স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ অনেকেই এখন আর পাউরুটি খান না। কারণ, পাউরুটি মানেই তাতে তো ‘ময়দার পাহাড়’। এমনকি, বাজার চলতি তথাকথিত হোল গ্রেন, মাল্টি গ্রেন, ব্রাউন ব্রেড কিনেও লাভ নেই কোনও। কারণ সেই সব প্যাকেটের অধিকাংশেরই লেবেলে স্পষ্ট করে লেখা থাকে, দানাশস্য বা আটার পরিমাণ বড় জোর ৩০ শতাংশ। বাকিটা সেই ময়দা! তবে স্বাস্থ্যকর পাউরুটিও আছে। পুষ্টিবিদদের মতে, সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর পাউরুটি হল সাওয়ারডো ব্রেড। এই পাউরুটি পেটের জন্য যেমন ভাল, তেমনই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
কেন সাধারণ পাউরুটি ছেড়ে সাওয়ারডো ব্রেড খাবেন?
১) সাওয়ারডো এখনও সাবেকি পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মজিয়ে এই রুটি তৈরি করা হয়। কখনও কখনও ১ দিন ধরেও ফারমেন্টেড বা গেঁজানো হয়। এর ফলে গ্লুটেন, কার্বোহাইড্রেট এবং অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টগুলি ভেঙে যায়। অন্যান্য পাউরুটি সাধারণত তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা হয়, সেখানে সাওয়ারডো ধৈর্য ধরে তৈরি করা হয়, যা স্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
২) সাওয়ারডোর মজানোর প্রক্রিয়ার সময় উৎসেচকগুলি গ্লুটেন ও জটিল শর্করার বেশির ভাগ অংশ ভেঙে ফেলে। অনেকের সাধারণ পাউরুটি হজমে সমস্যা হয়। তবে সাওয়ারডো খেলে পেট ফাঁপা, ভারী ভাব বা পেটের সমস্যা খুব একটা হয় না।
৩) সাধারণত পাউরুটিতে ফাইটিক অ্যাসিড থাকে, যা আয়রন, জিঙ্ক ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ পদার্থ শোষণে বাধা দেয়। তবে, সাওয়ারডো তৈরির প্রক্রিয়ায় ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়, ফলে শরীর থেকে তা বের করে দেওয়ার পরিবর্তে শরীর তা শোষণ ও ব্যবহার করতে পারে।
৪) সাধারণ পাউরুটির তুলনায় সাওয়ারডোর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধীরে ধীরে ও স্থির ভাবে শক্তি সরবরাহ করে, যা বিপাকীয় স্বাস্থ্য রক্ষা ও ইনসুলিন সংবেদনশীলতার জন্য বেশি সহায়ক।
৫) দীর্ঘ ক্ষণের মজিয়ে সাওয়ারডো তৈরির সময় বেশি মাত্রায় প্রিবায়োটিক তৈরি হয়। এগুলি হল এক ধরনের ফাইবার, যা আপনার মাইক্রোবায়োমের উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে পুষ্টি জোগায়। ফলে, সাওয়ারডো খেলে হজমশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং এমনকি মেজাজও ভাল থাকে।