দীর্ঘ ক্ষণ ল্যাপটপের সামনে কাজ! চোখ জ্বালা করলেই ওষুধের দোকান থেকে আই ড্রপ কিনে এনে চোখে লাগান। বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে এই সামান্য বিষয়েই। চোখ লাল হওয়া বা চোখ দিয়ে জল পড়া— এমন ছোটখাটো উপসর্গে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে, চোখের ড্রপ কিনে নেওয়ার প্রবণতা থাকে অনেকেরই। চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, আই ড্রপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে চোখের ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চোখ লাল হওয়া, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালা করা, চোখে ব্যথা— যে কোনও সমস্যার সমাধান হয় চোখের ড্রপে। তবে সব চোখের ড্রপের কাজ কিন্তু এক নয়। কিছু ড্রপ চোখে কৃত্রিম জল জোগাতে সাহায্য করে, যাতে চোখ জ্বালা না করে বা শুকিয়ে না যায়। এ ছাড়াও অ্যালার্জি, চোখে ব্যথা— এক এক সমস্যার জন্য এক এক ধরনের আই ড্রপ হয়।
বিপদ কোথায়?
১। চোখে ড্রপ দিলে চোখ লাল হওয়া বা ফোলা ভাব কমে। তবে তা সাময়িকও হতে পারে। কিছু কিছু ড্রপ শুধু উপসর্গ কমায়। সমস্যার গভীরে না গেলে সমাধান সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে দু’দিন অন্তর একই সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কেন চোখ লাল হচ্ছে, তার সমাধান খোঁজা উচিত। প্রয়োজন উপযুক্ত চিকিৎসার।
আরও পড়ুন:
২। চোখে ব্যথা বা চোখ ফুলে গিয়েছে দেখে মোটামুটি ধারণা করে চোখে ড্রপ দিয়ে দেন অনেকেই। কিন্তু যদি ভুল হয়? ভুল ওষুধ শরীরের পক্ষে যতটা বিপজ্জনক, চোখের জন্যও তাই।
৩। ডায়াবিটিস, কর্নিয়া বা রেটিনার সমস্যায় চোখ লাল হলে বা চোখে জল কাটলে সঠিক ওষুধ বাছাই করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। চোখে জল জোগানোর বা ব্যথা কমানোর আই ড্রপ এমন সময় নিজের বিবেচনায় কিনে ব্যবহার করলে বিপদ হতে পারে। কারণ, এই ধরনের চোখের সমস্যায় একটু-ওদিক হলে দৃষ্টিশক্তি ব্যাত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
৪। আই ড্রপের গায়ে ব্যবহারবিধি লেখা থাকে। কিন্তু অনেকেই তা মানেন না। চোখে ড্রপ ব্যবহারের সময় সাবান দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি। আই ড্রপের সিল এক বার খোলা হলে কত দিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে, তা নির্দেশিকায় লেখা থাকে। সেই নিয়ম না মানলেও হিতে বিপরীত হতে পারে।