মাথাভর্তি পাকা চুল, পরনে সাদা-কালো শাড়ি, ফুলহাতা সোয়েটার, চোখে মোটা চশমা— ‘ঠাকুমার ঝুলি’ ওয়েব সিরিজ়ে এমন লুকেই দেখা মিলবে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের। প্রকাশ্যে এল সেই লুক। হইচই-এ অয়ন চক্রবর্তী পরিচালিত এই সিরিজ় দেখানো হবে মার্চ মাস থেকে। দেখা যাবে দিব্যাণী মণ্ডলকেও। নির্মাতাদের দাবি, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলা গোয়েন্দা গল্পের ধারায় এই সিরিজ় অন্য মাত্রা যোগ করবে।
শ্রাবন্তীকে দেখা যাবে গিরিজাবালা সান্যালের চরিত্রে। বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা, ষাটের কোঠায় বয়স। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, স্থির ও সংযত নারী। জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে আরও দৃঢ় করেছে। অল্প বয়সেই স্বামীকে হারিয়েছেন। পরে একমাত্র ছেলেকেও হারানোর শোক— এই দুই আঘাত তাঁর ব্যক্তিত্বে এনেছে নীরব সহনশীলতা ও গভীর পর্যবেক্ষণক্ষমতা। কথা কম বললেও, মানুষ ও পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তাঁর। গিরিজাবালার একাকিত্বের সঙ্গী তাঁর তিন পোষ্য বিড়াল— হরি, বেলা ও ফন্টে। বলাই বাহুল্য তাদের উপস্থিতি সিরিজ়ের গল্পে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও ইঙ্গিতবহ।
গিরিজাবালা সান্যালের চরিত্রে শ্রাবন্তী। ছবি: সংগৃহীত।
গল্প গতি পায় যখন গিরিজাবালার নাতনি যাজ্ঞসেনী দেশে ফেরে। সে ‘ক্রিমিনাল সাইকোলজি’র ছাত্রী এবং সান্যাল পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য। বন্ধু আম্রপালী সিংহ রায়ের বিয়েতে যোগ দিতেই ফেরে সে। সিংহ রায় পরিবার রাজনৈতিক ভাবে বেশ প্রভাবশালী। কিন্তু বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীনই আম্রপালীর আকস্মিক মৃত্যু থেকেই রহস্যের জাল বিস্তৃত হতে শুরু করে। ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনা’ বলে মেনে নিতে নারাজ গিরিজাবালা। প্রথম তিনিই আঁচ করেন, বিষয়টি যতটা সরল মনে হচ্ছে, ততটা নয়। যাজ্ঞসেনীর চরিত্রে দেখা যাবে দিব্যাণীকে।
ওয়েব সিরিজ়ের নাতনি-দিদা জুটি। ছবি: সংগৃহীত।
বিষ্ণুপুরে আসা যাজ্ঞসেনীর কাছে এই ঘটনা হয়ে ওঠে মোড়ঘোরানো। রহস্যের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। আর সেই সূত্রেই বহু দিন পর আবার তদন্তের ভূমিকায় ফিরে আসেন গিরিজাবালা। এর পর শুরু হয় এক ভিন্নধর্মী গোয়েন্দাগিরি— যেখানে দিদা ও নাতনি একসঙ্গে নামেন সত্যের সন্ধানে। কী হয় তার পরে? জানা যাবে মার্চেই, হইচই-এর ‘ঠাকুমার ঝুলি’ ওয়েব সিরিজ়ে।