Advertisement
E-Paper

‘হিংস্র’ ও ‘পাগল’ কুকুর মেরে ফেলা যেতে পারে! তথাগতের মতে ‘অমানবিক’, কী বক্তব্য শ্রীলেখার?

ইতিমধ্যেই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাস্তা থেকে হিংস্র পথুকুকুরদের নির্মূল করার কথা ঘোষণা করেছেন। শীর্ষ আদালতের ঘোষণার সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে বলে মনে করছেন শ্রীলেখা মিত্র। সরব তথাগতও।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ মে ২০২৬ ০৯:০০
শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে কী মত তথাগত ও শ্রীলেখার?

শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে কী মত তথাগত ও শ্রীলেখার? ছবি: সংগৃহীত।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, পথকুকুর ‘পাগল’ হয়ে গেলে বা খুব বেশি হিংস্র হয়ে গেলে তাকে মেরে ফেলা যেতে পারে। তার পর থেকেই কপালে ভাঁজ পড়েছে পশুপ্রেমীদের। ইতিমধ্যেই পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান রাস্তা থেকে হিংস্র পথুকুকুরদের নির্মূল করার কথা ঘোষণা করেছেন। এ দিকে শীর্ষ আদালতের ঘোষণার সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে বলে মনে করছেন শ্রীলেখা মিত্র।

পথকুকুরদের হয়ে একাধিক বার সরব হয়েছেন শ্রীলেখা। নিজেও পথকুকুরদের খেয়াল রাখেন অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, শীর্ষ আদালতের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভুল ভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “অসুস্থ বা রেবিস আক্রান্ত কুকুরদের ওষুধের মাধ্যমে চিরঘুমে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আগে থেকেই ছিল। তবে তার আগে পশুচিকিৎসকের অনুমতি থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। পঞ্জাবে যা চলছে, তা পশুদের প্রতি হিংসা থেকেই হচ্ছে।”

কোন কুকুর হিংস্র বা কোনও কুকুরের হিংস্রতা কতটা, এগুলো নির্ধারণ করবে কে? এই প্রশ্নও উঠছে। এ প্রসঙ্গে শ্রীলেখার স্পষ্ট মত, “প্রথমত কোনও প্রাণীই অকারণে কামড়াতে আসে না। কুকুর তো নয়ই। ওদের পেট ভরা থাকলে নিশ্চিন্তে ঘুমোয়। মানুষও তো খালিপেটে মেজাজ হারিয়ে ফেলে। তা ছাড়া মানুষের দ্বারা কখনও আঘাতপ্রাপ্ত হলে, সেই কুকুরদেরও আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায়। তাই আবার কোনও মানুষ ওদের কাছে গেলে, ওরা ভয়ে কামড়ে দেয়।”

হিংস্র পথকুকুরদের রাস্তা থেকে উদ্ধার করে সুস্থ করে তোলারও প্রক্রিয়া আছে। তা হলে কেন অবোলা জীবদের উপর অত্যাচার? প্রশ্ন অভিনেত্রীর।

অসুস্থ ও হিংস্র কুকুরদের ইউথেনেশিয়ার (স্বেচ্ছামৃত্যু) মাধ্যমে মেরে ফেলা নিয়ে তথাগত মুখোপাধ্যায়ের মত, “বিভিন্ন দেশে মানুষের জন্য এই প্রক্রিয়ার অনুমোদন রয়েছে। কিন্তু অবোলা প্রাণীদের ক্ষেত্রে এই শব্দ হাস্যকর! তারা তো বলতেই পারে না। তা হলে সেটা আর স্বেচ্ছামৃত্যু কী ভাবে রইল? চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে সভ্য দেশে একটা অসুস্থ ও ‘হিংস্র’ প্রাণীকে ইউথেনেশিয়ার মাধ্যমে মেরে ফেলাটা অত্যন্ত অমানবিক।”

টলিপাড়ায় তথাগতও পশুপ্রেমী হিসাবে পরিচিত। পশুদের অধিকার নিয়ে প্রায়ই সরব হন তিনি। তাঁরও প্রশ্ন, কোন কুকুর কতটা হিংস্র, তা নির্ধারণ করবে কে? সেই সঙ্গে তিনি এ-ও বলেছেন, “নির্দেশ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ছাড়া কেউ যদি কোনও কুকুরকে আঘাত করে বা মারার চেষ্টা করে, তা দণ্ডনীয় অপরাধ। পাশাপাশি যথেষ্ট প্রামাণ্য তথ্য থাকতে হবে যে, কুকুরটি কাউকে কামড়েছে বা হিংস্র হয়ে উঠেছে অথবা মারণ রোগে অসুস্থ। আইন এটাই বলে। তবে আইনের ফাঁক খুঁজে কিছু লোক সুযোগ নেবে, সেটাও জানি।”

তবে পশ্চিমবঙ্গে সরকার বদল হওয়ার পর থেকে কিছুটা আশাবাদী তথাগত। তাঁর কথায়, “আগে কুকুরের কোনও ঘটনা হলে হেসে উড়িয়ে দেওয়া হত। তবে এখন অন্তত অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে। গুরুত্বটুকু দেওয়া হচ্ছে। গরুদের প্রাণকে মূল্য দেওয়া হচ্ছে। তাই প্রত্যাশা আছে কুকুর ও অন্য প্রাণীরও প্রাণের মূল্য থাকবে।”

পথকুকুরদের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বহু মানুষেরও। তাই কোনও আইন চালু করে পথকুকুরদের নির্মূল করা সহজ নয়, প্রয়োজনে হাই কোর্টেও কেউ আবেদন করতে পারেন— মনে করেন পরিচালক-অভিনেতা। তিনি স্পষ্ট করেন, “আসলে নিষ্ঠুরতার প্রচার করবে, তেমন আইন তৈরিই হয়নি। ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। আর নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আমরা আগেও লড়েছি। আজীবন লড়ে যাব।”

Sreelekha Mitra Tathagata Mukherjee Stray Dogs Supreme Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy