোফোনের সামনে। গাঢ় গলায় বললেন, “বাবা মাঠে ‘টাইগার’। বাড়িতে স্নেহশীল। কিন্তু কখনও আমাদের অযথা শাসন করেননি। বরং স্বাধীন ভাবে বড় হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।” অভিনেত্রী স্ত্রী শর্মিলা ঠাকুরের উপর সংসারের ভার ছেড়ে দিয়েছিলেন। নিজে থেকে কখনও মাথা ঘামাতেন না ঘরোয়া বিষয়ে। মাঠে মনসুর আলি খানের দাপটের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, “খেলার আগে খেলোয়াড়দের চোখ পরীক্ষা করা নিয়ম। বাবা রাজি হননি। উনি জানতেন, চোখ পরীক্ষা করাতে গেলে উনি খেলতে পারবেন না।” কারণ, বিশেষ ভাবে তৈরি লেন্স না পরলে তিনি কিছুই দেখতে পেতেন না। কিন্তু তার জন্য তিনি নিজেকে অসহায় ভাবেননি। কারও থেকে বাড়তি সুযোগ নেননি। বরং কেউ তাঁকে ‘প্রতিবন্ধী’ বললে তিনি আপত্তি জানাতেন।

এই প্রসঙ্গে সইফ আরও একটি স্মৃতি ভাগ করে নিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি ফিরেছেন টাইগার পটোদী। ভাল দেখতে পান না। চিকিৎসক জানিয়েছেন, বিশেষ ভাবে তৈরি লেন্স পরলে অনেকটাই দেখতে পাবেন। কিন্তু সেটিও সময়সাপেক্ষ। মনসুর আলি খান দমেননি। ওই অবস্থাতেই ব্যাট হাতে মাঠে। প্রথম দু-তিনটি খেলায় স্বল্প রান। অভ্যস্ত হয়ে যেতেই ফের মাঠে বিধ্বংসী তিনি।

সইফের স্মৃতিতে আজও তাঁর বাবা কিংবদন্তি, ‘রিয়েল হিরো’। 'টাইগার পটোদী’ স্মৃতি বক্তৃতা'র মাধ্যমে সেই নায়ককে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াসকে তাই কুর্নিশ তাঁর।

Saif Ali Khan Mansoor Ali Khan Pataudi Ian Botham
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy