অল্পেই ক্লান্তি, আচমকাই বাড়ছে ওজন। অকালে ঝরছে চুল, শুকনো খসখসে ত্বক। সেই সঙ্গেই বুক ধড়ফড়, অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাচ্ছে হৃৎস্পন্দন। ছোটখাটো শারীরিক সমস্যাগুলি এড়িয়ে যাওয়া হয় বেশির ভাগ সময়েই। অথচ এই প্রতিটি উপসর্গের জন্য দায়ী হতে পারে থাইরয়েড, যার চিকিৎসা সঠিক সময়ে না হলে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যেতে পারে। হাইপোথাইরয়েড যদি থাকে, তা হলে ওজন বাড়ে খুব তাড়াতাড়ি। তা কমানোও বেশ কঠিন। কিন্তু সহজ কিছু যোগাসন অভ্যাস করলে থাইরয়েডের সমস্যাও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ওজনও কমবে তাড়াতাড়ি।
থাইরয়েড হল ঘাড়ের নীচে এন্ডোক্রিন সিস্টেমের একটি ছোট গ্রন্থি। এই থাইরয়েড গ্রন্থি এমন হরমোন তৈরি করে, যা শরীরের বিপাক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে এবং শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। হাইপোথাইরয়েডিজম হল এমন একটি অবস্থা যেখানে, থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত হরমোন উৎপাদন করে না। যে কারণে বিপাকক্রিয়ার গতি মন্থর হয়, ফলে ওজন বাড়ে, ক্লান্তি বাড়ে, মুখ-হাত-পায়ে ফোলা ভাব আসে, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দেয়। সেই সঙ্গে মেজাজের পরিবর্তনও হতে থাকে। যোগাসন অভ্যাসে এই সব সমস্যারই সমাধান হতে পারে।
হলাসন
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। এ বার কোমরে ভর দিয়ে পা দু’টি ধীরে ধীরে উপরে তুলুন। পা যেন ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে। হাতের তালুতে চাপ দিয়ে পা দু’টিকে মাথার উপর দিয়ে পিছন দিকে নিয়ে যান। এ বার পিঠ ধীরে ধীরে মাটি থেকে এমন ভঙ্গিতে তুলুন যাতে পায়ের আঙুলগুলি মাটি স্পর্শ করে। এ বার বুকের কাছে থুতনি নিয়ে আসুন। হাতের তালু এ ভাবে ভারসাম্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। এই আসনটিতে কিছু ক্ষণ থাকুন। তার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
আরও পড়ুন:
মৎস্যেন্দ্রাসন
মৎস্যেন্দ্রাসনকে বলা হয় ‘হাফ স্পাইনাল টুইস্ট পোজ়’। এটি করার জন্য প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসতে হবে। পা দু’টি টানটান করে ছড়িয়ে দিন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে। এ বার বাঁ পা মুড়ে বাঁ হাঁটু ডান ঊরুর উপর রাখুন। শরীর উপরের অংশ বাঁ দিকে ঘুরিয়ে বাঁ হাত ডান হাঁটুর উপর রাখুন। ডান হাত পিঠের দিক দিয়ে ঘুরিয়ে পায়ের পাতা ধরে রাখতে হবে। এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ড থেকে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
কপালভাতি
আরামদায়ক কোনও একটি আসনের ভঙ্গিতে বসুন, তা পদ্মাসন, বজ্রাসন বা সুখাসনও হতে পারে। মাথা ও মেরুদণ্ড সোজা রাখুন। দুই হাতকে জ্ঞান মুদ্রার (বুড়ো আঙুল ও তর্জনী জুড়ে হাতের তালুকে উপরের দিকে রাখতে হবে) ভঙ্গিতে রাখুন। স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে শ্বাস নিন। শ্বাস ছাড়ার সময় পেটের পেশির উপর চাপ দিতে হবে। দ্রুত শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে। এই ভাবে দ্রুত লয়ে শ্বাস নিতে ও ছাড়তে হবে ১০-২০ বার। পাঁচ সেটে এই প্রাণায়াম নিয়মিত করলে সুফল পাওয়া যাবে।