শনিবার। বিকাল তখন প্রায় চারটে। একে একে জড়ো হয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইম্পার প্রেসিডেন্ট পিয়া সেনগুপ্ত। সঙ্গে জুন মালিয়া, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, অরিন্দম শীল, পাপিয়া অধিকারি-সহ টলিপাড়ার বিশিষ্টজনেরা। প্রত্যেকের মনে একটাই প্রশ্ন, কেন এমন অসময়ে চলে যেতে হল রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে?
রাহুলের জন্য পথে নামলেন তারকারা। নিজস্ব চিত্র।
টালিগঞ্জের টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো থেকে রাধা স্টুডিয়ো— কয়েক কিলোমিটারের রাস্তায় শনিবার থিকথিক করছে শুধুই মাথা। পিয়া, স্বরূপের নেতৃত্বে এই মৌনমিছিলে যোগ দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষও। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা মিছিলে কালো ব্যাজ পরে অংশ নিয়েছিলেন। মিশমি রায় বণিক মূলত পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন। রাহুলের সঙ্গে ‘স্বপ্নউড়ান’ ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন। মিছিলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি। জানালেন, কী ভাবে তাঁর খোঁজ রাখতেন রাহুল।
পিয়া, স্বরূপের নেতৃত্বে এই মৌনমিছিল হয়। নিজস্ব চিত্র।
টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর বারান্দা থেকে রাস্তা— শুধুই ভিড়। শুধু যে টলিপাড়ার চেনা মুখেদের দেখা মিলল, সে কথা বললে ভুল বলা হবে। রাহুলের ছবি গলায় ঝুলিয়ে দেখা গেল অভিনেতার বেশ কিছু অনুরাগীকেও। না, তাঁরা যে সবাই অরুণোদয়ের ঘনিষ্ঠ, তেমন নয়। কিন্তু, এই ভাবে কারও চলে যাওয়া কি মেনে নেওয়া যায়? এখানেই প্রশ্ন তুললেন জুন, অরিন্দম, স্বরূপেরা। জুন বললেন, “আমি আগেও নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেছি। তাই জন্য অনেক প্রোডাকশন হাউসের কাছে অপ্রিয়ও হয়ে গিয়েছি। মুম্বইয়ের প্রযোজনা সংস্থাগুলি তো এই ভাবে কাজ করে না।”
টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় জড়ো হচ্ছিলেন তারকারা। নিজস্ব চিত্র।
ছ’দিন কেটে গিয়েছে। এখনও রাহুলের আকস্মিক মৃত্যুর শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি কেউ। তালসারিতে ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়েই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। কী ভাবে ঘটল এমন অঘটন? প্রশ্ন সবার মনে। রাহুলের মৃত্যুর স্বচ্ছ, পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে থানায় এফআইআর করেছেন তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সঙ্গে ছিলেন আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যরা। ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সৌরভ দাস, যিশু সেনগুপ্তেরা। তবে এই মিছিলে দেখা যায়নি আর্টিস্ট ফোরামের সদস্যদের।
রাহুলের ছবি হাতে মিছিলে যোগ। নিজস্ব চিত্র।
আগেই আর্টিস্ট ফোরামের তরফে জানানো হয়েছিল, এই মিছিলের আহ্বায়ক নন তাঁরা। কিন্তু কোনও শিল্পী যদি ব্যক্তিগত ভাবে মিছিলে যেতে চান, তাতে সংগঠনের কোনও সমস্যা নেই। এই বক্তব্যেই স্থির থাকলেন ফোরামের সভাপতি শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ আরও অনেকে। তবে ব্যক্তিগত ভাবে রাস্তায় হাঁটতে দেখা গেল ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, রূপাঞ্জনা মিত্রকে। ছেলে উজান গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়।
রাধা স্টুডিয়োয় মিছিল শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি তারকারা। নিজস্ব চিত্র।
রাধা স্টুডিয়োয় মিছিল শেষ হতে ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন চূর্ণী। কৌশিক, চূর্ণী, রূপাঞ্জনাদের শুধু একটাই প্রশ্ন, কেন এই ভাবে প্রাণ হারাতে হল রাহুলকে! চূর্ণী বললেন, “ক’জন নিরাপত্তা বিধি চাইলে, অন্য কেউ সে সবের তোয়াক্কা না করে কাজ করবেন!” আর এই ধোঁয়াশা চাইছেন না তাঁরা। রূপাঞ্জনা যোগ করেন, “আমরা যা করছি, সহজের জন্য করছি। এ কথাই বলেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ও।” রাহুলের মৃত্যুর তিন দিন পরে একটি বিবৃতির মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছিল লীনা এবং শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’। কিন্তু, তার পরে সেই সংস্থার তরফে আর কিছু জানানো হয়নি।