Advertisement
E-Paper

হাড়ের ক্ষত মেরামত হবে নিজেই, হাঁটু প্রতিস্থাপনের দরকারই হবে না, উপায় খুঁজে পেলেন গবেষকেরা

দুর্বল হয়ে পড়া হাড়ের জোর বাড়বে। ক্ষয়ে যাওয়া হাড় নিজে থেকেই সেরে উঠবে। বাড়বে অস্থি-তরুণাস্থির ঘনত্বও। এক বিশেষ প্রোটিনকে কব্জা করে হাড়ের বার্ধক্য থামিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজে পেলেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:৩২
Breakthrough to restore Aging Joints, a new era in Osteoarthritis Treatment

বুড়ো হবে না হাড়ও, ধরবে না বাত, প্রতিস্থাপনের দরকারই হবে না। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বয়স হলেই হাঁটুর জোর কমে। এ কথা তো সকলেই বলেন। কারণটা আসলে কী? হাড় দুর্বল হওয়ার কারণ হল তার ঘনত্ব কমে আসা। বয়স যত বাড়বে, শরীর যত বুড়িয়ে যাবে, ততই হাড়ের ঘনত্ব কমে সে দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়বে। গাঁটে গাঁটে শুরু হবে যন্ত্রণা। স্বাভাবিক বা প্রাকৃতিক নিয়মেই তা হবে। এ বার ধরা যাক, এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকে যদি থামিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে কেমন হয়? এর জন্য ডায়েট বা ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। ভিতর থেকে হাড়ের বার্ধক্য রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। বয়সকালেও হাড় থাকবে যৌবনের মতো শক্তপোক্ত। সে উপায় খুঁজে পেয়েছেন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা।

হাড়েও ধরা থাকবে যৌবন

হাড় ক্ষয়ে গেলে তা কি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে? চিকিৎসকেরা বলবেন, কম বয়সে যদিও বা তা হয়, বয়সকালে তো একেবারেই নয়। কিন্তু গবেষণা বলছে, বয়স যতই হোক, হাড় ভাঙলে বা ক্ষয়ে গেলে তা আপনা থেকেই জুড়ে যাবে। অর্থাৎ, হাড়েরও পুনরুজ্জীবন ঘটবে। এটি সম্ভব করবে এক বিশেষ প্রোটিন। সেটিকে ধরেবেঁধে রাখতে পারলেই হাড় শক্তপোক্ত থাকবে যে কোনও বয়সেই। বার্ধক্যেও হাড়ের জোর হবে দেখার মতো।

Advertisement

প্রোটিনটির নাম ‘১৫-পিজিডিএইচ’। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রোটিনের দাপাদাপি বাড়ে। আর এর কারণেই হাড় ক্ষয়ে যেতে থাকে। অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। অস্টিপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার রোগ এখন কম বয়সেও হয়। বয়স ত্রিশের কোঠা পেরোলেই অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে। হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। হাড় ধীরে ধীরে দুর্বল এবং ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। মহিলাদের রজোনিবৃত্তির পরে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। সে কারণেই দেখা যায়, চল্লিশ পেরোলে বেশির ভাগ মহিলাই হাঁটু বা অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভোগেন। কাবু করে বাতের ব্যথাবেদনা। তবে মহিলাদের শুধু নয়, পুরুষদেরও এমন হয়। আর এ সবের নেপথ্যেই রয়েছে ‘১৫-পিজিডিএইচ’ প্রোটিনের কারসাজি। এই প্রোটিনটিই হাড়ের শক্তি কমিয়ে দিতে থাকে। হাড়ের বার্ধক্যও এর কারণেই আসে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা দেখেছেন, এই প্রোটিনকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলেই, হাড়ের ক্ষয়ের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে বা বিলম্বিত হবে। যদি দীর্ঘ সময় প্রোটিনকে কব্জা করে রাখা যায়, তা হলে বৃদ্ধ বয়সেও হাঁটাচলা করার সমস্যা হবে না। বাতের ব্যথা ধারেকাছে ঘেঁষবে না।

ইঁদুরের উপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হয়েছিলেন গবেষকেরা। দেখা যায়, প্রোটিনটিকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলে ইঁদুরের কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক ভাবেই হচ্ছে। হাড় আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্টও জুড়ছে খুব দ্রুত। এর পর মানুষের হাড়ের উপর পরীক্ষা করেও একই ফল পাওয়া যায় বলে দাবি।

বর্তমানে অস্টিয়োআর্থ্রাইটিসের চিকিৎসা মূলত ব্যথানাশক ওষুধ বা প্রতিস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিছু ক্ষেত্রে স্টেম কোষ থেরাপির প্রয়োগ হচ্ছে, তবে তাতে সাফল্যের হার সীমিত। গবেষকেরা বলছেন, ‘১৫-পিজিডিএইচ’ প্রোটিনকে থামিয়ে দেওয়ার কোনও চিকিৎসা বা ওষুধের থেরাপি যদি শুরু করা যায়, তা হলে আর হাঁটু প্রতিস্থাপনেরও প্রয়োজন হবে না। জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়াই সেরে উঠবেন রোগী।

Osteoarthritis Knee Pain Joint pain Anti-aging
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy