প্রেম দিবসের উদ্যাপন সকলের ক্ষেত্রে একরকম নয়। রোম্যান্টিক কোনও ডিনার ডেট বা পছন্দের উপহারের আদান-প্রদান ছাড়াও দিনটিকে অন্য ভাবে কাটাতে চান অনেকে। একসঙ্গে সুন্দর কিছু মুহূর্ত কাটানো অথবা ম্লান হয়ে যাওয়া সম্পর্ককে যদি আরও নিবিড় বাঁধনে বাঁধতে হয়, তা হলে একটি উপায় আছে। সেটি হল যুগল যোগাসন। প্রশিক্ষকেরা বলেন ‘পার্টনার যোগ’ বা ‘কাপল যোগ’। হাতে হাত রেখে একসঙ্গে যোগাসনের কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। শারীরিক সুস্থতা তো বটেই, মানসিক চাপ বা উদ্বেগও কমে যায় এমন আসন করলে।
যুগল যোগাসনে পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। ভরসার জায়গাটি আরও নিবিড় হয়। গবেষণা বলছে, যুগলে একসঙ্গে যোগাসন করলে স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ অনেক কমে যায়। শরীর ও মন অনেক বেশি সতেজ হয়ে ওঠে। তবে যোগাসন করার অভ্যাস যদি না থাকে, তা হলে সহজ কিছু পদ্ধতি দিয়ে শুরু করা যায়। যুগল যোগাসনের নানা রকম পদ্ধতি আছে। সহজ আসন দিয়েই শুরু করা যাক।
ব্যাক-টু-ব্যাক ব্রিদিং
শুরু করুন এই আসনটি দিয়ে। মেঝেতে ম্যাট পেতে দু’জনে পরস্পরের পিঠ ঠেকিয়ে বসুন। সুখাসন বা যে কোনও আরামদায়ক ভঙ্গিতে বসতে পারেন। দু’হাত রাখুন হাঁটুর উপরে। পিঠ সোজা এবং পরস্পরকে স্পর্শ করে থাকবে। এ বার দু’জনেই লম্বা করে শ্বাস টানুন, কিছু ক্ষণ ধরে রেখে ছেড়ে দিন। এই শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার সময়টা একই সঙ্গে করতে পারলে ভাল হয়। এই ভাবে ৫-১০ মিনিট আসনটি করুন। এই আসনটি মনঃসংযোগ বৃদ্ধি করবে, মানসিক চাপ কমাবে।
যুগল যোগাসনের উপকারিতা অনেক। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
আরও পড়ুন:
পার্টনার সিটেড টুইস্ট
পিঠ ঠেকিয়ে ওই ভাবেই বসে থাকুন। এ বার আপনার ডান হাত দিয়ে সঙ্গীর বাঁ হাঁটু বা হাত ধরুন। নিজের বাঁ হাতটি রাখুন নিজের ডান হাঁটুর উপরে। সঙ্গীও ঠিক উল্টোটাই করবেন। এতে দু’জনেরই শরীরের উপরের ভাগ হালকা ঘুরে যাবে অর্থাৎ, টুইস্ট হবে। দু’জনেই হাত বদলে আবারও আসনটি করুন। এই যোগাসন কোমর-পিঠের ব্যথা কমাবে, হজমশক্তি বৃদ্ধি করবে।
টেম্পল পোজ়
দু’জনে মুখোমুখি দাঁড়ান। দুই হাত সামনে প্রসারিত করে পরস্পরের হাত ধরুন বা হাতের তালু স্পর্শ করুন। দুই পায়ের মধ্যে ব্য়বধান রেখে দাঁড়ান। এ বার ওই ভঙ্গিতেই সামনের দিকে ঝুঁকুন। আপনাদের হাত এবং পিঠ অনেকটা ত্রিভুজের মতো আকার নেবে। কাঁধ, বুক এবং পিঠের পেশির সক্রিয়তা বাড়বে আসনটি করলে।