প্রযোজক সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হল পরিচালকদের সংগঠন থেকে। প্রশ্নের মুখে ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’ এবং ‘দেবী চৌধুরানী’ ধারাবাহিক। শনিবার সকাল ১০টা নাগাদ ইন্দ্রপুরী স্টুডিওতে পরিচালকদের সংগঠন থেকে জমায়েত হয়।

শনিবার সকাল ৮টা থেকে ‘কল টাইম’ থাকলেও এই দুই ধারাবাহিকের শুটিং হয়নি। পরিচালকরা যদিও শুটিং ফ্লোরে ফিরেছিলেন। শুটিং হবে বলে আশাও করছিলেন। তাঁরা শুটিং বন্ধ করতে চাননি বলে জানালেন। কিন্তু অন্যান্য গিল্ডও একই দাবিতে শুটিং চালিয়ে যেতে রাজি না হওয়ায় শুটিং শুরু করা সম্ভব হয়নি। ইউনিট সদস্যরা সারা দিন স্টুডিওতে অপেক্ষা করেন সমাধানের আশায়। কিন্তু সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষার পরে দুই ধারাবাহিকের শুটিং প্যাক আপ হয়ে যায়। সমস্ত গিল্ড বকেয়া টিডিএস পাওয়ার মৌখিক আশ্বাস পেলেও ক্যামেরা গিল্ড পায়নি। ক্যামেরা গিল্ডের সদস্যরা তাই শুটিংয়ে যোগ দিতে চাননি। অবশেষে ফেডারেশন থেকেই শুটিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া-র ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিন্দ্য সরকার বলেন, “সুব্রত রায়ের সঙ্গে চ্যানেলের কী কথা হয়েছে আমরা জানি না। কিন্তু চ্যানেল বলছে, ওরা চালাবে ‘রাসমণি’। সে ক্ষেত্রে পুরো লায়াবিলিটি চ্যানেলের নেওয়ার কথা। টেকনিক্যালি চ্যানেল পেমেন্টের লায়াবিলিটি নিচ্ছে, এ বার থেকে যা পেমেন্ট হবে থ্রু চ্যানেল হবে। কিন্তু টিডিএসের দায়িত্ব চ্যানেল নিতে পারছে না স্বাভাবিক ভাবেই। কারও এক বছর, কারও ছ’মাস, কারও দেড় বছরের টিডিএস বাকি। সেগুলোর কী সমাধান হবে? আমার কাছ থেকে টাকা কাটা হল অথচ কোম্পানি টিডিএস জমা দিল না। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স। চ্যানেল থেকে বলা হয়েছে, যত ক্ষণ না আমরা টিডিএস পাব তত ক্ষণ সুব্রত রায়কে নতুন করে পেমেন্ট চ্যানেল থেকে করা হবে না। এই জায়গাটায় আসা গেছে।”

সন্ধে পর্যন্ত অপেক্ষার পরে দুই ধারাবাহিকের শুটিং প্যাক আপ হয়ে যায়। (ছবি: সংগৃহীত)

তাঁরা কি সুব্রত রায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন? অনিন্দ্য বললেন, “হ্যাঁ। ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ যেহেতু হরিদেবপুর থানার জুরিসডিকশনে পড়ে আমরা ওই থানায় অভিযোগ করেছি। টিডিএস জমা না দেওয়া ক্রিমিনাল অফেন্স বলে মনে করছি আমরা। আমরা ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টেও মুভ করব। আমার মনে হয় এর পর থেকে যাঁরা এই ধরনের কাজ করবেন তাঁরা যদি শিক্ষা না নেন তো তাঁদেরই গণ্ডগোল আর কি।” যদিও হরিদেবপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

আরও পড়ুন: অস্কারের দৌড়ে ভারত থেকে নির্বাচিত রণবীর-আলিয়ার ‘গালিবয়’

‘ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-র সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “উনি (সুব্রত রায়) কথা দিয়েছিলেন টিডিএস জমা দেবেন। কিন্তু আজ দিচ্ছি, কাল দিচ্ছি বলে বার বার ফেল করেছেন। সমস্যাটা তো আজকের নয়। টিডিএস জমা দিলেই আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসব। গত এক মাস ধরে মিটিং হয়েই যাচ্ছে। টিডিএসের বিষয়ে কোনও সদুত্তর পাচ্ছি না।”

আরও পড়ুন: রেভ পার্টিতে এক সঙ্গে রুক্মিণী আর আদ্রিত, খুঁজতে এলেন দেব!

‘দেবী চৌধুরানী’-র পরিচালক অমিত সেনগুপ্ত হতাশ, “এত দিন ধরে পরিচালকরা এ ভাবে প্রতিবাদ করেননি। পরিচালকরা এত দিন সব সময় প্রোডিউসারের পাশে থেকেছে। না খেয়ে, না ঘুমিয়ে দিনরাত জেগে এপিসোড যোগান দিয়ে গেছেন। কিন্তু এ বার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পরিচালকদের। কারণ তাঁদের সঙ্গেও প্রোডিউসার বিট্রে করে যাচ্ছেন।”  

শনিবার সারাদিন সুব্রত রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হতে হয়। গত বৃহস্পতিবার ভেন্ডারদের বকেয়া পাওনা নিয়ে জটিলতায় শুটিং বন্ধ হয় ‘রাসমণি’র। শুক্রবার শুটিং হয়ে এ দিন আবার এই পরিস্থিতি।

ভেন্ডারদের তরফ থেকে জাকির হোসেন মল্লিক বললেন, “উনিও আমাদের বলেছেন এ মাসের ২৫/২৬ তারিখ নাগাদ বকেয়া মিটিয়ে দেবেন।”

পরবর্তী তারিখেও বকেয়া না মিললে তাঁরা কী করবেন? জাকির বলেন, “আমরাও জানি না। দেখা যাক। তবে চ্যানেল যদি বকেয়া পেমেন্টের দায়িত্ব নেয়, প্রোগ্রামটা ইন হাউজ রাখে তা হলে আমরা সহযোগিতা করতে পারি। এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি, আলোচনা চলছে।’’