আলু বেশি খেতে বারণই করেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে ভাজা আলু বা চিপ্স বেশি না খাওয়াই ভাল। কিন্তু ছোটরা আলুর চিপ্স খেতেই বেশি পছন্দ করে। সে দোকান থেকে কো হোক বা বাড়িতে বানানো। বাইরে বেরোলে চিপ্স কিনে দেওয়ার বায়না করে। আলুর চিপ্স খাওয়ার অভ্যাস যদি কাটাতে না পারেন, তা হলে নানা রকম সব্জি দিয়ে বাড়িতেই বানিয়ে দিন স্বাস্থ্যকর চিপ্স। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি। গাজর, কাঁচকলা এমনকি পালং শাক দিয়েও কিন্তু চিপ্স বানানো যায়। সেগুলি পুষ্টিকর এবং খেলে ক্যালোরিও বাড়বে না। ইদানীংকালে কলার চিপ্স বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। ডায়েট করছেন যাঁরা, তাঁরা এমন চিপ্স কিনে খাচ্ছেন। তবে যদি এই ধরনের চিপ্স বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায়, তা হলে তার উপকার হবে বেশি।
ছোটদের কেমন চিপ্স বানিয়ে দিতে পারেন?
গাজরের চিপ্স
গাজর খোসা ছাড়িয়ে পাতলা গোল গোল করে কেটে ধুয়ে নিন। এ বার টুকরোগুলিতে নুন, গোলমরিচের গুঁড়ো, চিলি ফ্লেক্স, অরিগ্যানো মাখিয়ে কিছু ক্ষণ রেখে দিন। অভেন ২১০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় প্রি-হিট করে নিন। এ বার বেকিং ট্রে-তে পার্চমেন্ট পেপার বিছিয়ে মশলা মাখানো গাজরের টুকরোগুলি ছড়িয়ে দিন। ৮-১০ মিনিট মুচমুচে না হওয়া অবধি বেক করুন। কড়ায় সামান্য তেল দিয়ে বা শুকনো তাওয়ায় কম আঁচে ভেজেও নিতে পারেন।
আপেলের চিপ্স
নোনতার বদলে মিষ্টি স্বাদের চিপ্স ছোটদের খুব পছন্দ হবে। আপেল খোসা ছাড়িয়ে পাতলা গোল গোল করে কেটে নিন। তাতে নুন ও সামান্য দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে রেখে দিন। অভেন কম তাপে ১০০-১২০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে প্রি-হিট করে আপেলের টুকরোগুলি ভাল করে বেক করে নিন। বাড়িতে ডায়াবিটিসের রোগী থাকলে তিনিও খেতে পারেন এই চিপ্স।
আরও পড়ুন:
মুচমুচে পালং চিপ্স
পালং শাক দিয়ে তৈরি চিপ্স অভেনে বেক করেও বানানো যায় আবার কড়ায় অল্প তেলে মুচমুচে করে ভাজাও যায়। আয়রন ও ক্যালশিয়ামে ভরপুর এই চিপ্স ছোটরা বেশ পছন্দ করবে। এটি তৈরি করতে পালং শাকের পাতাগুলি ধুয়ে শুকিয়ে নিয়ে তাতে অলিভ অয়েল, নুন এবং গোলমরিচের গুঁড়ো মাখিয়ে রেখে দিন। চাইলে রসুনের পাউডার মেশাতে পারেন। অভেন ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে প্রি-হিট করে প্রায় ১ ঘণ্টা বেক করতে হবে। কড়াতে ভেজেও করতে পারেন।
বিটের চিপ্স
বিট গোল গোল করে কেটে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এতে নুন, গোলমরিচের গুঁড়ো, লেবুর রস ও সামান্য তিল ছড়িয়ে আরও এক ঘণ্টা মতো রেখে দিন। অভেন ২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে প্রি-হিট করে বিটের টুকরোগুলি প্রায় ২০ মিনিট মতো বেক করে নিলেই হবে। তাওয়া গরম করে তাতেও ভেজে নিতে পারেন যত ক্ষণ না মুচমুচে হয়। আয়রন, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে ভরপুর বিট আলুর চেয়ে অনেক বেশি উপকারী।