রাতারাতি হাড় ক্ষয়ে যায় না। আর এক বার ক্ষয়ে গেলে, তাকে আর সহজে আগের অবস্থায় ফেরানো যায় না। বাকি জীবনের সঙ্গী হয় কষ্ট এবং যন্ত্রণা। বয়স বাড়লে ক্যালশিয়ামের মাত্রা কমে, হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। সামান্য আঘাতেই হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়ে। সমস্যা হল, হাড়ের যে ক্ষয় হচ্ছে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। ঋতুবন্ধের পর মহিলাদের পোস্ট মেনোপজ়াল অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে এ কথাও ঠিক যে, হাড়ের ক্যালশিয়াম কমে গিয়ে অস্টিয়োপোরোসিস-এর মতো সমস্যা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেরই হতে পারে। বেঙ্গালুরু নিবাসী হাড়ের চিকিৎসক জেভি শ্রীনিবাস এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর পর্যবেক্ষণ। তাঁর মতে, পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের মধ্যে প্রতি ৫০ জনের মধ্যে অন্তত ৫ জন হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভুগছেন। হা়ড়ের ক্ষয় শুরু হলে তার প্রভাব পড়ে শরীরে। এই বিষয়গুলি পরবর্তীতে কতটা কষ্টদায়ক হতে পারে, তা বুঝতে পারেন না অনেকেই। বিশেষত পুরুষদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সচেতন হন না।
কোন ৩ লক্ষণ হাড়ের ক্ষয়ের ইঙ্গিতবাহী
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কুঁজো হতে শুরু করা, উচ্চতা খুব ধীরে ধীরে কমতে থাকা আসলে হাড়ের ক্ষয়ের লক্ষণ। হাড়ের জোর কমার ইঙ্গিত। অনেক পুরুষই মনে করেন, এটি বার্ধক্যজনিত সার্বিক সমস্যা। আলাদা করে হাড়ের ক্ষয়ের সমস্যা নিয়ে তাঁরা সচেতন থাকেন না।
আরও পড়ুন:
অনেক কম বয়স থেকে এখন ঘাড়ে-কোমরে ব্যথা শুরু হয়। অনেকেই বসে থেকে কাজ করেন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে শুধু কম বয়সেই নয়, অনেক সময় হাড়ের ক্ষয় শুরু হতে পারে আগেই। তা ছাড়া, বয়স হলেও কোমর-পিঠে ব্যথা স্বাভাবিক না ভেবে, কেন সেটি হচ্ছে, তা জানা দরকার। চিকিৎসকই তার সঠিক কারণ বলতে পারবেন।
ছোট্ট আঘাতও অনেক সময় হাড় ভাঙার নেপথ্যে বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আঘাত কম বলে এড়িয়ে গেলে তা নিয়ে বেগ পেতে হতে পারে। পড়ে গিয়ে চোট পান অনেকেই। এমনি সেরে যাবে বলে বাম বা ব্যথানাশক মলম, সেঁক দিয়ে কমানোর চেষ্টা করেন। চিকিৎসকের কথায়, ‘‘অনেক সময় ছোটখাটো আঘাত থেকেই বড় সমস্যা হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা করালে ভবিষ্যতে বেগ পাওয়ার ঝুঁকি কমবে।’’
অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, কুঁজো হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলি তাই হেলাফেলা করা ঠিক নয়। বরং বয়স থাকতে উপযুক্ত সাপ্লিমেন্ট নিলে এবং শরীরচর্চা করলে দীর্ঘ দিন পর্যন্ত সুস্থ থাকা সম্ভব।