সত্তরের দশকে বলিউডের প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন জ়িনাত আমন। নায়িকা মানে কেবল শাড়িতেই সুন্দর, প্রচলিত এই ভাবনা ভেঙে গিয়েছিল তাঁর দৌলতে। যে কোনও সাহসী পোশাকে স্বচ্ছন্দ ছিলেন। জ়িনতে মুগ্ধ ছিল একটা গোটা প্রজন্ম। তবে নিজের দাম্পত্যজীবনে ছিলেন অসুখী। স্বামী সঞ্জয় খান তাঁকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করতেন, এ অভিযোগ আগেই করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর এমনই অবস্থা হয় যে, একটা চোখে দৃষ্টিশক্তি পর্যন্ত নষ্ট হতে বসে জ়িনাতের। বাবাকে নিয়ে করা অভিযোগের ভিত্তিতে মুখ খুললেন ফরাহ খান। প্রসঙ্গত, জ়িনাত সম্পর্কে সুজ়ান খানের সৎমা।
আরও পড়ুন:
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়েছিলেন জ়িনাত। এক জার্মান নাগরিককে বিয়ে করে সে দেশের নাগরিকত্ব পান তাঁর মা। জ়িনাতও পড়াশোনা করেন বিদেশেই। তার পর মুম্বই ফিরে এসে সাংবাদিকতায় যোগ দেন। সেখান থেকে অভিনয়জগতে পদার্পণ। কেরিয়ারের শীর্ষে থাকতেই ১৯৭৮ সালে জ়িনাত বিয়ে করেছিলেন সঞ্জয় খানকে। তত দিনে সঞ্জয়ের প্রথম বিয়ের বয়স পেরিয়ে গিয়েছে ১২ বছর। কিন্তু সঞ্জয়ের প্রেমে নাকি পাগল ছিলেন জ়িনাত। সব জেনেশুনেই সঞ্জয়কে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে মোহভঙ্গ হয় কয়েক মাসের মধ্যেই।
মাত্র এক বছরেই শেষ হয়ে যায় জ়িনাত ও সঞ্জয়ের প্রথম দাম্পত্য। অভিযোগ, জ়িনাতকে সন্দেহ করতেন সঞ্জয়। দমবন্ধ করা সেই সম্পর্কে মানসিক নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছিলেন না অভিনেত্রী। তবে, সরে এলেও সঞ্জয়কে তিনি মন থেকে মুছে ফেলতে পারেননি। দিনের পর দিন শারীরিক নিযার্তন সহ্য করতে হয় তাঁকে। শোনা যায়, ১৯৮০ সালে জ়িনাতকে মুম্বইয়ের এক হোটেলে ডেকে পাঠান সঞ্জয়। কথা ছিল, আলোচনা করবেন ছবি নিয়ে। কিন্তু অভিযোগ, হোটেলের বন্ধ ঘরে জ়িনাতকে মারধর করেন সঞ্জয়। চুলের মুঠি ধরে মাটিতে আছড়ে ফেলার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ, সঞ্জয়ের প্রথম স্ত্রী জ়ারিন অর্থাৎ হৃতিক রোশনের প্রাক্তন শাশুড়ির সামনেই নাকি সেই মারধর চলে। জ়িনাতের এ হেন অভিযোগের কখনও কোনও উত্তর দেননি জ়ারিন। ২০২৫ সালে মারা যান জ়ারিন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জ়ারিন ও সঞ্জয়ের ছোট মেয়ে ফরাহ দাবি করেন, এই সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা।
ফরাহের কথায়, ‘‘তখন আমি খুব ছোট ছিলাম, তাই আমার খুব স্পষ্ট স্মৃতি নেই। তখন আমার বয়স ৯-১০ বছর হবে। আমি শুধু এটাই বলতে চাই যে, জ়িনাত আমনকে আমার বাবা মারধর করতেন এবং তাতে তাঁর চোখে আঘাত লাগে— সমাজমাধ্যমে এই যে গল্পটি ক্রমাগত ছড়ানো হচ্ছে, তা পুরোটাই ভুয়ো। পুরোটাই বাজে কথা। আমার বাবা কখনও আমার মা কিংবা তাঁর মেয়েদের গায়ে হাত তোলেননি। তিনি একেবারেই হিংস্র মানুষ নন। আমি যতটুকু মায়ের কাছ থেকে জেনেছিলাম, জ়িনাত আমনের মায়েরও চোখের একটা সমস্যা ছিল। তাঁর চোখটাও ছোট ছিল। সুতরাং, শ্রীমতী আমনের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে, তা বংশগত। যা লেখা হয়েছে, তেমন একেবারেই নয়। আমার মা সবচেয়ে সৎ মানুষ। তিনি আমাকে বলেছেন যে, আমার বাবা কখনও ওঁর (জ়িনাত) গায়ে হাত তোলেননি। তাই, আমার বাবা যে ওঁকে মারধর করতেন— এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা।’’