বাংলাদেশে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলল প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী (‘জামাত’ নামে যা পরিচিত)। সংগঠনের আমির (প্রধান) শফিকুর রহমান সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলির কাছে হিংসা থামানোর আবেদন জানানোর পাশাপাশি ‘নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু’ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করার আবেদন জানিয়েছেন।
হিংসার জন্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি-র দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে শফিকুর ওই পোস্টে লিখেছেন, ‘‘জামায়াত, ১১–দলীয় জোটের সমর্থক, স্বতন্ত্র (নির্দল) প্রার্থী ও বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে এসব সহিংসতা ঘটছে।’’ সেই সঙ্গে ‘জুলাই বিপ্লব এখনও জীবিত’ বলে দাবি করে জামাত প্রধানের মন্তব্য, ‘‘দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। আবারও ভয়–ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।’’ ভোট পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জামাতের নির্বাচিত সংসদ সদস্য, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন শফিকুর। সেই সঙ্গে বিভিন্ন জেলায় ভোটের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষের কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তুলে ধরেছেন।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে এ বার ৬৮টিতে জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছে জামাত। তার তিন সহযোগী দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), খেলাফত মজলিস এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জিতেছে যথাক্রমে ছয়, দুই এবং একটি কেন্দ্রে। এর আগে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৮টি আসনে জিতেছিলেন দাঁড়িপাল্লার (জামাতের নির্বাচনী প্রতীক) প্রার্থীরা। এ বার প্রায় তার চারগুণ আসন গিয়েছে শফিকুরের দলের ঝুলিতে। ভোটের পরে আসনওয়াড়ি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অন্তত তিন ডজন কেন্দ্রে জয়ী বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে কড়া টক্কর দিয়েছে এই জোট। জয়ী-পরাজিতের ভোটের ব্যবধান সেখানে পাঁচ হাজারেরও কম! ভোটের পরে বেশ কয়েকটি জেলায় বিএনপি এবং জামাতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষের খবর এসেছে।