রাজ্য জুড়ে গেরুয়া ঝড়। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণে তাই জোরদার ‘ফাইট’ হল না। গণনার প্রথম পর্ব থেকেই অনেকটা পিছিয়ে ছিলেন তৃণমূলপ্রার্থী অভিনেত্রী লাভলি মৈত্র। দিন গড়াতেই শেষ হাসি হাসলেন বিজেপি-র রূপা গঙ্গোপাধ্যায়।
অষ্টম রাউন্ডের গণনার পরেই দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১৯৪৯২। সময় যত গড়ায়, ততই বাড়তে থাকে সেই ব্যবধান। শেষে জয়ী রূপা। তাঁর মোট প্রাপ্ত ভোট ১২৮৯৭০। লাভলীর প্রাপ্ত ভোট ৯৩১৮৮।
সোমবার সকাল থেকেই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন রূপা। একাদশ রাউন্ড গণনা পরে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে সেই ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায়েছিল ২৫১০১। অন্তিম পর্যায়ের গণনার পরে ৩৫৭৮২ ভোটে পিছিয়ে পড়েন লাভলি। এগিয়ে যান রূপা। তার পরেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে গণনাকেন্দ্র ছাড়লেন তৃণমূলপ্রার্থী। অর্থাৎ, লাভলি নন, সোনারপুর দক্ষিণের মানুষ ভরসা রাখলেন রূপার উপরেই।
আরও পড়ুন:
২০১৫ সালে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন অভিনেত্রী রূপা। সক্রিয় ভাবে এই দলের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ন’বছর ধরে। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোটায় রাজ্যসভার সদস্য হন রূপা। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
অন্য দিকে, ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছিলেন লাভলি। বিরোধিদলের প্রার্থী হিসাবে ছিলেন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু। সেই সময়ে বিপুল সংখ্যক ভোটে বিজেপির অঞ্জনাকে হারিয়ে জয়ী হন লাভলি। ফলে এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনের লড়াইয়েও প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন লাভলি। প্রচারেও সেই আঁচ পাওয়া গিয়েছিল। তবে গণনার দিন বেলা গড়াতেই সেই আঁচ যেন কমতে থাকে।
২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে সোনারপুর থানায় এবং নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন লাভলি। তাঁর অভিযোগ ছিল, সোনারপুর দক্ষিণে বিজেপিপ্রার্থী রূপা কালিকাপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৬৭ নম্বর বুথে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরে প্রবেশ করেন। তৃণমূলের তরফে আরও অভিযোগ ছিল, বুথে প্রবেশে বাধা দিতে গেলে রূপার উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। যার ফলে তৃণমূলের কর্মীরা আহত হন। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেন রূপা। উল্টে তৃণমূলের বিরুদ্ধেই নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। এই ঘটনার জেরে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
নির্বাচন ঘোষণার সময় থেকেই সোনারপুরেই থাকছিলেন লাভলি। নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে তাঁর ধ্যানজ্ঞান ছিল সোনারপুরই। মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ভিডিয়োকলই ছিল একমাত্র ভরসা তাঁর। তার পরেও মানুষের ভরসা জিতলেন রূপা। ফলপ্রকাশের পরে লাভলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানিয়েছেন, পরে কথা বলবেন। এখন কথা বলতে পারছেন না। রূপার তরফে এখনাও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।