শীতের প্রকোপে জবুথবু অবস্থা রাজ্যবাসীর। দোকানে হিটার কেনার ভিড় জমেছে। এই সময়ে ঘরে ঘরে সর্দি-কাশি, জ্বরে ভুগছেন অনেকেই। শীতের দিনে শরীর চাঙ্গা রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যভ্যাসে কিছুটা বদল আনা জরুরি। প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে রোজের ডায়েটে কোন কোন মশলা রাখবেন, হদিস দিলেন রন্ধনশিল্পী সঞ্জীব কপূর।
কাঁচা হলুদ: কাঁচা হলুদের গুণ অনেক জেনেও অনেকেই খেতে চান না, কারণ একটাই। এর স্বাদ পছন্দ নয় তাঁদের। হলুদ দুধে মিশিয়ে নিলেই হয়ে যাবে মুশকিল আসান। হলুদের অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি আর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ শীতে মরসুমি সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করে। হলুদে থাকা নানা যৌগ রোগপ্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে শরীর চাঙ্গা রাখে, হজমেও সাহায্য করে। শীত বাড়লে গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা বাড়ে অনেকের। হলুদ ডায়েটে রাখলে সেই ব্যথার হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
আদা: শীতের দিনে সংক্রমণ লেগেই থাকে। টাটকা আদা কুচিয়ে জলে ফুটিয়ে খেলে হালকা ঝাঁজ লাগে। গলায় আরাম হয়। আদায় রয়েছে প্রদাহনাশক উপাদান, যা ফুসফুসের বায়ু চলাচলের পথকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে। বলা যায়, আদা হল ফুসফুসের সাফাইকর্মী। মূলত কাশি হলে বা দূষিত বাতাস শরীরে গেলে শ্বাসের কষ্ট হয়। আদা চায়ে চুমুক দিলে এমন পরিস্থিতিতে আরাম মিলতে পারে। কারণ, আদা ফুসফুসের বাতাস চলাচলের পথগুলিকে পরিষ্কার করে দিতে পারে।
এলাচ: শীতকালে ঠান্ডা লেগে সর্দি-কাশি বা বুকে কফ জমার সমস্যা বাড়ে। এলাচ প্রাকৃতিক ‘এক্সপেক্টোরেন্ট’ হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ এটি ফুসফুস ও শ্বাসনালি থেকে কফ বের করে দিতে সাহায্য করে। হাঁপানি বা অ্যাজমার রোগীদের জন্যও এটি উপকারী। এলাচে রয়েছে থার্মোজেনিক উপাদান। এটি শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে শরীরকে ভেতর থেকে উষ্ণ রাখে, যা বাইরের পারদ কমলেও শরীরের ভিতরের তাপমাত্রা বজায় রেখে শীতে আরাম দেয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে হেঁশেলের এই মশলা।