উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় এ বার গ্রেফতার পুরপ্রধান দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের হিসাবরক্ষক এবং তাঁর এক আত্মীয়। অভিযোগ, ধৃত শামিম গাজি এবং তাঁর কাকা রফিকুল গাজি পাটখেতে পুরপ্রধানের টাকা লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করেছিলেন। লুকিয়ে রেখেছিলেন ত্রিপলও, যা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। দীপঙ্করের পাটখেতে মাটি খুঁড়ে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাতভর টাকা গোনার পরে বৃহস্পতিবার ভোরে পুলিশের তরফে জানানো হয়, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লক্ষ। দীপঙ্করকে জেরা করে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ, দীপঙ্করের অবৈধ কাজকর্ম, বেআইনি টাকার হিসাব রাখতেন হিসাবরক্ষক শামিম। ধৃত রফিকুল শামিমের কাকা। তিনি দীপঙ্করের ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। অভিযোগ, ধৃত দীপঙ্করের হয়ে তোলাবাজি, বেআইনি কারবার সামলাতেন তিনি। পাটখেত থেকে যে টাকা এবং কয়েক হাজার সরকারি ত্রিপল উদ্ধার হয়েছে, তা লুকিয়ে রাখায় শামিম এবং রফিকুলের সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার তাঁদের বসিরহাট মহকুমা আদালত হাজির করানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
-
বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানের পাটখেত থেকে উদ্ধার হওয়া রাশি রাশি টাকা গোনা হল সারা রাত, মোট কত উদ্ধার? জানিয়ে দিল পুলিশ
-
জনমতকে মান্যতা: ভদ্রেশ্বরে পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ আট কাউন্সিলরের ইস্তফা, বিজেপি বলল, ‘অন্তরাত্মা জেগে উঠেছে’
-
‘দল যে ভরসা রেখেছিল, তার জন্য কৃতজ্ঞ’! পুরসভার পরে এ বার তৃণমূলের মুখপাত্রের পদ ছাড়লেন অরূপ
সোমবার বাদুড়িয়ার পুরপ্রধানকে একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখনও তাঁর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মঙ্গলবার আদালত তাঁকে ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার দীপঙ্করকে সঙ্গে নিয়েই তৃণমূল কার্যালয়ের পাশে একটি জমিতে যায় পুলিশ। খেতের একটি জায়গায় মাটি খুঁড়ে ব্যাগভর্তি টাকা উদ্ধার হয়েছে। টাকাভর্তি মোট চারটি ট্রলি এবং একটি বস্তা উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সব ক’টি ব্যাগের ভিতরেই তাড়া তাড়া ৫০০ টাকার নোট ছিল। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, মোট ৮০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে। তবে তখনও সব টাকা গোনা শেষ হয়নি। বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে যন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়।
কী ভাবে এত টাকা পেয়েছিলেন দীপঙ্কর, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেউ বলছেন, আবাসের টাকা সরিয়ে নিয়েছিলেন পুরপ্রধান। কারও অভিযোগ, সবই তোলাবাজির টাকা। পুলিশ তদন্ত করছে।