গৌরীবাড়ির পরেশনাথ মন্দির পেরিয়ে পুরনো বাড়ি। তস্য গলি পেরিয়ে অন্ধকার সিঁড়ি বেয়ে তিনতলায় উঠলে দু’কামরার ফ্ল্যাট। পুরনো আমলের চিলতে দুটো ঘর। সেখানেই সংসার বৃদ্ধ অভিনেতা শঙ্কর ঘোষাল ও তাঁর পরিবারের।
৭৫ বছর পার করা অভিনেতা শঙ্করবাবু মঙ্গলবার আনন্দবাজার ডট কম-এর কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন, ছেলে এবং নাতি নিত্য মারধর করেন তাঁকে। ঠিক মতো খেতে দেন না। যদিও সে দিনই শঙ্করবাবুর স্ত্রী ভারতী ঘোষাল এবং অভিনেত্রী বোন রত্না ঘোষাল এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন। তাঁদের দাবি, কোনও ভাবেই অত্যাচারিত নন অভিনেতা। পুরোটাই নাকি তাঁর মানসিক সমস্যা।
গৌরীবাড়ি লেনের একচিলতে ঘরে শঙ্কর ঘোষাল। নিজস্ব ছবি।
অভিযোগ পাওয়ার এক দিন পরে, বুধবার, তাঁদের বাড়ি পৌঁছে যায় আনন্দবাজার ডট কম। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, দু’টি কামরার একটিতে শঙ্করবাবু আর তাঁর স্ত্রী ভারতীদেবী থাকেন। অন্য ঘরটি তাঁর ছেলে এবং নাতির।
এক সময়ে ‘নহবৎ’ নাটকে অভিনয়ের সুবাদে জনপ্রিয় হয়েছিলেন শঙ্করবাবু। কিছু দিনে সেই খ্যাতি হারিয়েও যায়। সংসারের অভাব কমাতে নানা জায়গায় চাকরি করেছেন। যখন চাকরি পাননি, তখন পাখি বিক্রি করেছেন, শাড়ির ব্যবসা করেছেন। এখন শঙ্করবাবুর অভিযোগ, তাঁর ছেলে নাকি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি। নাতি তাঁকে ঘুষি মেরেছে। অভিযোগ জানাতে তিনি মানিকতলা থানার দ্বারস্থ হয়েছিলেন। প্রশাসনের থেকেও যথেষ্ট সহযোগিতা পাননি বলেও অভিযোগ শঙ্করবাবুর। যদিও এ প্রসঙ্গে মানিকতলা থানার অফিসার দেবাশিস দত্ত মঙ্গলবার বলেছিলেন, “বিষয়টি দেখা হচ্ছে।”
সপরিবার শঙ্কর ঘোষাল। ছবি: ফেসবুক।
ভারতীদেবী এবং তাঁর পুত্র অবশ্য এ নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি। শঙ্করবাবুর পুত্র নিজের নামও উল্লেখ না করার অনুরোধ জানান। তবে অভিনেতার স্ত্রী-পুত্রের পাল্টা অভিযোগ, নেশা করে এক সময়ে স্ত্রীকে মারধর করেছেন শঙ্করবাবু। সেই ভিডিয়ো তাঁর ছেলের কাছে আছে। শঙ্করবাবুর আচরণে বিরক্ত হয়েই নাকি ঘর ছেড়েছেন পুত্রবধূ বলে দাবি তাঁদের।