Advertisement
E-Paper

ফুচকা থেকে দই চাটেই অরুচি কাটছে গরমে? বিপদ লুকিয়ে স্বাদের মোড়কেই, ভয় কোথায়

গরম পড়লেই বাড়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি। গিরিডিতে ফুচকা এবং চাট খেয়ে বিষক্রিয়ার জেরে এক জনের মৃত্যুও হয়েছে। এই সময় কোন খাবার খাবেন, বাদ দেবেন কোনটি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪২
ফুচকা, চাট থেকে বিষক্রিয়া! এই গরমে সতর্ক হওয়া কেন জরুরি?

ফুচকা, চাট থেকে বিষক্রিয়া! এই গরমে সতর্ক হওয়া কেন জরুরি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বিকেল হলেই মন ছটফট করে মুখরোচক কিছু খাওয়ার জন্য। ফুচকা কিংবা দই চাট দেখলেই জল আসে জিভে? না কি গরমে স্বাস্থ্য রাখতে বেছে নেন লস্যি কিংবা ছাস? সতর্ক না হলে বিপদ কিন্তু হতে পারে রাস্তার এমন নানা খাবারেই।

রবিবার ঝাড়খণ্ডের গিরিডিতে এমন এক ঘটনা ঘটেছে। একটি নির্দিষ্ট স্টল থেকে ফুচকা এবং চাট খাওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন অন্তত ১৮ জন। মৃত্যু হয়েছে এক বালকেরও। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, খাদ্যে বিষক্রিয়ার জেরেই এই ঘটনা।

চিকিৎসক সুবর্ণ গোস্বামী জানাচ্ছেন, সঠিক ভাবে সংরক্ষণ করা না হলে, প্রবল গরমে টক দই থেকে ফুচকা বা চাট তৈরির আনুষঙ্গিক উপকরণ দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার উপরে ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাকের বাড়বৃদ্ধি হয় দ্রুত। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রির উপরে উঠলে, খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

গরমের দিনে ছাস, লস্যি, ঘোল, দই-চিঁড়ে পেট ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সেই কারণে, অফিসপাড়া বা রাস্তার ধারে দইয়ের স্টলগুলিতে এই সময়ে ভিড়ও বেড়ে যায়। তবে কোন পাত্রে টক দই জমানো হচ্ছে, দিনভর রাস্তার ধারে তা রোদে কী ভাবে রাখা হচ্ছে, কোন ধরনের বরফ ব্যবহার হচ্ছে, তার উপরে নির্ভর করে খাবারটি কতটা স্বাস্থ্যকর থাকবে। চিকিৎসক বার বার মনে করাচ্ছেন, রাস্তার ধারের খাবারের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা খুব জরুরি। তা ছাড়া, কী ভাবে দই রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

সুবর্ণের কথায়, ‘‘চিকিৎসক হিসাবে আমরা সব সময়েই পরামর্শ দিই ঘরে তৈরি টক দই, ছাস, লস্যি খাওয়ার।’’

দই দ্রুত নষ্ট হয়, কিন্তু টক জল দেওয়া ফুচকা খাওয়াও কি গরমকালে ঝুঁকির হতে পারে? চিকিৎসকের কথায়, সেদ্ধ আলু, আগে থেকে কেটে রাখা পেঁয়াজ, ধনেপাতা বা দীর্ঘ ক্ষণ রাস্তার ধারে গরমে পড়ে থাকা সেদ্ধ ছোলা-মটর, সবই ঠিক ভাবে না রাখলে সংক্রমিত হতে পারে। কিছু ভাইরাস ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক রয়েছে যারা গরমেই দ্রুত বাড়ে। সেই ধরনের ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাকের বাড়বাড়ন্ত হতে পারে এই ধরনের খাবারে। সংক্রমিত খাবার খেলে খাদ্যে বিষক্রিয়া হওয়াটা স্বাভাবিক।

কিন্তু বিষক্রিয়া থেকে মৃত্যু! সুবর্ণ সতর্ক করছেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়টি মোটেও লঘু ভাবে নেওয়া ঠিক নয়। এই ধরনের খাবার খাওয়ার পরেই উপসর্গ দেখা যায় না। অসুস্থতার লক্ষণ কখনও ৪-৫ ঘণ্টা কখনও ৮-১০ ঘণ্টা পরেও দেখা যায়। ব্যাক্টেরিয়া কার শরীরে, কী ভাবে ছড়াচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়া হলে পেটব্যথা, বমি, আন্ত্রিকের মতোই উপসর্গ দেখা দেয়। সময়ে চিকিৎসা না করালে, তা ক্ষেত্রবিশেষে প্রাণঘাতী হতেই পারে।

চিকিৎসকের পরামর্শ

· প্রবল গরমে রাস্তার ধারের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা দরকার।

· ফোটানো বা সেদ্ধ খাবার তুলনামূলক ভাবে কম বিপজ্জনক।

· রাস্তায় বেরোলে পানীয় জল সঙ্গে নেওয়া জরুরি।

· অপরিচ্ছন্ন জায়গা থেকে খাবার না খাওয়াই ভাল।

· বমি, পেটব্যথা বা অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি।

· বমি, আন্ত্রিক শুরু হলে রোগীকে দ্রুত ওআরএস অথবা নুন-চিনির জল খাওয়াতে হবে।

Food Poisoning
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy