Advertisement
E-Paper

চরিত্র বদলাচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, একাধিক উপরূপকে জব্দ করতে নতুন টিকা তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

শীত এলেই ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রকোপ বাড়ে, সে ধারণা এখন অতীত। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস এত দ্রুত তার চরিত্র বদলে ফেলছে, যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-ও রীতিমতো উদ্বিগ্ন। ভাইরাসের জিনে রাসায়নিক বদল চলছে। তাই পুরনো টিকাও আর তেমন ভাবে কাজ করছে না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:৩৯
A novel vaccine platform has been developed to protect against influenza virus infections

ইনফ্লুয়েঞ্জার যে কোনও উপরূপকে প্রতিরোধ করার টিকা আছে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কাশি আর সঙ্গে জ্বর! দু-তিন মাস ধরে এমন উপসর্গ দেখা দিলে তা মোটেই ভাল লক্ষণ নয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর মতে, এই উপসর্গগুলির জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ৩এন২ উপরূপ। তবে ইনফ্লুয়েঞ্জার এখন একটি বা দু’টি উপরূপ নেই, বেশ কিছু উপরূপ চলে এসেছে। ভাইরাস দ্রুত তার চরিত্র বদলে আরও সংক্রামক হয়ে উঠছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে এখন উদ্বিগ্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাস এত তাড়াতাড়ি বদলাচ্ছে যে, পুরনো টিকা বা ওষুধ তেমন ভাবে কাজ করছে না। সে কারণে নতুন প্রতিষেধক তৈরির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

আমেরিকার জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা তৈরি করেছেন নভেল মিউকোজ়াল টিকা, যা ইনফ্লুয়েঞ্জার যে কোনও উপরূপকে প্রতিরোধ করতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, শুধু ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়, শ্বাসের রোগের জন্য দায়ী যে কোনও ভাইরাসকে ঠেকাতেও টিকাটি কার্যকরী হতে পারে।

ইনফ্লুয়েঞ্জার এত বাড়বাড়ন্ত কেন?

Advertisement

‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল’, (এনসিডিসি)-র দেওয়া তথ্য জানাচ্ছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা হল এমন এক রোগ, যার ভাইরাস নিত্য রূপ বদলায়। মোটামুটি তিন ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হন মানুষ। একটি সাধারণ, মরসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা। দ্বিতীয়টি, মহামারির আকার ধারণ করে, এমন, ইনফ্লুয়েঞ্জা। তৃতীয়টি হল, জুনোটিক ইনফ্লুয়েঞ্জা। যা প্রাণী থেকে ছড়ায়। যেমন, বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু ইত্যাদি।

গত বছর ডিসেম্বরে ইনফ্লুয়েঞ্জার দুই প্রজাতি ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ ও ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা বি’ ভাইরাসের প্রকোপ বেড়েছে। রাজ্যেও ফেব্রুয়ারি থেকে ফ্লু-এর ভাইরাস মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে বা কোনও কোমর্বিডিটি থাকলে, ঝুঁকি বাড়ছে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে শিশুদের ক্ষেত্রে ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রাণঘাতী হতে পারে। শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিচ্ছে অনেকের। সেই সঙ্গেই বমি ভাব, ডায়েরিয়া, মুখের ভিতর শুকিয়ে যাওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব হচ্ছে। চোখ ফুলে যাচ্ছে, প্রচণ্ড ক্লান্তি ভাব দেখা দিচ্ছে। শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাচ্ছে, আচমকা, জ্ঞান হারিয়ে ফেলার মতো লক্ষণও দেখা দিচ্ছে অনেকের। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, যে হারে রোগের উপসর্গ বদলাচ্ছে, তাতে আর কিছু দিন পরে চেনা টিকাও তেমন ভাবে কাজ করবে না। তাই ভাইরাসের বদলকে মাথায় রেখে সেই অনুরূপ টিকা তৈরির প্রচেষ্টাই চলছে।

Influenza H5N1 influenza virus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy