বছরে বেতন ছিল ২.৭ কোটি টাকা। কাজে সাহায্য করার জন্য অফিসে ছিল পুরোদস্তুর দল। তার পরেও সেই টেক লিডকে ধরে রাখতে পারল না গুগ্ল। আমেরিকায় মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে দুবাই চলে গেলেন তরুণী। তাঁর সেই জীবনযাত্রা সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো ইতমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণীর নাম তনু পুরী। গুগ্লে ‘প্রিন্সিপাল অ্যানালিটিক্যাল লিড’ পদে চাকরি করতেন তিনি। বছরে আয় করতেন ২.৭ কোটি টাকা। শিকাগোয় সুন্দর বাড়িও ছিল। অনেক মানুষের কাছে তনুর জীবন স্বপ্নের মতো মনে হলেও সেই জীবন ত্যাগ করলেন তিনি। তনুর সেই পদক্ষেপ প্রযুক্তি জগতে আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। নেটপাড়ায় কর্মজীবন এবং ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
গুগ্লে পুরীর যাত্রা ছিল এক কথায় অসাধারণ। ২০২১ সালে মেজ়ারমেন্ট লিড হিসাবে যোগ দিয়ে তিনি কয়েক মাসের মধ্যেই প্রিন্সিপাল পদে উন্নীত হন। তরুণী জানিয়েছেন, এই পদোন্নতি সত্ত্বেও তিনি কর্পোরেট জগত নিয়ে খুশি ছিলেন না। শিকাগোয় কাটানো সময় নিয়ে ভাইরাল ভিডিয়োয় তিনি স্বীকার করেছেন, “জীবন প্রায় নিখুঁত ছিল। তবে সেই ‘প্রায়’ শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল পরিবারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত হাতছাড়া হওয়া এবং কঠোর সময়সূচির ভার।’’ তনু জানিয়েছেন, এক জন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও, তিনি কর্পোরেট জীবনের একঘেয়েমির চাপ অনুভব করতেন। উল্লেখ করেছেন, দু’সপ্তাহের ছুটির জন্যও অনুমতি নিতে হত তাঁকে।
আরও পড়ুন:
তনু জানিয়েছেন, তিনি উপলব্ধি করেন যে অনেক বেতন জীবনে আরাম দিলেও তা সত্যিকারের আনন্দ দেয় না। ভিডিয়োয় তিনি বলেন, “আমরা সত্যিকারের স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম এমন সম্পদ যা শুধু বেতন দিয়ে গড়া যায় না।” এ রকমই বিবিধ কারণে চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তনু।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তনু বলেন, “আমি গুগ্লে ভাল পদে ছিলাম, ভাল কাজ করছিলাম, ভাল উপার্জনও করছিলাম। আমি আমার জীবনের ওই পর্যায়টাকে সত্যিই খুব ভালবাসতাম। কিন্তু তার পর আমি এটাও বুঝতে পারলাম যে, আমি যা উপার্জন করছি তা যদি বহু গুণে বাড়াতে চাই, তা হলে আমায় অন্য কিছু করতে হবে। এবং এক পর্যায়ে, আমি ভাবতে শুরু করলাম যে কী ভাবে আমার উপার্জনকে শুধু ধাপে ধাপে না বাড়িয়ে বহু গুণে বাড়ানো যায়।”
আরও পড়ুন:
শেষমেশ আমেরিকার চাকরি ছেড়ে দুবাই চলে যান তনু। তিনি জানিয়েছেন, একাধিক সমস্যার সমাধান করতে তিনি দুবাই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বাবা-মা বহু বছর ধরে দুবাইয়ে রয়েছেন। তাই দুবাইয়ে তিনি তাঁদের সঙ্গে থাকতে পারবেন। ছোট সন্তানেরও দেখভাল করার জন্য চিন্তা করতে হবে না। আমেরিকা ছেড়ে আসায় এইচ-১বি ভিসার উদ্বেগ বা অভিবাসনের বাধা দূর হয়ে যায়। তরুণীর দাবি, দুবাইয়ের কর ব্যবস্থা ভাল হওয়ার কারণে সেখানে তিনি নিজের কাজও শুরু করতে পারবেন।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে তনুরই ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল ‘তনুপুরী০৭’ নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। নেটাগরিকদের অনেকেই তনুকে কর্পোরেট জগতের ‘শেকল’ ভাঙার জন্য তাঁর প্রশংসা করছেন। এক নেটগরিক মন্তব্য করেছেন, “প্রকৃত স্বাধীনতার গল্প। নিজের পছন্দের যে কোনও কাজ করুন। আনন্দে থাকুন।”