সলিল চৌধুরীর আক্ষেপ, লতা মঙ্গেশকরকে দিয়ে তিনি অনেক বাংলা গান গাইয়েছেন। আশা ভোসলেকে দিয়ে একটাও গান গাওয়ানো হয়নি তাঁর! এটুকুই পড়েই আপনারা বলবেন, সবটাই দিদি-বোনের তিক্ত সম্পর্কের ফসল। কারণ, সলিল চৌধুরীর সুরে একচেটিয়া গেয়েছেন লতাজি।
আসল ঘটনা একেবারেই তা নয়। সেই সময় গানের ফরমায়েশ করতেন গ্রামোফোন বা অন্যান্য মিউজ়িক কোম্পানি। তারা বাবার কাছে লতাদিদিকে দিয়ে গাওয়ানোর কথা বলতেন। সলিল চৌধুরীকে তাদের কথা শুনতে হত। আমি এই সত্যটা জানি। কারণ, সলিল চৌধুরী আমার বাবা। খুব ছোট থেকে ওঁদের পারস্পরিক আদানপ্রদান দেখে বড় হয়েছি। সেই জায়গা থেকে বলছি, লতা মঙ্গেশকর-আশা ভোসলের মধ্যে তেমন বিবাদ ছিল না। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, লতা-আশাজির সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে যতটা রটেছে, বাস্তবে বোধহয় ততটা ঘটেনি। ওটা সুচারু ভাবে ছড়ানো হয়েছিল।
আরও একটা জিনিস দেখেছি। বাঙালি সুরকার, গীতিকার, শিল্পীদের প্রতি আশাজির শ্রদ্ধা। সলিল চৌধুরীর পেশাজীবনের ২৫ বছর। মুম্বইয়ের একটি সভাগৃহে উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন আশাজি। বাবার জন্য হিরের আংটি হাতে করে! মা সেই আংটি যত্ন করে তুলে রেখে দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
আশাজিকে দেখার পাশাপাশি আমার দেখা সম্ভব হয়েছিল রাহুল দেব বর্মণকেও। ‘বিবেকানন্দ’ ছবিতে আশাজির গাওয়া একটা গান ছিল। বাবার সুর দেওয়া সেই গানের রেকর্ডিং। উনি এসেছেন। একই সঙ্গে এসেছিলেন আরডি বর্মণও। বাবার সঙ্গে কাজ নিয়ে ওঁর জরুরি কথা তো ছিলই। আশাজির গান রেকর্ডিংয়ে উপস্থিত থাকবেন বলেও এসেছিলেন। মুখোমুখি হতেই দু’জনের খুনসুটি শুরু। দিব্যি হাসিঠাট্টায় মাতলেন তাঁরা। কোনও মালিন্য নেই সেখানে। ওই মুহূর্ত আমায় বড় শিক্ষা দিয়েছিল। শিখেছিলাম, দূরের সম্পর্কেও সৌজন্যবোধ দেখানো যায়। দেখানো উচিত। অন্তত প্রকাশ্যে। ঠিক যেমন সে দিন দেখিয়েছিলেন রাহুল দেব বর্মণ আর আশা ভোসলে।