২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে হেরে মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন। সবাই ধরে নিয়েছিলেন, বাকি অভিনেতাদের মতো তিনিও রাজনীতি থেকে সরে অভিনয়ে মন দিচ্ছেন। কিন্তু ভুল ভাঙে অচিরেই। তিনি যে ক্ষান্ত হননি তা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন বারে বারেই। দুর্নীতি, বেকারত্ব, স্বাস্থ্য, শিক্ষার অব্যবস্থা— সব দিক থেকে আক্রমণ শানিয়েছেন একাধিক বার। একুশের নির্বাচনে বাংলায় পদ্ম ফোটাতে ব্যর্থ হলেও, ছাব্বিশে তা পুষিয়ে দিয়েছেন রাজনীতিবিদ-অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ। এ বারের যুদ্ধের ময়দান তাঁর নিজের ঘরের মাঠ। হাওড়ার শিবপুর। সেখানেই তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়কে প্রায় ১৬ হাজার ভোটে হারিয়ে পদ্ম ফোটালেন ঘরেরই ছেলে।
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ভোটগণনার যে প্রবণতা ছিল, তাতে বিজেপি এগিয়ে ছিল ১৯০-র বেশি আসনে। তৃণমূল এগিয়ে ছিল একশোর কম আসনে। পরিবর্তনের পালে যে হাওয়া লেগেছে, তা প্রাথমিক পর্যালোচনাতেই বোঝা যায় অনেকটাই। সোমবার সকাল থেকে শিবপুরেও ছিল পদ্ম-ঝড়। প্রথম তিন-চার রাউন্ডের ভোটগণনার রিপোর্টে দেখা যায়, তৃণমূল প্রার্থী রানা চট্টোপাধ্যায়ের থেকে প্রায় কয়েক হাজার ভোটে এগিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছেন রুদ্রনীল ঘোষ। তখন তাঁর মোট প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ২২২৯৮। ১০-১২ রাউন্ডের পরে তা বেড়ে হয় ৫১১০৪। অন্তত ১২ হাজার ভোটে এগিয়ে যান রুদ্রনীল। ১৭ রাউন্ডের শেষে দেখা যায় ১৫ হাজার ভোটে এগিয়ে তারকা প্রার্থী। ওই সময়ে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৮৩২৯৪।
টলিউডের অভিনেতা থেকে রাজনীতির ময়দান— রুদ্রনীলের সফরটা ছিল বরাবরই বর্ণময়। ছাত্রজীবনে ছিলেন সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর নেতা। তৃণমূল সরকারে আসার পরে লাল থেকে ক্রমে সবুজঘেঁষা হয়ে ওঠেন। দীর্ঘ সময় তৃণমূল ঘনিষ্ঠ থাকার পরে একুশের নির্বাচনের আগে দিল্লিতে অমিত শাহের বাড়ি গিয়ে বিজেপি-তে যোগ দেন রুদ্রনীল। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছিল, হাওড়া জেলার কোনও আসন থেকে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একেবারে শেষ দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় বিজেপি ভবানীপুর আসন দেয় রুদ্রনীলকে। সে সময়ে ঘরের মাঠে ব্যাট করতে না পারলেও বিজেপির হয়ে প্রচারে যথেষ্টই উত্তাপ ছড়িয়েছিলেন রুদ্রনীল। তবে লড়াইয়ে জিততে পারেননি। কারণ সে সময়ে অনেকটাই ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি পান ৭৩ হাজার ৫০৫ ভোট। সেখানে রুদ্রনীলের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৪৪ হাজার ৭৮৬। ব্যবধান ছিল ২৮ হাজার ৭১৯ ভোটের।
আরও পড়ুন:
ছাব্বিশের নির্বাচনে প্রেক্ষাপট বদলাল। শিবপুরে নিজের ঘরের মাঠেই লড়াই করার সুযোগ পেলেন। গত নির্বাচনের নিরিখে এখানে তৃণমূলের আধিপত্য থাকলেও, শুরু থেকেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন রুদ্রনীল। ২০ রাউন্ডের শেষে দেখা গেল, শিবপুরে ঘাসফুলের সাজানো বাগানে শেষমেশ পদ্মই ফুটেছে।