১. মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাকে দেখতে চান?
ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়: মুখ্যমন্ত্রী এমন একজন হবেন যিনি আজকের দিনের সমস্যাটাকে তুলে ধরবেন। তিনি যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কথা বলবেন, তখন যেন আমার মনে না হয় যে, তিনি একটি দলের প্রতিনিধি হয়ে কথা বলছেন। যেন মনে হয় তিনি আমার দেশের বা রাজ্যের একজন নাগরিক হিসাবে কথা বলছেন। তা না হলে আমার বিশ্বাস করতে অসুবিধা হবে যে, প্রশাসন এবং শাসকদল, দুটো আলাদা।
২. দল দেখে ভোট দেন না কি প্রার্থী দেখে?
ঋতব্রত: প্রার্থী দেখে মূলত। পাশাপাশি বলা দরকার, পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে দলের উপর আস্থা ক্রমেই কমছে।
৩. প্রার্থী বাছাইয়ের পরীক্ষা হলে কেমন হয়? আর জেতার পরে যদি হয় বিধায়কের প্রশিক্ষণ?
ঋতব্রত: উচিত হওয়া। তবে এমন পরীক্ষা যে কখনও হবে, সেটা একেবারেই নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। জেতার পরেও প্রশিক্ষণ ভীষণ জরুরি মনে করি। বেশির ভাগের কাছে সেই প্রশিক্ষণ নেই বলেই অনেক সমস্যা হয় কার্যক্ষেত্রে।
৪. নিজে বিধায়ক হলে কী বদলাতে চাইতেন?
ঋতব্রত: আমার রাজনীতি সম্পর্কে সেই জ্ঞান নেই। তাই এটা নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
৫. আপনার পেশার জগতের কোনও অভিযোগ কি ভোট প্রচারে গুরুত্ব পাওয়া দরকার?
ঋতব্রত: অবশ্যই উচিত। পশ্চিমবঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিবেশ নিয়ে বহু মানুষের মধ্যে যে আলোচনা চলছে, সারা ভারতের মানুষ পশ্চিমবঙ্গে শুটিং নিয়ে যে সংশয় প্রকাশ করছেন, সেটা উঠে আসা উচিত। যদি কেউ বিষয়টি তুলে ধরেন ভাল হয়।
৬. নির্বাচন প্রক্রিয়াকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে কী কী?
ঋতব্রত: একটাই প্রক্রিয়া কাজে আসতে পারে। সেটা হল, সর্ব স্তরে প্রচার বন্ধ করে দেওয়া। প্রচারে বেরিয়ে কেউ বাড়ি গিয়ে সব্জি কেটে দিচ্ছেন, কেউ রান্নাঘরে ঢুকে যাচ্ছেন, এই ব্যাপারটা বন্ধ হওয়া দরকার।
৭. ঘন ঘন দলবদলের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া দরকার?
ঋতব্রত: চাকরির ক্ষেত্রে যেমন একটা প্রোবেশন পিরিয়ড হয়, অভিনেতাদের যেমন কাজ পাওয়ার আগে অডিশন দিতে হয়, তেমনই দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে একটা প্রোবেশন পিরিয়ড হওয়া দরকার। প্রথম ৩ বা ৬ মাস তাঁকে প্রশিক্ষণ নিতে হবে, যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। তা হলে ঘন ঘন দল বদলানোর প্রবণতা কমবে।
৮. রাজনীতিতে অপশব্দের প্রয়োগ কি জরুরি?
ঋতব্রত: অবশ্যই বন্ধ হওয়া জরুরি। তবে কী করে বন্ধ করা সম্ভব, সেটা আমি জানি না। কিন্তু রাজনীতিকেরা প্রকাশ্যে এমন ভাষা ব্যবহার করলে পরবর্তী প্রজন্মের কমবয়সিদের মনে হতে পারে যে, এমন ভাষাপ্রয়োগ স্বাভাবিক ব্যাপার!
৯. দেশজ সংস্কৃতি, উন্নয়ন না কি সমান অধিকার— ভোট প্রচারে কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
ঋতব্রত: তিনটির বাইরে গিয়ে বলতে পারি, কর্মক্ষেত্রের প্রসার ঘটা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাওয়া দরকার। উদাহরণ হিসাবে একটি ভাইরাল ভিডিয়োর কথা বলতে চাই। যেখানে দেখেছি একজন বলছেন, যাঁরাই আসন্ন নির্বাচনে জিতে আসুন তাঁদের কাছে একটাই অনুরোধ, যাঁরা পেটের তাগিদে আমার শহর, আমার রাজ্য ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনুন।
১০. ভাতা-র রাজনীতি সমাজের উন্নতি করে কি?
ঋতব্রত: লাভ আর উন্নতি দুটো আলাদা জিনিস। এতে লাভ হয়তো হয়, কিন্তু উন্নতি কতখানি হয় সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে। অবশ্যই ভাতায় সাময়িক স্বস্তি মেলে, সেটা একটা লাভ। কিন্তু এটা কোনও স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
১১. প্রায় বিরোধীশূন্য রাজনীতি কি স্বাস্থ্যকর?
ঋতব্রত: একেবারেই নয়। বিরোধীশূন্য হওয়াটা কাজের কথা নয়। আমার যা ইচ্ছে আমি তাই-ই করতে পারি, এ রকম যদি হয়, তা হলে আর সেটা গণতন্ত্রই রইল না।
১২. তারকারা কি ভোট টানার শর্টকাট?
ঋতব্রত: বিগত কয়েক বছর ধরে দেখে তো তা-ই মনে হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে কেন এঁদের প্রার্থী করা হচ্ছে, আবার সেই মানুষগুলোই অনেকে এঁদের ভোট দিয়েও আসছেন। নইলে তারকারা ভোটে জিতছেন কী করে!
১৩. পছন্দের রাজনীতিবিদ কে?
ঋতব্রত: প্রশ্নটা শুনে মাথায় কিছু এল না। (হাসি)