কোনও অসুখ নিঃশব্দে শরীরে হানা দিলেও সঠিক সময়ে তা জানা যায় না। যখন শরীরে রোগলক্ষণ ফুটে ওঠে, তখন অনেকটা দেরি হয়ে যায়। তবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, প্রস্রাবের রং দেখে অনেক সময় রোগ নির্ণয় করা যায়। স্বচ্ছ এবং সাদার বদলে যদি প্রস্রাবের রঙে খানিক বদল আসে, সে ক্ষেত্রে তা কিন্তু কোনও রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেকে মনে করেন, গাঢ় হলুদ প্রস্রাব মানেই তা ডায়াবিটিসের লক্ষণ। তখন প্রস্রাবের রং দেখেই শুরু হয়ে যায় উদ্বেগ।
চিকিৎসকদের মতে, গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব কিন্তু ডায়াবিটিসের থেকেও বেশি ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। ঠিক মতো জল না খেলে, কিংবা নির্দিষ্ট কিছু খাবার আর ওষুধের ফলে হলুদ প্রস্রাব হতে পারে। তবে শরীর যখন জলশূন্য হয়ে পড়ে, তখন কিডনি প্রস্রাব থেকে জল শোষণ করে। ফলে প্রস্রাবের স্বাভাবিক রং ঘনীভূত হয়ে হলুদ রং ধারণ করে। এ ছাড়া শরীরে ইউরোবিলিন পিগমেন্ট উৎপাদনের কারণে সাধারণ প্রস্রাবের রং ফ্যাকাশে হলুদ হতে পারে।
প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, সে ক্ষেত্রে জন্ডিসের আশঙ্কা থেকে যায়। তেমন হলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এ ছাড়াও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স কিংবা মূত্রনালির সংক্রমণ দূর করার কোনও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খেলেও প্রস্রাবের রং হালকা কমলা বা হলুদ হতে পারে।
চিকিৎসকের মতে, ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে প্রস্রাবের রঙের থেকেও ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ বেশি চিন্তার কারণ হতে পারে। হঠাৎ করে বার বার প্রস্রাবের বেগ এলে সে ক্ষেত্রে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি থাকতে পারে। এর পাশাপাশি ডায়াবিটিস হলে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। সে ক্ষেত্রে বার বার ইউটিআই-তে আক্রান্ত হলে এক বার রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। ডায়াবিটিস থাকলে ঘন ঘন প্রস্রাবের সঙ্গে জল খাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে।