গরমের সময় মশলাদার খাবারের বদলে হালকা এবং সহজপাচ্য খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আর গরমে বাঙালির কাছে পান্তাভাতের চেয়ে আরামদায়ক খাবার খুব কমই আছে। তবে রোজ তো গুছিয়ে বসে পান্তাভাত খাওয়ার সময় হয় না। তা ছাড়া রোজ রোজ এক খাবার খেতে ভাল না-ও লাগতে পারে। গ্রীষ্মের দুপুরে পেট ঠান্ডা রাখতে তাই জেনে নিতে পারেন পান্তাভাতের মতোই সুস্বাদু এবং শরীর ঠান্ডা রাখার বিকল্প, যা ভাত দিয়েই বানানো যায়।
১. কার্ড রাইস
সেদ্ধ ভাতের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে তার ওপর কারিপাতা, সর্ষে এবং শুকনোলঙ্কার ফোড়ন মিশিয়ে তৈরি করা হয় দক্ষিণ ভারতীয় খাবার কার্ড রাইস। দইয়ের প্রোবায়োটিক গুণ হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি, শরীরকেও ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখে।
২. লেমন রাইস
লেবুর রস এবং কারিপাতার সুগন্ধে ভরপুর ভাত। তার প্রতি গ্রাসে মুখে পড়বে চিনেবাদাম। এই খাবারটিও দক্ষিণ ভারতের। তবে শুধু সুগন্ধ নয়, তরতাজা ভাব আর সুস্বাদের জন্যও লেমন রাইস গরমের খাবার হিসাবে জনপ্রিয়। তা ছাড়া লেবুর ভিটামিন-সি শরীরকে আর্দ্র রাখতে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
৩. মাঙ্গাই সাদাম
দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে এই ভাত গরমে অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে বৈশাখের এই সময়ে যখন কাঁচা আম পাওয়া যায়, তখনই সেই কাঁচা আম দিয়ে রান্না করা হয় মাঙ্গাই সাদাম। এটি আসলে কোরানো কাঁচা আম দিয়ে তৈরি ভাত। তেলে শুকনোলঙ্কা, হিং, বিউলির ডাল, ছোলার ডাল, চিনেবাদাম ফোড়ন দিয়ে তাতে হলুদ আর কোরানো আম দিয়ে নেড়ে নিতে হয়। তার পরে তার মধ্যে মেশাতে হয় সেদ্ধ করা ভাত। এই ভাত শরীরকে প্রয়োজনীয় ইলেকট্রোলাইটের জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভিটামিন সি-ও সরবরাহ করে।
৪. কোশাম্বারি রাইস
দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কর্নাটকের একটি অতি জনপ্রিয় পদ হল কোশাম্বারি রাইস, যা তৈরি হয় মূলত ভাত, ভেজানো মুগ ডাল, নারকেলকোরা আর কুচোনো শসা ও গাজর দিয়ে। স্বাদ বৃদ্ধি করতে এতে কারিপাতা, সর্ষে, কাঁচালঙ্কা এবং হিংয়ের ফোড়নও দেওয়া হয়। সবশেষে দেওয়া হয় ধনেপাতাকুচি। এই ভাত যেমন পুষ্টিগুণে ভরপুর, তেমনই সহজপাচ্য। প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এই ভাত স্বাস্থ্যসচেতনদের মধ্যেও জনপ্রিয়। রান্নাটি অত্যন্ত হালকা এবং শরীরকে দ্রুত ঠান্ডা করতেও কার্যকর।
৫. লাউ দিয়ে জাউ ভাত
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে এটি আরও একটু সুস্বাদু এবং সহজপাচ্য খাবার। নতুন আতপ চাল বা যে কোনও সুগন্ধি ছোট দানার চাল অথবা খুদ এবং কচি লাউয়ের টুকরো এক সঙ্গে একটু বেশি জল দিয়ে সেদ্ধ করা হয়। তার পরে উপরে নুন, কাঁচালঙ্কা, ঘি বা সর্ষের তেল সহযোগে এটি খাওয়া হয়। অনেকে জাউভাতের স্বাদবর্ধনে তাতে মুসুর বা মুগের ডালও মেশান। তবে তা ছাড়াও লাউয়ের জাউ ভাত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। আলু বা ডালের ভর্তার সঙ্গে এটি খেতে ভাল লাগে।