দিনের শুরুই বিচার করবে, শেষটা কেমন হবে। আপনি দিনের প্রথম কয়েক ঘণ্টা কী ভাবে কাটান, তা আপনার বাকি দিনের মেজাজ এবং স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে দেয়। খালি পেটে শুরুতেই কী খাচ্ছেন, কী করছেন, সেই অভ্যাসগুলিই রক্তে শর্করা আর ইনসুলিনের ভারসাম্য ঠিক করে দেয় অনেকাংশে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন কিছু তথাকথিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাসও আছে, যা উল্টে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স বাড়িয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ শরীর ধীরে ধীরে ইনসুলিনের প্রতি কম সাড়া দিতে থাকে, আর সেখান থেকেই বাড়ে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি।
এই সময়ে রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিক ভাবেই কম থাকে, পাশাপাশি কর্টিসলের মাত্রা একটু বেশি থাকে, যাতে শরীর পুরোপুরি ভাবে জেগে উঠতে পারে। এমন একটি মুহূর্তে আপনি যা করবেন, তার প্রভাব শরীরে পড়বে। খালি পেটে করা ৫টি ভুলের কথা তুলে ধরা হল, যেগুলি এড়িয়ে চলা জরুরি—
১. ফলের রস বা স্মুদি দিয়ে দিন শুরু করা
অনেকেই ভাবেন, ফলের রস বা স্মুদি দিয়ে দিন শুরু করা খুবই স্বাস্থ্যকর এক অভ্যাস। কিন্তু খালি পেটে এগুলি শরীরে দ্রুত শোষিত হয়, কারণ এতে ফাইবার কম থাকে। ফলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায়, আবার দ্রুত কমেও যায়, যা ইনসুলিনের উপর চাপ ফেলে।
সকাল সকাল কী কী খাবেন না? ছবি: সংগৃহীত
২. খালি পেটে কালো কফি খাওয়া
ঘুম থেকে উঠে সরাসরি কফি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। কিন্তু খালি পেটে কফি শরীরে স্ট্রেস হরমোন বা কর্টিসল বাড়াতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। এতে ইনসুলিনের কাজ আরও জটিল হয়ে যায়।
৩. না খেয়ে ভারী ব্যায়াম করা
খালি পেটে দীর্ঘ ক্ষণ এবং তীব্র ব্যায়াম করলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন বাড়ে। এতে শরীর গ্লুকোজ়ের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হিমশিম খায়। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
৪. প্রথমেই পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া
বিস্কুট, সাদা পাউরুটি বা প্যাকেটজাত খাবার— এই ধরনের কার্বোহাইড্রেট খালি পেটে খেলে দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ে। তার পর হঠাৎ কমে যায়। এই ওঠানামা প্রতি দিন হলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
৫. দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা
অনেকেই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের নামে দীর্ঘ ক্ষণ না খেয়ে থাকেন। কিন্তু সবার ক্ষেত্রে এই রুটিন উপযুক্ত নয়। বিশেষ করে মানসিক চাপ বা ঘুমের সমস্যা থাকলে, তার পর অনেক ক্ষণ না খেয়ে থাকলে রক্তে শর্করার ওঠানামা আরও বেড়ে যেতে পারে।
কী করা উচিত?
সকালে খালি পেটে প্রোটিন, ফাইবার আর স্বাস্থ্যকর ফ্যাটযুক্ত সুষম খাবার দিয়ে দিন শুরু করা উচিত। খাবার খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় বজায় রাখা এবং শরীরের প্রয়োজন বোঝাও সমান জরুরি। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলিই ধীরে ধীরে শরীরের বিপাকস্বাস্থ্যকে বদলে দেয়।