সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী বিন্দু স্মৃতিচারণ করেন। ১৯৭৩ সালের ছবি ‘জোশিলা’র শুটিংয়ের এক অজানা ঘটনা ভাগ করে নেন তিনি। বিন্দু জানান, শুটিং ফ্লোরে পৌঁছে নাকি জানতে পেরেছিলেন যে, তাঁকে একটি বিকিনি দৃশ্যের শুটিং করতে হবে। তাঁর কথায়, এটি তাঁকে আগে জানানো হয়নি। ফলে অস্বস্তিতে পড়ে শুটিং করতে অস্বীকার করেন তিনি। পরে অবশ্য পরিচালক যশ চোপড়া তাঁর উদ্বেগ বুঝে দৃশ্যে কিছু পরিবর্তন করেন।
সাক্ষাৎকারে বিন্দু বলেন, “আমি প্রায় দু’ঘণ্টা শুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলাম। কারণ, আমি তো বিকিনি পরার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বিকিনি তো বিকিনিই! মানসিক প্রস্তুতি ছিল না। আমি যশজিকে বলেছিলাম, ‘প্লিজ়! আপনি তো আগে কিছুই বলেননি।’ সেটে পৌঁছেই জানতে পারলাম এই দৃশ্যের কথা। তখন যশজি বললেন, ‘আপনি যতটা সম্ভব জলের মধ্যে থাকুন। আমরা সেই ভাবেই শুট করব। শুধু পাশ থেকে আর পিছন দিক থেকে কয়েকটি শট্ নেব।’ বেচারা দেব আনন্দজি চুপচাপ বসে ছিলেন। দু’ঘণ্টা শুটিং বন্ধ ছিল। বার বার মনে হচ্ছিল যে, কী জানি কী ভাবছেন! কিন্তু যশজি আমাকে বারবার আশ্বস্ত করেছিলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করবেন না’।”
‘জোশিলা’ ছবির দৃশ্যে বিন্দু। ছবি: সংগৃহীত।
বিন্দুর স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে যশ চোপড়া দৃশ্যটির শুটিংয়ের ধরন বদলে দেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে অভিনেত্রী বলেন, “আমাকে জলের মধ্যে দাঁড় করিয়ে বাইরে থেকে শট নেওয়া হয়। তার পরে শুধু পাশ থেকে ও পিছন দিক থেকে ক্যামেরা ধরা হয়। পরে আমি চিত্রগ্রাহককে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, দৃশ্যটা কেমন লাগছে। উনি বলেছিলেন, ‘চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভালই লাগছে, অশালীন লাগছে না।’ ওঁর কথা শোনার পরেই আমি নিশ্চিন্ত হই।”
১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জোশিলা’ ছবিতে দেব আনন্দ ও বিন্দু ছাড়াও অভিনয় করেছিলেন হেমা মালিনী ও রাখী। ছবিতে দ্বৈত চরিত্রে দেখা গিয়েছিল দেব আনন্দকে। ছবির গান ও অভিনয় প্রবল জনপ্রিয়তা পায়। ছবির অধিকাংশ আউটডোর শুটিং হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিঙে।
আরও পড়ুন:
সত্তর দশকের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী বিন্দু। নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেন। চার দশকের দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি ১৬০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। ১৯৬২ সালে, ২১ বছর বয়সে অভিনয়জীবন শুরু। বড়পর্দায় তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালের ‘মেহবুবা’ ছবিতে।