Advertisement
E-Paper

অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ শুটিং! রাহুলের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এ ভাবেই প্রতিবাদ টলিপাড়ার অভিনেতা সংগঠনের

রবিবার অভিনেতাদের সংগঠন একটি বৈঠক করে। সেখানেই কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, যিশু সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৯
টলিপাড়ায় বন্ধ শুটিং!

টলিপাড়ায় বন্ধ শুটিং! ছবি: সংগৃহীত।

অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ থাকছে টলিপাড়া!আগামী মঙ্গলবার থেকে সব ধারাবাহিক ও ছবির শুটিং বন্ধ রেখে, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ জানিয়ে অভিনেতাদের নিরাপত্তার দাবি তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রবিবার টেকনিশিয়ানস স্টুডিয়োয় অভিনেতাদের সংগঠনের এক বৈঠকের পরে এমনই জানানো হল।

শনিবার বিকেলে পথে নেমেছিলেন টলিপাড়ার অভিনেতারা। প্রত্যেকের মনে ছিল একটাই প্রশ্ন, কেন এ ভাবে চলে যেতে হল রাহুলকে? সেই দিন দুপুরেই রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে। ওই দিনই মাঝরাতে কলকাতা থেকে তালসারি থানায় গিয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন রাহুলের স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। রবিবার সন্ধেয় ফের একজোট হল টলিপাড়া।

রবিবারও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, অঞ্জনা বসু, যিশু সেনগুপ্ত, রূপাঞ্জনা মিত্র, বিদীপ্তা চক্রবর্তী-সহ আরও অনেকে। আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে রবিবার বিকেলে শান্তিলাল জানান, অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে শুটিং। তিনি বলেন, “গতকাল আমরা রিজেন্ট পার্ক থানায় এফআইআর দায়ের করেছিলাম আর্টিস্ট ফোরামের তরফ থেকে। আমরা রাহুলের পরিবারের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”

Advertisement

আর্টিস্ট ফোরামের চার হাজার সদস্য, ফেডারেশনের সাত হাজার টেকনিশিয়ান সদস্য এবং সকল কলাকুশলী মিলে এই সিদ্ধান্ত বলে জানান শান্তিলাল। তিনি বলেন, “নিরাপত্তার জন্য এবং আমাদের সকলের জীবন রক্ষার জন্য এই লড়াই শুরু হল। আমাদের নিরাপত্তাহীনতা রয়েছে। আমরা শুটিংয়ে বেরোচ্ছি। কিন্তু ফিরতে পারব কি না বুঝতে পারি না। রাহুল আমাদের শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছে। তাই মঙ্গলবার সকাল থেকে আমরা কর্মবিরতি পালন করব।”

ফেডারেশনের তরফ থেকে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “আমরা চাইনি। কিন্তু দায় নিতে কেউ এগিয়ে আসছে না।শুটিংয়ের প্রয়োজনে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনেক কিছু করতে হয়। কখনও নদী, কখনও সমুদ্র কখনও বা পাহাড়ে যেতে হয়। কেউ কখনও পিছপা হননি। প্রত্যেকে জীবন সংশয় করে এগিয়ে যান। সকলে নিজের সেরা কাজ করার চেষ্টা করেন। এই ইন্ডাস্ট্রিকে সবাই আমরা বাঁচাতে চাই। লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন।”

প্রসেনজিৎও একই সুরে রবিবার বলেন, “শিল্পী, কলাকুশলী এবং প্রত্যেকের কাজের সময়ে সুরক্ষা দরকার। নিরাপত্তা যেন সকলের জন্য বাধ্যতামূলক হয়। কারণ, প্রত্যেকে এই ঘটনা নিয়ে খুব ভীত।”

এ বার থেকে প্রত্যেক শুটিংয়ে একটি করে অ্যাম্বুল্যান্স রাখতে হবে, এমন দাবি রাখা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। রাহুলের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এমন কিছু দাবির কথা জানিয়েছেন অভিনেতা ও কলাকুশলীরা। তাই রাহুলের মৃত্যুর বিচার চাওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তারও দাবি তুলেছেন তাঁরা। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের কথায়, “রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গেল। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব। ও যে ভাবে চলে গেল তা কাম্য নয়। ‌ও আমাদের সকলকে একজোট করে চলে গেল। ওর মৃত্যুই এই প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল, ‘আমরা কি আদৌ নিরাপদ?’ গোটা ইন্ডাস্ট্রি একত্র হয়ে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ান্‌স স্টুডিয়োয় উপস্থিত হবেন আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশনের সদস্যেরা। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের আবেদন, “প্রযোজক, পরিচালক, শিল্পী ও কলাকুশলী সকলকে এই দিন সকালে আসতে বলব। দুর্ঘটনা আকস্মিকই হয়। সেগুলির আন্দাজ আগে থেকে থাকে না। তবে এমন কিছু নিয়মাবলি থাকতে হবে যাতে শিল্পীর মর্যাদা এবং তাঁর পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে।”

উল্লেখ্য, বড়পর্দা ও ছোটপর্দা সমস্ত শুটিংই বন্ধ থাকবে মঙ্গলবার থেকে। যে সব ধারাবাহিকের শুটিংয়ের ব্যাঙ্কিং করা নেই, সেগুলির কী হবে, তা এখন সম্ভবত অনিশ্চিতই হয়ে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।

Rahul Arunoday Banerjee artist forum Federation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy