শরীরের অত্যন্ত জরুরি প্রত্যঙ্গ কিডনির কাজ থামে না ঘুমের সময়েও। শরীরের ছাঁকনি হিসাবে কাজ করে তা। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ ছেঁকে মূত্রের মাধ্যমে বার করে দেয়। সেই কারণেই সুস্থ থাকে শরীর। কিডনির কার্যকারিতা কমলে বা থমকে গেলে পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ।
কিন্তু রাতের কিছু অভ্যাসে চাপ পড়তে পারে কিডনির উপরে। না জেনে অনেকে সেই ভুল করে বসেন। এই ভুল একবার অভ্যাসে পরিণত হলে, তা থেকে কিডনির দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন:
ঘুমোনোর আগে বেশি জল খাওয়া: ঘুমোনোর আগে জল খেয়ে শোয়ার অভ্যাস অনেকেরই। ঘুমের সময় জলের অভাব হলে শরীরবৃত্তীয় কাজে অসুবিধা হতে পারে। কিন্তু তা বলে অতিরিক্ত জল খাওয়ার অভ্যাস ঠিক নয়। একবারে অনেকটা জল খেয়ে শুলে কিডনিও বেশি পরিমাণ প্রস্রাব তৈরি করবে। প্রস্রাবের পরিমাণ বেশি হলে মূত্রথলিতে চাপ বাড়বে। ফলে, রাতে ঘুমের সমস্যা হতে পারে। একে বলা হয় নকচুরিয়া। রাতে প্রস্রাব করার জন্য বার বার উঠতে হয়। তা ছাড়া, খুব বেশি জল খেলে কিডনির উপরেও চাপ পড়ে।
প্রস্রাব ধরে রাখা: রাতে প্রস্রাব পেলেও অনেকে আলসেমি করে উঠতে চান না। বিশেষত শীতের দিনে লেপের ওম থেকে উঠে প্রস্রাব করার জন্য যেতে বেশি আলস্য বোধ হয়। কিন্তু দিনের পর দিন এই অভ্যাসে কিডনির ক্ষতি অনিবার্য। এতে মূত্রথলিতে চাপ পড়ে। তা ছাড়া, ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা মূত্রে সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
প্রোটিন জাতীয় খাবার: প্রোটিন জাতীয় খাবার স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। তবে রাতে বেশি প্রোটিন বা ভারী খাবার খেলে কিডনির উপরে চাপ পড়তে পারে। প্রোটিন ভেঙে ইউরিয়া-সহ বেশ কিছু উপাদান তৈরি হয়। শরীরের জন্য অপ্রয়োজনীয় সেই পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তবে খুব বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে মূত্রে ইউরিয়া-সহ কিছু কিছু উপাদানের মাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেড়ে যেতে পারে। তা থেকে কিডনিতে সংক্রমণ হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে কিডনি।