ঘুম থেকে উঠে এক কাপ কফিতে চুমুক না দিলে অনেকের সকালটা ঠিক ভাবে শুরু হয় না! প্রাতরাশ না করেই কফিতে চুমুক দেওয়ার অভ্যাস কিন্তু মোটেই ভাল নয়। খালি পেটে কফি খেলেই হজমশক্তির দফারফা হতে পারে। শুধু তা-ই নয়, পাচনক্রিয়া এবং পেট পরিষ্কার হওয়ার গোটা কাঠামোটাই এলোমেলো হয়ে যেতে পারে এই অভ্যাসের কারণে। দেখা দিতে পারে ‘ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোম’ বা ‘আইবিএস’। তবে অনেকেই বলতে পারেন সকালে কফি খেলে তাঁদের পেটের সমস্যা হয় না। হতেই পারে, কারণ সকলের শরীরে সমান প্রভাব পড়বে, এমন নয়। তবে সকালের কফি যে হাড়েরও ক্ষতি করছে, তা অনেকেরই জানা নেই।
সকালে উঠেই কফিতে চুমুক দিলে স্নায়ুতন্ত্র উজ্জীবিত হয়, ক্ষণিকের জন্য অ্যাড্রিনালিন ও কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনগুলির ক্ষরণ বেড়ে যায়। শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই অভ্যাসের কারণে হাড়ের সমস্যা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা বেড়ে যেতে পারে। যাঁদের শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যা আছে, ডিহাইড্রেশনের সমস্যা আছে, ঘুম হয় না, শরীরে প্রি-আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে, তাঁদের ক্ষেত্রে সকালে কফি খাওয়া মোটেই ভাল অভ্যাস নয়। এ ক্ষেত্রে হাত, হাঁটু এবং গোড়ালির অস্থিসন্ধিগুলিতে তীব্র যন্ত্রণা হতে পারে, এর পাশাপাশি পেশির যন্ত্রণাও বেড়ে যায়। সারা রাত শরীরে জল না যাওয়ার কারণে এমনিতেই শরীর ডিহাইড্রেশনের পর্যায়ে থাকে, তার উপর খালি পেটে কফি খেয়ে নিলে শরীরে জলের ঘাটতি আরও বেড়ে যায়। অস্থিসন্ধিতে জলের অভাবে যন্ত্রণার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসকদের মতে, কফি খাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তবে সকালে আগে জল এবং জলখাবার খেয়ে তার পরেই কফি খাওয়া শ্রেয়। বাতের ব্যথা বৃদ্ধি করতে না চাইলে দুধ-চিনি ছাড়া কফিই ভাল। এ ছাড়া সারা দিনে কত কাপ কফি খাচ্ছেন, সেটাও নজরে রাখা জরুরি। অতিরিক্ত মাত্রায় ক্যাফিন প্রবেশ করলে শরীরে ক্যালশিয়ামের শোষণ কমে যায়। তাই পরবর্তী ক্ষেত্রে হাড়জনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।