ভাত, রুটি বাদ দিয়ে মিলেট, রাগি, বাজরা, ওট্সে মন দিয়েছেন? বদলে ফেলেছেন খাদ্যাভ্যাস? তবে দিল্লি নিবাসী পেটের রোগের চিকিৎসক শুভম বৎস্য জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি লুকিয়ে চিরপরিচিত রুটিতে। ভারতের নানা রাজ্যেই বহু দিন ধরে রুটি খাওয়ার চল। নেটপ্রভাবী চিকিৎসক বলছেন, হাতে গড়া রুটি শুধু পেট ভরানো তৃপ্তিদায়ক খাবার নয়, তার চেয়েও বেশি কিছু। শুধু বেছে নিতে হবে সঠিক উপকরণ, তা হলেই তা স্বাস্থ্য রক্ষা করবে।
অনেকেই স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখতে গিয়ে রুটি বাদ দিয়েছেন। চিকিৎসকের কথায়, সমস্যা রুটিতে নেই। কেউ যদি পরিমাণ নিয়ন্ত্রিত না রেখে গমের আটার রুটি বেশি সংখ্যায় খান, তা হলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তেই পারে। কিন্তু তা বলে রুটি বাদ দিয়ে অন্য খাবার খেলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে, তা নয়।
তা হলে কী ভাবে খেতে হবে রুটি?
বিভিন্ন রকম রুটির বিভিন্ন রকম পুষ্টিগুণ। এক এক ধরনের রুটি এক এক সমস্যার জন্য বেছে নেওয়া দরকার। চিকিৎসক বলছেন, ‘‘ গমের আটার রুটি ওজন বৃদ্ধি করতে পারে বেশি খেলে, বদলে জোয়ার অথবা বাজরার আটার রুটি বেছে নেওয়া যায়। এতে ফাইবার বেশি বলে শর্করা বশে থাকে। তা ছাড়া, এতে ক্যালোরির মাত্রা কম। তা ছাড়া, ফাইবার বেশি বলে দ্রুত পেটও ভরে যায়।’’
আবার যাঁদের হাড়ের সমস্যা, বয়সের সঙ্গে হাড় দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, তাঁরা বেছে নিতে পারেন রাগি। এতে রয়েছে ক্যালশিয়াম, আয়রন, যা হাড় মজবুত করতে, রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। আবার এতে বেসন জুড়লে প্রোটিনের মাত্রা বাড়বে, তাতে পেশি সবল হবে। আবার ওট্স গুঁড়িয়ে তা আটার মতো মেখে রুটি বানিয়ে খেলে পেট যেমন ভাল থাকবে, ভাল থাকবে হার্টের স্বাস্থ্যও।
তাই রুটি নয়, শুধু শরীরের সমস্যা অনুযায়ী তার উপাদান বদলে ফেলার পরামর্শ চিকিৎসকের। বরং দিনের শেষে রুটিতেই তৃপ্তি খুঁজতে পারেন যে কেউ।