সন্ধ্যার পর থেকে খাওয়া কমিয়ে দিন, সকালের জলখাবারে খান পেট ভরে— এই নিয়মকেই স্বাস্থ্যকর বলে জানেন অধিকাংশ। পুষ্টিবিদেরাও সাধারণত এই অভ্যাস অনুসরণের পরামর্শ দেন। অন্য দিকে, একাধিক তারকা তাঁদের যাপনের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জানান, তাঁরা রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে নেন এবং অল্প খাবার খান। পেট না ভরিয়ে খাওয়ার অভ্যাস তাঁদের। ফলে এই রুটিনকেই স্বাস্থ্যকর বলা হয় সাধারণত। কিন্তু মুম্বইয়ের টেলিঅভিনেত্রী ক্রিস্টাল ডি’সুজ়ার ডায়েটে সম্পূর্ণ উলটপুরাণ।
প্রাতরাশ না করে পেট ভরে মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজ সারেন ‘ধুরন্ধর’ ছবির অভিনেত্রী। ডিনার। তার পর প্রায় ১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন। অভিনেত্রী ক্রিস্টালের এই রুটিন এখন অনেকেরই আগ্রহের কারণ। ক্রিস্টাল জানিয়েছেন, তিনি সকালে কিছু খান না, দুপুরে ঘরোয়া খাবার খান। মূলত সব্জি, রুটি, দই বা কখনও স্যালাড। আর রাতের খাবারটাই সবচেয়ে ভারী। রোজই বাইরে গিয়ে এশিয়ান বা জাপানিজ় খাবার খান।
প্রায় ১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকেন টেলিঅভিনেত্রী ক্রিস্টাল ডি’সুজ়া। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু রাতে পেটভর্তি করে খাবার খাওয়া কি উচিত? এই ধরনের ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’ কি আদৌ স্বাস্থ্যকর? না কি এতে লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?
রাতে অতিরিক্ত খাবার খেলে কখনও কখনও বিপাকীয় স্বাস্থ্যর উপর বেশি চাপ পড়ে যায়। ফলে হজমের সমস্যা হতে পারে। কারণ, রাতে হজমের গতি স্বাভাবিক ভাবেই ধীর হয়। এতে পেটফাঁপা, অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া দিনের শেষে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীর তা সঠিক ভাবে ব্যবহারও করতে পারে না।
তা ছাড়া প্রাতরাশ একেবারে বাদ না দিয়ে হালকা কিছু খাওয়া উচিত রোজ সকালে। সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ও নৈশভোজেও ভারসাম্য রাখা জরুরি, যাতে প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট সারা দিন ধরে শরীরে যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, খিদে ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিতে হবে। কোনও কঠোর নিয়মে নিজেকে বেঁধে না ফেলে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
১২-১৫ ঘণ্টা উপবাসের অভ্যাস অনেকেরই আছে। এতে শরীর কিছু ক্ষণের জন্য হজম প্রক্রিয়া থেকে বিশ্রাম পায়। এতে কখনও সখনও বিপাকীয় স্বাস্থ্যে ভাল প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু এই অভ্যাস সবার জন্য উপযুক্ত নয়। যাঁদের কাজের চাপ বেশি, বা যাঁদের রক্তে শর্করার ওঠানামা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এতে শরীরে দুর্বলতা বাড়তে পারে। তাই চিকিৎসক এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে তবেই এমন খাদ্যাভ্যাস রপ্ত করা উচিত।