কারও যেমন ঝাল-মশলাদার খাবারের প্রতি লোভ, কারও ভালবাসা মিষ্টির প্রতি। শুধু রসগোল্লা, রাবড়ি, কাজু বরফি নয় কেক, পেস্ট্রি, পুডিং দেখলেও মন খাই খাই করে। মিষ্টিই হোক বা নোনতা— বিশেষ বিশেষ খাবারের প্রতি অনুরাগ, অস্বাভাবিক নয় মোটেই। অল্প-বিস্তর এমন হতেই পারে। কিন্তু ভরপেট খাওয়ার খানিক পরেই মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ যদি বাড়তে থাকে, সেই লোভ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তা হলে কিন্তু সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। থানের ডায়াবিটিসের চিকিৎসক বিজয় নেগলুর এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, এমন আচরণের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে ইঙ্গিত, শরীর কী ভাবে ইনসুলিন ব্যবহার করছে, শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে।
আরও পড়ুন:
সিম্পল কার্বোহাইড্রেট বা সরল শর্করা জাতীয় খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। যত দ্রুত শর্করার মাত্রা বাড়ে, তত তাড়াতাড়ি তা কমতেও পারে। আর ঠিক সেই কারণে, খাওয়ার পরেই মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হয়। চিকিৎসক সতর্ক করছেন, যাঁদের শরীরে ইনসুলিন হরমোন (শর্করা কাজে লাগিয়ে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে) ভাল ভাবে কাজ করে না অর্থাৎ ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্ট বা প্রি-ডায়াবেটিক, তাঁদের ক্ষেত্রে শরীর এমন প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে।
মিষ্টি খাওয়ার অতিরিক্ত ইচ্ছার কারণ কী
দৈনন্দিন খাবারে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট না থাকলে শরীরে আচমকা শর্করার চাহিদা তৈরি হতে পারে। তখন মস্তিষ্ক ইঙ্গিত দেয় শর্করা বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার। ফলে মিষ্টি দেখলেই খেতে ইচ্ছা হয়।
অনেক সময় মানসিক চাপ, মন খারাপের হাত ধরেও এমন ইচ্ছা তৈরি হয়। মন খারাপের সঙ্গে কর্টিসল হরমোনের সম্পর্ক রয়েছে। হরমোনের ক্ষরণ বাড়লে মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হতে পারে। আবার কম ঘুম হলেও হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়।খাওয়ার পরে তৃপ্তির নেপথ্যে যে সমস্ত হরমোন থাকে, তার কার্যকারিতা কমলেও মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা হতে পারে। চিকিৎসক জানাচ্ছেন, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব হলে চিনি বা মিষ্টি খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়।
মিষ্টি খেতে ইচ্ছা মানেই কি সুগার হওয়া?
মিষ্টি খাওয়ার ঝোঁক বাড়ল মানেই কি ডায়াবিটিস হয়েছে? এমনটা বলছেন না চিকিৎসক। তবে বার বার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা ইঙ্গিত দিতে পারে শরীরে সহজে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। তবে যদি ওজন বাড়তে থাকে, সর্বক্ষণ ক্লান্ত বোধ হয়, পরিবারে ডায়াবিটিসের ইতিহাস থাকে, তা হলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এমন হলে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
চিনি খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণের উপায় কী
স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে বলছেন চিকিৎসক। পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যেন খাবারে নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকায়। পুষ্টির সঠিক সমন্বয় জরুরি। মিষ্টি খাওয়া শরীরের পক্ষে ভাল নয়। তবে তা একেবারে না ছেড়ে দিয়ে নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছেন চিকিৎসক।