মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য় একত্রিত হওয়ার কথা ছিল টলিপাড়ার শিল্পীদের। ‘আর্টিস্ট ফোরাম’, ‘ফেডারেশন’, ‘ইম্পা’, টেলিভিশন প্রযোজক এবং চ্যানেল কর্তৃপক্ষের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। দফায় দফায় আলোচনার মাধ্যমে আর্টিস্ট ফোরামের সভাপতি রঞ্জিত মল্লিক এবং কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় কর্মবিরতি শেষের ঘোষণা করলেন। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার কোনও কাজ আপাতত করবেন না শিল্পী বা টেকনিশিয়ানরা।
এই দিন বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, হরনাথ চক্রবর্তী, শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, দেব-সহ শিল্পীদের অনেকেই। অন্য দিকে ছিলেন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত। আলোচনায় যোগ দেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। শুটিংয়ে শিল্পী এবং কলাকুশলীদের নিরাপত্তা ছিল বৈঠকের মুখ্য বিষয়। বৈঠকে ছিলেন রাহুলের স্ত্রী, অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারও।
টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় বৈঠকে আবীর চট্টোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র।
২৯ মার্চ রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যু তুলেছে অনেক প্রশ্ন। লীনা গঙ্গোপাধ্যায় প্রযোজিত ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করতে তালসারি গিয়েছিলেন অভিনেতা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, তালসারিতে জলে ডুবে মৃত্যু হয় অভিনেতার। ওড়িশা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রযোজনা সংস্থা পুলিশের তরফে কোনও অনুমতি নেয়নি। তার পরেই প্রযোজকের দিকে ওঠে আঙুল।
আরও পড়ুন:
রাহুলের মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়ে আইনি পরামর্শ মাফিক আর্টিস্ট ফোরামের তরফে চিঠি পাঠানো হয় ‘ম্যাজিক মোমেন্টস্’ প্রযোজনা সংস্থাকে। কিন্তু যথাযথ উত্তর না মেলায় আর্টিস্ট ফোরামের সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়-সহ শিল্পীরা কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানায় মামলা দায়ের করে প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই রাতে তালসারি থানায় ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’-এর কর্ণধার শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্যায়-সহ পরিচালক শুভাশিস মণ্ডল, ফ্লোর এগ্জ়িকিউটিভ প্রোডিউসার শান্তনু নন্দী এবং প্রযোজক সংস্থার ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রাহুলের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা।
টেকশিনায় স্টুডিয়োয় শিল্পী ও কলাকুশলীদের ভিড়। নিজস্ব চিত্র।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে, শনিবার রাতে আর্টিস্ট ফোরামের তরফে তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কর্মবিরতির। মঙ্গলবার থেকেই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই মতো সোমবার বেশি ক্ষণ ধরে শুটিং হয়েছিল বাংলা ধারাবাহিকগুলির। মঙ্গলবার সকালে বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল, আগামী দিনে ঠিক কী ভাবে কাজ এগোবে? আলোচনা করে স্থির হয়েছে, আগামী পনেরো থেকে ত্রিশ দিনের মধ্যে তৈরি করা হবে আদর্শ পরিচালনা পদ্ধতি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর (এসওপি)। ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও কড়া, আরও আঁটোসাঁটো করতে এই সিদ্ধান্ত। শিল্পী এবং কলাকুশলীদের জন্য তৈরি হবে বীমা। এমনকি যাঁরা চুক্তিবদ্ধ নন, সেই সব কলাকুশলী এবং শিল্পীদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। তবে যত দিন না সেই বীমা তৈরি হচ্ছে, তত দিন ঝুঁকি নিয়ে এমন কোনও জায়গায় শুটিং করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে।